পানি কিছুটা কমায় খুলে দেয়া হলো সাদাপাথর পর্যটনকেন্দ্র

ভারতের মেঘালয়ে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত আছে। এ কারণে পাহাড়ি ঢলও অব্যাহত আছে। ঢল অব্যাহত থাকলে সিলেটের নদ-নদীর পানি আবার বাড়তে পারে।

এমজেএইচ জামিল, সিলেট ব্যুরো

Location :

Sylhet
পাহাড়ি ঢল ও ভারী বৃষ্টিপাতে জাফলং পর্যটন স্পট ডুবে যাওয়ার দৃশ্য
পাহাড়ি ঢল ও ভারী বৃষ্টিপাতে জাফলং পর্যটন স্পট ডুবে যাওয়ার দৃশ্য |নয়া দিগন্ত

সিলেটের নদ-নদীর পানি কিছুটা কমেছে। যদিও পাহাড়ি ঢল ও ভারী বৃষ্টি অব্যাহত আছে। ফলে এখনো রয়ে গেছে বন্যার ঝুঁকি। ইতোমধ্যে সিলেট ও সুনামগঞ্জের সীমান্তবর্তী কয়েকটি এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

তবে পানি কিছুটা কমায় কয়েকটি শর্তে সোমবার (২২ জুন) থেকে কোম্পানীগঞ্জের সাদাপাথর পর্যটনকেন্দ্র পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়।

জানা গেছে, ভারতের মেঘালয়ে অতি ভারী বৃষ্টির কারণে নামা ঢলে রোববার (২১ জুন) থেকে বাড়তে শুরু করে সিলেট ও সুনামগঞ্জের নদ-নদীর পানি। সীমান্তবর্তী কয়েকটি এলাকায় বন্যা পরিস্থিতিরও সৃষ্টি হয়। পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে যাওয়ায় রোববার সাদাপাথর পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

এছাড়া জাফলং পর্যটনকেন্দ্রের শতাধিক দোকান ঢলের তোড়ে ভেসে যায়। আর সুনামগঞ্জ-তাহিরপুর সড়ক তলিয়ে যায় ঢলের পানিতে।

সোমবার সকাল থেকে পানি কিছুটা কমতে শুরু করে। পানি উন্নয়ন বোর্ড, সিলেটের তথ্য মতে, সুরমা নদীর কানাইঘাট পয়েন্টে সকাল ৬টায় পানির উচ্চতা ছিল ১১.৬৮ মিলিমিটার, সকাল ৯টায় তা কমে দাঁড়িয়েছে ১১.৬০ মিলিমিটারে।

এছাড়া সিলেট পয়েন্টে সকাল ৬টায় পানির উচ্চতা ছিল ৯.৪৪ মিলিমিটার, সকাল ৯টায় হয়েছে ৯.৪১ মিলিমিটার। কুশিয়ারা নদীর পানি অমলসিদ পয়েন্টে সকাল ৬টায় ছিল ১৩.০৫ মিলিমিটার, সকাল ৯টায় কমে দাঁড়িয়েছে ১৩.০২ মিলিমিটারে।

শেওলা পয়েন্টে সকাল ৬টায় পানির উচ্চতা ছিল ১০.৯৮ মিলিমিটার, সকাল ৯টায় হয়েছে ১০.৯৫ মিলিমিটার, ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে পানির উচ্চতা সকাল ৬টায় ও ৯টায় অপরিবর্তিত ছিল। শেরপুর পয়েন্টে পানি একটু বেড়েছে। এখানে সকাল ৬টায় ছিল ৭.৪৫ সেন্টিমিটার, সকাল ৯টায় তা হয়েছে ৭.৪৬ মিলিমিটার। এছাড়া পানি কমেছে জাফলং-গোয়াইনঘাট নদীরও।

তবে ঢলে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ ও গোয়াইনঘাট এবং সুনামগঞ্জের ছাতক, দোয়ারাবাজার ও তাহিরপুর উপজেলার কয়েকটি এলাকা এখনো প্লাবিত অবস্থায় রয়েছে। পাহাড়ি ঢলে আনোয়ারপুর এলাকায় সড়ক তলিয়ে সুনামগঞ্জ জেলা সদরের সাথে তাহিরপুর উপজেলার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ বন্যা নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের বরাত দিয়ে জানান, ভারতের মেঘালয়ে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত আছে। এ কারণে পাহাড়ি ঢলও অব্যাহত আছে। ঢল অব্যাহত থাকলে সিলেটের নদ-নদীর পানি আবার বাড়তে পারে।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: রবিন মিয়া বলেন, পানি কমায় সাদাপাথর পর্যটনকেন্দ্র খুলে দেয়া হয়েছে। তবে ঢলের কারণে স্রোত খুব বেশি। তাই সবাইকে সতর্কতার সাথে যাওয়ার অনুরোধ করা হচ্ছে। এছাড়া সাঁতার না জানলে কেউ যেনো পানিতে না নামেন।