সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা
চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় আধিপত্য বিস্তার ও মোবাইল ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে দু’দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ৩ জনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার পুরানগড় ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড ফকিরখীল গ্রামের কুমারপাড়া এবং ৬ নম্বর ওয়ার্ড ধলির গোপাট এলাকায় পৃথকভাবে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন বিএনপি নেতা জসিম উদ্দিন (৫২), যুবদল নেতা মোহাম্মদ টিপু (৩৫), মোহাম্মদ সাকিব (২৮), মোহাম্মদ আলম (৪০) ও রবিউল ইসলাম (৩০)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পুরানগড় ইউনিয়ন বিএনপি নেতা জসিম উদ্দিন ও মোহাম্মদ সাকিবের মধ্যে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। সম্প্রতি এক নারী সংক্রান্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাকিবসহ কয়েকজন এক যুবকের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি জসিমকে জানানো হলে তিনি ভুক্তভোগীকে থানায় অভিযোগ করার পরামর্শ দেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে।
মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে জসিমের সমর্থক হারুন, ইদ্রিস, মাঈনুদ্দিন, রিয়াদ ও রাজিবসহ কয়েকজন ছিনিয়ে নেয়া মোবাইল উদ্ধারের জন্য কুমারপাড়ায় গেলে সাকিবের সমর্থকরা তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রথম দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
পরে বিষয়টি জসিমকে জানানো হলে তিনি যুবদল নেতা টিপুসহ কয়েকজনকে নিয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশাযোগে ঘটনাস্থলে গেলে আবারো সংঘর্ষ বাধে। এতে জসিম ও সাকিবসহ কয়েকজন আহত হন।
স্থানীয়রা জানান, আহত জসিম ও টিপুসহ কয়েকজন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাওয়ার পথে ধলির গোপাট এলাকায় পৌঁছালে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা তারেকের নেতৃত্বে ১৫-২০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অটোরিকশার গতিরোধ করে। এ সময় দ্বিতীয় দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে এবং দুটি অটোরিকশা ভাঙচুর করা হয়। এতে জসিম ও টিপু গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে নতুনহাট হয়ে নৌকাযোগে সাঙ্গু নদী পার করে চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারী হয়ে সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অপরদিকে সাকিব, আলমসহ অন্য আহতদের একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে কেরানীহাটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে উভয় পক্ষের আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে তারা সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ঘটনায় আহত জসিম উদ্দিন চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি কামরুল হাসান তালুকদারের ইন্ধনের অভিযোগ করেন। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে কামরুল হাসান তালুকদার বলেন, তিনি বর্তমানে চট্টগ্রাম নগরীতে অবস্থান করছেন এবং স্থানীয়দের মাধ্যমে ঘটনার বিষয়ে জেনেছেন। তিনি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
অন্যদিকে সাকিব এ ঘটনার জন্য জসিম উদ্দিনকে দায়ী করেছেন।
সাতকানিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মঞ্জুরুল হক জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।



