চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মাদরাসা সুপার আবুল কাশেম (৬০) নামে একজনকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার (১৩ মে) উপজেলার চরম্বা ইউনিয়নের জানমোহাম্মদ পাড়ায় সকাল ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সামছুল ইসলাম নামে একজনকে আটক করেছে লোহাগাড়া থানা।
নিহত মাওলানা আবুল কাশেম চরম্বা জামিউল উলুম মাদরাসার সুপার ছিলেন। তিনি চরম্বা ইউনিয়নের ছয় নম্বর ওয়ার্ড জানমোহাম্মদ পাড়ার মরহুম আব্দুর সোবহানের সন্তান।
মো: হারুন রশিদ, ফেরদৌসী আক্তার, ইয়াকুব মিস্ত্রি, আদন এবং আটক মো: সামছুল ইসলামসহ মোট পাঁচজনের নামে নিহতের স্বজন বাদি হয়ে লোহাগাড়া থানায় মামলা করেন।
এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সৃষ্টি হয় ব্যপক আলোচনা-সমালোচনা। ভিডিওতে দেখা যায়, তিনজন মানুষ কথা বলার সময় আরেকজন পিছন থেকে গিয়ে অতর্কিত হামলা করে। পরে হাতাহাতির মধ্যে একটি লাঠি নিয়ে মো: হারুন রশিদ (৪৫) মাথার অংশে আঘাত করলে আবুল কাশেম মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
পরে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো তিনজন। যার মধ্যে সখিনা খাতুন (৫৫) নামে একজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয় এবং মো: হারুন রশিদ(৪০) ও শাহ আলম ( ৩৭) নামে দুজনকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর চট্টগ্রাম মেডিক্যালে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।
নিহতের ছেলে মো: ফোরকান নয়া দিগন্তকে বলেন, ‘আমার বাবার জায়গায় কবিরের সন্তানরা জোর করে বাড়ি করতে চাইলে আমার বাবা দেন। ফলে একপর্যায়ে হারুন, শামসু, নুরুল হকের ছেলে, জামাল ড্রাইভার এরা চারজন আমার বাবাকে মাথা আঘাত করে হত্যা করে।’
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা: এজাজুল ইসলাম শিহাব জানান, আজ সকালে মারামারির ঘটনায় আহত চারজন রোগী আসে। তবে চারজনের মধ্যে আবুল কাশেম নামে একজন হাসপাতালে আনার আগে মারা যায় বাকি তিনজনের মধ্যে একজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বাকি দুইজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যালে পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে লোহাগাড়া থানার কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বক্তব্য দিতে অনিহা প্রকাশ করেন।



