বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পদোন্নতি সংক্রান্ত সিন্ডিকেটের জরুরি সভার সিদ্ধান্ত এবং ওই সিদ্ধান্তের আলোকে জারি করা সংশোধিত পদোন্নতি সার্কুলারের কার্যকারিতা দুই মাসের জন্য স্থগিত করেছেন। একই সাথে এসব সিদ্ধান্ত ও সার্কুলার কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত এবং আইনগত কার্যকারিতাহীন ঘোষণা করা হবে না—তা জানতে চেয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রতি রুল জারি করা হয়েছে।
গত ৬ মে বিচারপতি রাজিক-আল-জলিল এবং বিচারপতি বেদাশিস রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালত সূত্র ও রিট আবেদনের নথি অনুযায়ী, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী রেজিস্ট্রার মো: আমির হোসেনসহ তিন কর্মকর্তা রিট পিটিশন নম্বর-৫২২১/২০২৬ দায়ের করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের জরুরি সভার সিদ্ধান্ত এবং ওই সভার আলোকে জারি করা পদোন্নতি সংক্রান্ত সংশোধিত সার্কুলারকে চ্যালেঞ্জ করেন।
রিটকারীদের অভিযোগ, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ২০০৩-০৪ সালে নিয়োগপ্রাপ্ত এবং পরে দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের ২৭ মে ২০২৫ সালের রায়ের মাধ্যমে পুনর্বহাল হওয়া ৯৮৮ কর্মকর্তা-কর্মচারীর জ্যেষ্ঠতা ও আনুষঙ্গিক পদোন্নতি নিশ্চিত করার পরিবর্তে নতুন করে চাকরি সংবিধি (সংবিধি-৬) সংশোধনের উদ্যোগ নেয়।
রিটে বলা হয়, ২৪ ফেব্রুয়ারি জারি করা সিন্ডিকেট সভার নোটিশে পুনর্বহাল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দ্বিতীয় পদোন্নতির বিষয়টি আলোচ্যসূচিতে থাকলেও ২৬ ফেব্রুয়ারির সভায় সেটি বিবেচনা না করে পদোন্নতির যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার শর্ত পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, যা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ১৯৯২-এর ৪৫ ধারার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
রিটকারীরা আরো অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রথমে পুনর্বহাল কর্মকর্তাদের জ্যেষ্ঠতা সংরক্ষণ করে ২০০৭ সালের চাকরি সংবিধি অনুযায়ী পদোন্নতির আশ্বাস দিয়ে মার্চ মাসে পৃথক সাক্ষাৎকার নেয়। কিন্তু পরে সেই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে একই পদে সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য উন্মুক্ত প্রতিযোগিতামূলক পদোন্নতি সার্কুলার জারি করা হয়, যেখানে রিটকারীদের তুলনায় ১২ থেকে ১৬ বছর পরে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তারাও আবেদন করার সুযোগ পান।
আদালত প্রাথমিক শুনানি শেষে রুল জারি করে ২৬ ফেব্রুয়ারির সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত এবং ওই সভার ভিত্তিতে জারি করা সংশোধিত পদোন্নতি সার্কুলারের কার্যকারিতা দুই মাসের জন্য স্থগিত করেন।
রিটকারীদের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার আসিফ বিন আনোয়ার। পরে ৭ মে আইনজীবীর সনদ ও আদালতের আদেশের অনুলিপি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯৮৮ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত করার পূর্ববর্তী সিদ্ধান্ত বাতিল করে ২০২৫ সালের ২৭ মে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ তাদের চাকরিতে পুনর্বহালের নির্দেশ দেন এবং জ্যেষ্ঠতা অক্ষুণ্ন রাখার আদেশ দেন। বর্তমান রিটটি ওই রায়ের বাস্তবায়ন ঘিরে সৃষ্ট নতুন প্রশাসনিক জটিলতাকে কেন্দ্র করে দায়ের করা হয়।



