অ্যাডভোকেট জুবায়ের

ছাত্র-জনতা দেশে আর ফ্যাসিবাদী শাসন প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন পূরণ হতে দিবে না

১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় গিয়ে ফের ফ্যাসিবাদী কায়দায় দেশ পরিচালনা শুরু করেছে। ৭০ শতাংশ মানুষের গণভোটের রায়কে উপেক্ষা করে বিএনপি একদলীয় শাসন ব্যবস্থার পথে হাঁটছে।

এমজেএইচ জামিল, সিলেট ব্যুরো

Location :

Sylhet
গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ
গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ |নয়া দিগন্ত

১১ দলীয় ঐক্যের কেন্দ্রীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেছেন, ‘এদেশে আবারো যদি কেউ ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখেন তাদেরকে অতীতের ফ্যাসিস্টদের পরিণতির ইতিহাস স্মরণে রাখা উচিত। দেশপ্রেমিক ছাত্র-জনতা দেশে আর ফ্যাসিবাদী শাসন প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন পূরণ হতে দিবে না।’

তিনি বলেন, ‘পতিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকতে আইন ও মানবাধিকারকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে মানুষের ভোটাধিকার হরণ করেছে। বিনাভোটে, মধ্যরাতের ভোটে ও ডামি নির্বাচন দিয়ে পুরো রাষ্ট্রযন্ত্রকে নিজেদের করে নিয়েছিল। তাদের শেষ রক্ষা হয়নি। ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শুধু গদি নয়, তাদেরকে দেশ ছেড়ে পালাতে হয়েছে।’

শনিবার (১১ এপ্রিল) বিকেলে নগরীর ঐতিহাসিক কোর্ট পয়েন্টে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে গণভোটের রায় প্রতিষ্ঠার দাবিতে সিলেট মহানগর ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ মিছিল-পরবর্তী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বন্দরবাজার কোর্ট পয়েন্ট থেকে শুরু হয়ে নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে চৌহাট্টা পয়েন্টে গিয়ে শেষ হয়।

অ্যাডভোকেট জুবায়ের বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য শুধু ক্ষমতার পরিবর্তন ছিল না। ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার অবসান ও সংবিধান সংস্কার। ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ রায় প্রমাণ করেছে জনগণ পরির্তন ও সংস্কার চায়। কিন্তু দুই তৃতীয়াংশ ভোটকে পুঁজি করে বিএনপি গণভোটের রায় ও জুলাই সনদকে উপেক্ষা করে ফের ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার ষড়যন্ত্র করছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের রক্তের সাথে বেইমানির ফল ভালো হবে না। দেশপ্রেমিক ছাত্র-জনতা এখনো রাজপথে রয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘সরকার সংসদের কার্যপ্রণালী বিধির অপপ্রয়োগের মাধ্যমে বিরোধীদলের অধিকার খর্ব করছে। সরকার গুম কমিশন, মানবাধিকার কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন ও পুলিশ সংস্কারসহ জনগুরুত্বপূর্ণ প্রায় ২০টি অধ্যাদেশ বাতিল করেছে। বিচার বিভাগকে দলীয়করণের লক্ষ্যে বিচারক নিয়োগের ক্ষমতা নিজেদের হাতে কেন্দ্রীভূত করা হয়েছে। চাঁদাবাজি ও দলীয় সিন্ডিকেট ব্যবস্থার কারণে জ্বালানি তেলসহ বাজারে নিত্যপণের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। যা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরিপন্থী।’

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আব্দুর রহমান আফজলের সভাপতিত্বে ও সিলেট মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি মোহাম্মদ শাহজাহান আলীর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস সিলেট মহানগরের সভাপতি মাওলানা এমরান আলম, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি সিলেট মহানগরের আমির মাওলানা মুজাম্মিল হক তালুকদার, বাংলাদেশ লেবার পার্টির সিলেট মহানগরের সভাপতি মাহবুবুর রহমান খালেদ, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) মহানগরের সভাপতি মোজাম্মেল হোসেন লিটন, বিডিপি সিলেট মহানগরের আহ্বায়ক কবির আহমদ ও সিলেট মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির ড. নূরুল ইসলাম বাবুল।

বিক্ষোভ মিছিল সমাবেশে ১১ দলীয় ঐক্যের মহানগরের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ ছাড়াও ১১ দলের অঙ্গ-সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন।

সভায় বক্তারা বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি দুর্নীতিমুক্ত, বৈষম্যহীন ও ইনসাফপূর্ণ মানবিক বাংলাদেশ গড়াই আমাদের লক্ষ্য। এজন্য প্রয়োজন রাষ্ট্রের মৌলিক কাঠামোগত সংস্কার। জনপ্রত্যাশিত এই সংস্কার প্রক্রিয়াটি কেবল সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে সম্ভব নয়; বরং একটি ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠনের মাধ্যমেই তা সম্পন্ন করতে হবে।

তারা আরো বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় গিয়ে ফের ফ্যাসিবাদী কায়দায় দেশ পরিচালনা শুরু করেছে। ৭০ শতাংশ মানুষের গণভোটের রায়কে উপেক্ষা করে বিএনপি একদলীয় শাসন ব্যবস্থার পথে হাঁটছে। যা জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও জনগণের সাথে প্রতারণার শামিল।

বক্তারা বলেন, বিএনপি সরকার গায়ের জোরে রাষ্ট্র সংস্কারের পথ রুদ্ধ করছে। তাদের প্রতিটি পদক্ষেপই আজ জনস্বার্থের পরিপন্থী। তারা সংসদে একের এক গণবিরোধী বিল পাসের মাধ্যমে দেশে ফের ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার ষড়যন্ত্র করছে। সকল ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করতে দেশপ্রেমিক জনতাকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তারা।

সভাপতির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট আব্দুর রহমান আফজল বলেন, বিএনপি সরকার গণভোট অধ্যাদেশ-২০২৫, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ, দুর্নীতি দমন কমিশন অধ্যাদেশ, মানবাধিকার কমিশন সংক্রান্ত অধ্যাদেশ ও বিচার বিভাগ সংস্কার অধ্যাদেশসহ বেশ কয়েকটি জনগুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বাতিল করে দেশকে আবারো ফ্যাসিবাদী শাসনের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। গণভোট অধ্যাদেশ বাতিল করে সরকার গণবিরোধী অবস্থান নিয়েছে। এর বিরুদ্ধে দেশপ্রেমিক ছাত্র-জনতাকে রাজপথে নেমে আসার আহ্বান জানান তিনি।