কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে বাস ও পিকআপ ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে আব্দুল কাদির বাবুল (৫০) নামে এক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। একই ঘটনায় আহত পিকআপচালক সুমনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
শুক্রবার (২২ মে) দুপুরে উপজেলার বাজরা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত আব্দুল কাদির বাবুল ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার সিংরুল ইউনিয়নের পূর্ব নদীর পাড় গ্রামের মরহুম আব্দুল হামিদের ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি পরিবারসহ ঢাকায় বসবাস করছিলেন। বনানী এলাকায় তার নিজস্ব তেলের মিল, মুদি দোকানসহ একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। পাশাপাশি তিনি জাতীয়তাবাদী তাঁতী দল বনানী থানার আহ্বায়ক হিসেবে সক্রিয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত ছিলেন।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকালে নিজের তেলের মিলের জন্য সরিষা কিনতে গাজীপুরের মাওনা থেকে একটি পিকআপ ভ্যানে করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উদ্দেশে রওনা দেন কাদির বাবুল। দুপুরে কুলিয়ারচর উপজেলার বাজরা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছালে পিকআপটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি যাত্রীবাহী বাসের সামনে চলে আসে। পরে বাসটি পিকআপের ইঞ্জিনের অংশে সজোরে ধাক্কা দিলে সেটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়।
দুর্ঘটনায় পিকআপে থাকা আব্দুল কাদির বাবুল ও চালক সুমন গুরুতর আহত হন। স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাদের উদ্ধার করে নিকটস্থ ভাগলপুর জহুরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। ঢাকায় নেয়ার পথে আব্দুল কাদির বাবুল মারা যান। আহত চালক সুমনকে উন্নত চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে এবং তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
এদিকে কাদির বাবুলের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে নান্দাইলের নিজ গ্রাম পূর্ব নদীর পাড় ও ঢাকার বনানী এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, তিনি একজন মানবিক, সমাজসেবী ও পরোপকারী ব্যক্তি ছিলেন। এলাকার মানুষের যেকোনো বিপদ-আপদে তিনি সবসময় পাশে দাঁড়াতেন। তার মৃত্যুতে এলাকায় গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে।
আব্দুল কাদির বাবুলের মৃত্যুতে জাতীয়তাবাদী তাঁতী দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, বনানী থানা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তারা শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে মরহুমের বিদেহী রূহের মাগফিরাত কামনা করেন।



