ডিমলা (নীলফামারী) সংবাদদাতা
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় সিজারিয়ান অপারেশনের পর চিকিৎসায় অবহেলায় যুবতী প্রসূতি মোছা: তুলী বেগমের (২৯) মৃত্যুর ঘটনায় দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে প্রশাসন। মেডিনোভা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুর সাড়ে ৩টায় ডিমলা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রওশন কবিরের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত ক্লিনিকে অভিযান চালায়।
অভিযানে ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো: রাশেদুজ্জামান এবং ডিমলা থানা পুলিশ সহযোগিতা করে।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, ক্লিনিকটি পরিচালনায় প্রয়োজনীয় জনবল (চিকিৎসক, নার্স, ওয়ার্ডবয়-আয়া), বৈধ লাইসেন্স এবং সরকার নির্ধারিত মানদণ্ড বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। এ কারণে তাৎক্ষণিকভাবে ক্লিনিকটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রওশন কবির বলেন, ‘ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিচালনায় যেসব মানদণ্ড নির্ধারিত রয়েছে, তা যথাযথভাবে পালন করতে হবে। চিকিৎসাসেবার মান রক্ষায় ভবিষ্যতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’
উল্লেখ্য যে, গত ২২ জুন মেডিনোভা ক্লিনিকে তুলী বেগমের সিজারিয়ান অপারেশন হয়। অপারেশনের পরদিন থেকেই তার পেট ফুলে যেতে শুরু করে এবং অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। পরিবারের সদস্যরা বারবার ক্লিনিক কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানালেও কর্তৃপক্ষ তা ‘স্বাভাবিক’ বলে উড়িয়ে দেয় এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার করতে অস্বীকৃতি জানায়।
অবশেষে ২৫ জুন পরিবার তাকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৯ জুন সকালে তুলী বেগম মারা যান।
দৈনিক নয়া দিগন্ত পত্রিকায় এ ঘটনার খবর প্রকাশের পর প্রশাসন দ্রুত অভিযান চালিয়ে ক্লিনিক বন্ধ ঘোষণা করে।
এ ঘটনায় প্রশাসনের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয়রা। নিহত তুলী বেগমের স্বামী এমদাদুল হকসহ পরিবারের সদস্যরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।



