দীর্ঘদিনের যানজট ও জনদুর্ভোগ কমাতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গাজীপুর অংশে বাস্তবায়িত বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্প গাজীপুর সিটি করপোরেশনের আওতায় ন্যস্ত হচ্ছে। একই সাথে নগরীর অন্যতম ব্যস্ত জয়দেবপুর রেলগেট এলাকায় ৩১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ফ্লাইওভার নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আগামী মাস থেকেই এ প্রকল্পের নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো: শওকত হোসেন সরকার।
শনিবার গাজীপুর পিটিআই অডিটোরিয়ামে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব তথ্য জানান।
প্রশাসক মো: শওকত হোসেন সরকার বলেন, ‘গাজীপুর মহানগরবাসীর দীর্ঘদিনের যানজট ও ভোগান্তি লাঘবে ঢাকা-গাজীপুর বিআরটি প্রকল্প সিটি করপোরেশনের আওতায় হস্তান্তরের জন্য মন্ত্রণালয়ের প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এর ফলে নগরীর পরিবহন ব্যবস্থাপনায় সিটি করপোরেশনের সরাসরি সম্পৃক্ততা আরও বাড়বে।’
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গাজীপুরকে আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব নগরীতে রূপান্তরের লক্ষ্যে একাধিক মেগা উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো উন্নয়ন, যানজট নিরসন ও নাগরিক সেবার মানোন্নয়নে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।’
জয়দেবপুর রেলগেটের ফ্লাইওভার প্রসঙ্গে প্রশাসক বলেন, ‘নগরীর অন্যতম বড় সমস্যা রেলক্রসিংয়ের যানজট নিরসনে ৩১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হবে। আগামী মাস থেকেই প্রকল্পটির কাজ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’
তিনি জানান, ‘জয়দেবপুর রেলগেট দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৭০ থেকে ৭২ বার ট্রেন চলাচল করে। ফলে প্রতিনিয়ত সৃষ্টি হওয়া দীর্ঘ যানজট থেকে নগরবাসীকে মুক্ত করতে এ প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘নগরীর সৌন্দর্য বৃদ্ধি ও নাগরিক বিনোদনের সুযোগ সম্প্রসারণে ভাওয়াল রাজদীঘি, কাজী আজিমউদ্দিন কলেজ সংলগ্ন দিঘি, গাজীপুর ক্লাবের পূর্ব পাশের পুকুর এবং শিববাড়ি পুকুর আধুনিকায়ন ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ শিগগিরই শুরু হবে।’
এ ছাড়া কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে শিববাড়ি পর্যন্ত সড়কের দক্ষিণ পাশের খালি জায়গায় একটি আধুনিক শিশু পার্ক নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশাসক বলেন, ‘দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানে হাটুভাঙ্গা ও মজলিশপুর এলাকায় প্রায় ১০০ বিঘা জমির ওপর আধুনিক ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। চীনের প্রযুক্তিগত সহযোগিতায় বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন, জৈব সার তৈরি এবং প্লাস্টিক, কাচ ও পলিথিন পুনর্ব্যবহারের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব শিল্প গড়ে তোলা হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘নদী, খাল ও জলাশয় দূষণ রোধে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রণীত নীতিমালার আলোকে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’



