২ পরীক্ষা দুই সিলেবাসে নেয়ায় ৪ পরীক্ষার্থীর ফল নিয়ে অনিশ্চয়তা

দুই দিনে আলাদা আলাদা সিলেবাসের প্রশ্নে পরীক্ষা নেয়ায় আমরা এখন ফলাফলের অনিশ্চয়তায় ভুগছি। এ কারণে অন্য পরীক্ষাগুলোতেও মনোনিবেশ করতে পারছি না।

কাউখালী (পিরোজপুর) সংবাদদাতা

Location :

Kaukhali
দুই পরীক্ষা দুই সিলেবাসে নেয়ায় বিপাকে পরীক্ষার্থী
দুই পরীক্ষা দুই সিলেবাসে নেয়ায় বিপাকে পরীক্ষার্থী |ফাইল ছবি

পিরোজপুরের কাউখালীতে সত্যেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এসএসসি পরীক্ষাকেন্দ্রে কর্তৃপক্ষের ভুলে চারজন পরীক্ষার্থী পরীক্ষার ফল নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছে। এ ঘটনায় কেন্দ্র সচিবকে বরিশাল শিক্ষাবোর্ড সশরীরে উপস্থিত হয়ে কারণ দর্শানোর জন্য বলা হয়েছে।

গত ২১ এপ্রিল বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষা দিতে যায় ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের অনিয়মিত চার শিক্ষার্থী। স্কুলের শিক্ষকদের পরামর্শে তারা ২০২৬ সালের সংক্ষিপ্ত সিলেবাস অনুযায়ী প্রস্তুতি নেয়। তবে, পরীক্ষার হলে তাদের হাতে তুলে দেয়া হয় ২০২৫ সালের পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসের প্রশ্নপত্র।

এ সময় শিক্ষার্থীরা ২০২৬ সালের প্রশ্ন চাইলে কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ জানায়, তোমরা অনিয়মিত শিক্ষার্থী। তাই তোমাদের ২০২৫ সালের সিলেবাসেই পরীক্ষা দিতে হবে। বাধ্য হয়ে পুরনো সিলেবাসে পরীক্ষা দেয় তারা।

২৩ এপ্রিল বাংলা দ্বিতীয়পত্রের পরীক্ষায় ওই চার শিক্ষার্থীকে কেন্দ্রের কর্তৃপক্ষ আবার ২০২৬ সালের সংক্ষিপ্ত সিলেবাসের প্রশ্ন দেয়। একই শিক্ষার্থীর দুই দিনে দুই সিলেবাসে পরীক্ষা নেয়ার ঘটনায় উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা।

ওই চার শিক্ষার্থী হলেন— উপজেলার হোগলা বেতকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের আব্দুর রাহাত, এম ডি মেহেদী হাসান, আবদুর রহমান রাহাদ ও উত্তর নীলতী সমতট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পিয়াঙ্কা হালদার।

এ ঘটনায় কেন্দ্র সচিব ও সত্যেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো: আকতার হোসেন হাওলাদার জানান, ওই শিক্ষার্থীদের বাংলা প্রথমপত্রের পরীক্ষা ২০২৫ সালের পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসে নেয়ার বিষয়টি তিনি জানতেন না। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকরা তাকে বিষয়টি জানাননি। পরে তিনি এটা জানতে পেরে বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের সাথে কথা বলে বাংলা দ্বিতীয়পত্রের পরীক্ষা ২০২৬ সালের সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে নিয়েছেন।

তিনি আরো জানান, বোর্ডের পরীক্ষা পরিচালনা সংক্রান্ত ম্যানুয়ালে স্পষ্ট উল্লেখ আছে, নিয়মিত ও অনিয়মিত উভয়ই ২০২৬ সালের সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে পরীক্ষা দিবে। পরে বরিশাল শিক্ষা বোর্ড এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, অনিয়মিত শিক্ষার্থীরা ২০২৫ সালের সিলেবাসে পরীক্ষা দিবে। এ নিয়ে একটি দ্বিধাদ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়।

ভুক্তভোগী পরীক্ষার্থী প্রিয়াঙ্কা হাওলাদার বলেন, দুই দিনে আলাদা আলাদা সিলেবাসের প্রশ্নে পরীক্ষা নেয়ায় আমরা এখন ফলাফলের অনিশ্চয়তায় ভুগছি। এ কারণে অন্য পরীক্ষাগুলোতেও মনোনিবেশ করতে পারছি না।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী রাহাতের মা রিক্তা বেগম বলেন, দুই দিনে দুই সিলেবাসে পরীক্ষা নেয়ার কারণে আমার ছেলের একটা পরীক্ষাও ভালো হয়নি। এ দায়ভার কে নিবে? আমি ও আমার পরিবার ছেলের পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে চিন্তিত।

কাউখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: আসাদুজ্জামান জানান, বিষয়টি জেনে তিনি তদন্ত করেছেন। ইতোমধ্যে বরিশাল শিক্ষা বোর্ড থেকে কেন্দ্র সচিবকে সশরীরে গিয়ে কারণ দর্শানোর জন্য বলেছে।