সীমান্তে ভারতীয় গরু চোরাচালান শঙ্কায় খামারিদের উদ্বেগ

হালুয়াঘাট উপজেলার খামারি কামরুল হাসান বলেন, ‘গরু পালন করতে এখন অনেক বেশি খরচ হচ্ছে। এই অবস্থায় ভারতীয় গরু অবৈধভাবে বাজারে ঢুকলে দেশী গরুর দাম অর্ধেকে নেমে আসতে পারে। এতে আমরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ব।’

ময়মনসিংহ অফিস

Location :

Mymensingh
সীমান্তে দেশীয় গরুর খামার প্রস্তুতি
সীমান্তে দেশীয় গরুর খামার প্রস্তুতি |সংগৃহীত

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ময়মনসিংহ সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় গরু চোরাচালানের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে দেশীয় খামারিরা উদ্বেগে পড়েছেন।

তাদের অভিযোগ, ঈদকে কেন্দ্র করে সীমান্ত এলাকায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে চোরাচালান চক্র।

খামারিদের দাবি, অবৈধভাবে ভারতীয় গরু দেশের বাজারে প্রবেশ করলে দেশী গরুর দাম কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে করে সারা বছর লালন-পালন করা গরু ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করতে পারবেন না তারা।

সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দারা জানায়, ঈদ যত ঘনিয়ে আসে, ততই বাড়ে অবৈধ পথে গরু প্রবেশের চেষ্টা। দুর্গম সীমান্ত এলাকা ব্যবহার করে চোরাকারবারিরা ভারতীয় গরু এনে দেশের বিভিন্ন পশুর হাটে সরবরাহ করে থাকে।

এদিকে খামারিরা বলছেন, গোখাদ্যের দাম বৃদ্ধি, পশুর ওষুধ ও পরিচর্যা ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় এমনিতেই তারা চাপে রয়েছেন। এর মধ্যে বিদেশী গরু ঢুকলে লোকসানের আশঙ্কা আরো বাড়বে।

হালুয়াঘাট উপজেলার খামারি কামরুল হাসান বলেন, ‘গরু পালন করতে এখন অনেক বেশি খরচ হচ্ছে। এই অবস্থায় ভারতীয় গরু অবৈধভাবে বাজারে ঢুকলে দেশী গরুর দাম অর্ধেকে নেমে আসতে পারে। এতে আমরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ব।’

আরেক খামারি মশিউর রহমান বিশাল বলেন, ‘প্রতি বছর ঈদের আগে চোরাকারবারিরা সক্রিয় হয়ে ওঠে। কম দামে ভারতীয় গরু এনে বিভিন্ন হাটে বিক্রি করা হয়। এতে খামারিরা ক্ষতিগ্রস্ত হন। এবারো একই শঙ্কা তৈরি হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, চোরাচালান বন্ধে বিজিবি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরো কঠোর হতে হবে, নইলে খামারিদের লোকসান এড়ানো সম্ভব হবে না।

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়ন (৩৯) বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নুরুল আজিম বায়েজীদ জানান, ঈদকে সামনে রেখে সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলো চিহ্নিত করে বিশেষ টিম ২৪ ঘণ্টা টহল দিচ্ছে।

ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, গরু চোরাচালান রোধে থানাগুলোকে বিশেষ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। চোরাকারবারিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।

জেলা প্রাণিসম্পদ দফতরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর ময়মনসিংহ জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা প্রায় ১ লাখ ৮১ হাজার। বিপরীতে প্রস্তুত রয়েছে প্রায় ২ লাখ ২৬ হাজার পশু, যা চাহিদার তুলনায় বেশি।