নোম্যান্স ল্যান্ডে তিন দিন ধরে ৯ বাংলাদেশী

আড়াই মাস বয়সী শিশুকে কোলে নিয়ে অসহায় মা সুমি আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘শিশুর জন্য দুধ, খাবার ও প্রয়োজনীয় ওষুধের সঙ্কট দেখা দিয়েছে। খোলা আকাশের নিচে এভাবে কতদিন থাকতে হবে জানি না।’

মোস্তাফিজুর রহমান তারা, রৌমারী (কুড়িগ্রাম)

Location :

Kurigram
নোম্যান্স ল্যান্ডে খোলা আকাশে মানবেতর দিন
নোম্যান্স ল্যান্ডে খোলা আকাশে মানবেতর দিন |নয়া দিগন্ত

কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্তে ভারত থেকে পুশইন করা নয় বাংলাদেশী নাগরিক রবিবার, সোমবার ও মঙ্গলবার তিন দিন ধরে নোম্যান্স ল্যান্ডে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ঝড়-বৃষ্টি, রোদের খরতাপ ও অনিশ্চয়তার মধ্যেও তারা দু’দেশের আইনি জটিলতার কারণে অপেক্ষার প্রহর গুনছেন। তাদের মধ্যে রয়েছে নারী ও শিশু, এমনকি আড়াই মাস বয়সী এক শিশুও।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, রৌমারী উপজেলার ২ নম্বর শৌলমারী ইউনিয়নের গয়টাপাড়া বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ক্যাম্প সংলগ্ন ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের ১০৬০/১-এস পিলার এলাকা এবং মানকারচর শাহপাড়া সীমান্তের ১০৬৫ ও ১০৬৬ নম্বর পিলারের মধ্যবর্তী নোম্যান্স ল্যান্ডের পরিত্যক্ত জমিতে তারা অবস্থান করছেন। কোনো ধরনের স্থায়ী আশ্রয় ছাড়াই খোলা মাঠে দিন-রাত কাটাতে হচ্ছে তাদের।

গয়টাপাড়া সীমান্তে অবস্থানরত ছয়জনের বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা উপজেলায়। তারা হলেন বংশেরকুল গ্রামের আবদুর রউফের ছেলে বিল্লাল হোসেন, একই গ্রামের লিটন মিয়ার ছেলে ছাব্বির হোসেন, মরহুম শামসুল হকের ছেলে হিমেল, বিল্লাল হোসেনের স্ত্রী সুমি আক্তার এবং তাদের দুই শিশু কন্যা ফাতেমা ও ফাহিমা।

অন্যদিকে মানকারচর সীমান্তে অবস্থানরত তিনজন হলেন সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলার জহিরুল ইসলাম (২৬), নেত্রকোনা জেলার বারহাট্টা উপজেলার পারভেজ (২১) এবং ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাট উপজেলার কাউসিয়া গ্রামের নয়িম (২২)।

সীমান্তে অবস্থানরতদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গত তিন দিন ধরে তারা খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, বাসস্থান, চিকিৎসা ও স্যানিটেশন সঙ্কটে ভুগছেন। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের দুর্ভোগ ভয়াবহতায় পৌঁছেছে।

আড়াই মাস বয়সী শিশুকে কোলে নিয়ে অসহায় মা সুমি আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘শিশুর জন্য দুধ, খাবার ও প্রয়োজনীয় ওষুধের সঙ্কট দেখা দিয়েছে। খোলা আকাশের নিচে এভাবে কতদিন থাকতে হবে জানি না।’

স্থানীয়রা জানায়, দিনভর প্রচণ্ড রোদ এবং রাতের বৃষ্টির মধ্যে সীমান্তের খোলা মাঠে অবস্থান করায় তাদের শারীরিক অবস্থারও অবনতি ঘটছে। শিশুদের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।

এদিকে সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে কর্তব্যরত বিজিবি সদস্যরা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

তবে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

মানবাধিকার সচেতন মহল মনে করছে, নারী ও শিশুসহ এসব বাংলাদেশী নাগরিকের মানবিক সঙ্কট নিরসনে দ্রুত কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন। অন্যথায় পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।