ক্ষমা চেয়েছেন ডিসি অফিসের অনুষ্ঠানে 'জয় বাংলা' বলা সেই মোহাম্মদ আলী

সোমবার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে বক্তব্যের শেষে জয় বাংলা বলেন মোহাম্মদ আলী। নয়া দিগন্ত অনলাইনে এ সংক্রান্ত একটি সংবাদ প্রকাশের পর মোহাম্মদ আলীকে নিয়ে নারায়ণগঞ্জে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়।

Location :

Narayanganj
সাংবাদিকদের সাথে কথা বলছেন মোহাম্মদ আলী
সাংবাদিকদের সাথে কথা বলছেন মোহাম্মদ আলী |নয়া দিগন্ত

অবশেষে ক্ষমা চেয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে একটি সভায় জয় বাংলা স্লোগান দেয়া নারায়ণগঞ্জ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার মোহাম্মদ আলী।

মঙ্গলবার (২৫ মার্চ) সাংবাদিকদের ডেকে বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী বলেন, সেদিনের কথায় আমি অনুশোচনাবোধ করছি। আমার সেদিনের কথায় যদি কেউ ব্যাথিত হয়ে থাকেন তাহলে আমি আন্তরিকভাবে সবার কাছে, জাতির কাছে ক্ষমা প্রার্থণা করছি। আমার অসুস্থ শরীরে সবাইকে নিয়ে সামনের দিনগুলো এগিয়ে যেতে চাই।

এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে মোহাম্মদ আলীকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে বুধবারের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে প্রতিরোধের ঘোষণা দেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু। একই সময়ে তারা বিএনপি ও জামায়াত নেতৃবৃন্দ জেলা প্রশাসকের সাথে দেখা করে মোহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে নালিশ করেন।

উল্লেখ্য, সোমবার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে বক্তব্যের শেষে জয় বাংলা বলেন মোহাম্মদ আলী। এর পরপর ঘটনাটি নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়। নয়া দিগন্ত অনলাইনে মঙ্গলবার রাতে এসংক্রান্ত একটি সংবাদ প্রকাশের পর মোহাম্মদ আলীকে নিয়ে নারায়ণগঞ্জে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। অবস্থা বেগতিক দেখে মোহাম্মদ আলী সাংবাদিকদের ডেকে ক্ষমা চান।

মঙ্গলবার সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী বলেন, আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা। একই সাথে আমি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের একজন সংসদ সদস্য ছিলাম। আমার ব্রেইনে সমস্যার কারণে আমি ব্যাংকক গিয়েছিলাম চিকিৎসার জন্য। সেখান থেকে আসার পরই জেলা প্রশাসকের দাওয়াতে আমি সেদিন ওই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছিলাম। সেখানে ভুলবশত আমার মুখ থেকে 'জয় বাংলা' বাক্যটি বের হয়ে যায়। আমার সাথে টিপু সাহেবে সাথে কোনো শত্রুতা নেই। সে আমার ছোট ভাই, সে যে রাজনীতির আদর্শ মানে আমিও সেই রাজনীতির আদর্শের একজন মানুষ। তবুও যদি সে আমার কথায় বা অন্য যারাই আছেন যদি আমার কথায় ব্যাথিত হয়ে থাকেন তাহলে আমি সকলের কাছে ক্ষমা প্রার্থী।

তিনি আরো বলেন, জয় বাংলা বলা আমাদের দীর্ঘ দিনের চর্চা করে রেখেছিলো ফ্যাসিস্ট হাসিনা। আমাদের সব কিছুতেই তিনি বাধ্য করতেন 'জয় বাংলা' বলার জন্য। আমি জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেছি মুক্তিযোদ্ধাদের স্বার্থে। কিন্তু আমি সব সময় আমার আদর্শে অটল ছিলাম। মুক্তিযোদ্ধাদের স্বার্থে আমার সেলিম ওসমান ও শামীম ওসমানদের সাথে সক্ষতা বজায় রাখতে হয়েছে। আমিই জোর দিয়ে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স থেকে শুরু করে মুক্তিযোদ্ধাদের নানা উন্নয়নমূলক কাজ গুলো করিয়েছি। কখনো তাদের থেকে কোনো রাজনৈতিক ফয়দা হাসিল করার চেষ্টাও করিনি। সেই সময়ে আমাদের কোনো উপায় ছিলো না, ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে সেলিম ওসমান, শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে গিয়ে কেউ কথা বলবে সেই সাহস আমাদের ছিলো না। বিগত সময়ে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রোগ্রামে আমাকে 'জয় বাংলা' বলার জন্য সেলিম ওসমান বাধ্য করেছেন। সেই জায়গা থেকেই আমি সেদিন জেলা প্রশাসকের প্রোগ্রামে ভুলবসত 'জয় বাংলা' কথাটা উচ্চারণ করেছি। জয় বাংলা বলার জন্য আমি নিজেই মর্মাহত।