মদন (নেত্রকোনা) সংবাদদাতা
নেত্রকোনার মদন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সিনিয়র স্টাফ নার্স মারুফা আক্তারের ডান পায়ের রগ ও হাতের কব্জি কেটে দেয়ার অভিযোগে তার স্বামী আরিফুল ইসলামকে আটক করেছে পুলিশ।
গুরুতর আহত মারুফা আক্তারকে প্রথমে মদন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয় এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সকালে মদন উপজেলার বাড়ি ভাদেরা রোডে ভুক্তভোগীর বাসায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী মারুফা আক্তার গত ৩০ সেপ্টেম্বর তারিখে মদন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদান করেন। তার স্বামী ঢাকায় একটি বেসরকারি ক্লিনিকে কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার হিসেবে কর্মরত আছেন। তাদের আট বছরের একটি কন্যাসন্তানও রয়েছে। আরিফুল ইসলামের বাড়ি টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় এবং মারুফা আক্তারের বাড়ি নেত্রকোনার সদর উপজেলার মদনপুর এলাকায়।
স্থানীয়রা জানায়, স্বামী-স্ত্রী পৃথক জায়গায় বসবাস করায় তাদের মাঝে প্রায় সময় পারিবারিক কলহ লেগে থাকত।
মারুফা আক্তার বলেন, “গতকাল সন্ধ্যায় হাসপাতালের নার্সিং সুপারভাইজার অসিমা আমার বিরুদ্ধে আমার স্বামীর কাছে মিথ্যা বিষোদগার করে ক্ষোভ তৈরি করে। পরে সুপারভাইজার অসিমা আমাকে বলে, ‘আমি যা বলেছি যদি তুমি আমার স্যারকে জানাও তাহলে তোমার স্বামীর বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা দায়ের করব।’ অসিমার এসব কথা আমার ফোনে রেকর্ড করা আছে। তার এমন কথাবার্তায় আমার স্বামী মানসিক বিকারগ্রস্ত হয়ে পড়েছে।”
তিনি আরো বলেন, ‘আমি আজকে নাইট ডিউটি করে বাসায় যাই। পরে আমার স্বামীকে বলি, তুমি এখন ঢাকায় চলে যাও, দুই মাস পরে বাসায় এসো। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে সে আমার হাতে ও পায়ে ছুরিকাঘাত করে। এতে আমার ডান পায়ের রগ ও হাতের কব্জি কেটে যায়।’
আটকের আগে অভিযুক্ত আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের স্বামী-স্ত্রীর মাঝে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক কলহ চলে আসছে। মারুফা আমার কোনো কথা মানতে না চাওয়ায় এ ঘটনা ঘটেছে।’
এ ব্যাপারে নার্সিং সুপার ভাইজার অসিমা বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না।’
এ ব্যাপারে ভারপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নূরুল হুদা খান বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে তদন্ত করব। নার্সিং সুপারভাইজার অসিমার বিষয়েও তদন্ত করব। ভুক্তভোগী অভিযোগ করলে আমরা তার সাথে আছি।’
মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসনাত জামান বলেন, ‘অভিযুক্ত আরিফুল ইসলামকে আটক করা হয়েছে। এ ব্যাপারে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্তসাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’



