লাখ টাকার চুক্তিতে ভোটার হতে এসে ধরা রোহিঙ্গা যুবক

আবেদনকারীর কথাবার্তায় অসংলগ্নতা দেখা দিলে বিষয়টি যাচাই করা হয়। তিনি বাংলা বলতে পারলেও লিখতে পারেন না।

মো: সাজ্জাতুল ইসলাম, ময়মনসিংহ

Location :

Mymensingh
রোহিঙ্গা যুবক মোহাম্মদ মাসুদ
রোহিঙ্গা যুবক মোহাম্মদ মাসুদ |নয়া দিগন্ত

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) করতে এসে এক রোহিঙ্গা যুবক আটক হয়েছেন।

সোমবার (২৯ জুন) বিকেলে উপজেলা নির্বাচন অফিসে সন্দেহজনক আচরণের কারণে তাকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।

আটক যুবকের নাম মোহাম্মদ মাসুদ (১৯)। তিনি কক্সবাজারের উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা। তার বাবার নাম মো: জোবায়ের এবং মায়ের নাম শাকিলা খাতুন। তবে ভোটার নিবন্ধনের জন্য জমা দেয়া কাগজপত্রে তার বাবা-মায়ের নাম ও ঠিকানা ভিন্ন উল্লেখ করা হয়। সেখানে তাকে গৌরীপুর উপজেলার সহনাটি ইউনিয়নের দৌলতাবাদ গ্রামের বাসিন্দা হিসেবে দেখানো হয়।

নির্বাচন অফিস সূত্র জানায়, আবেদনপত্রের সাথে সহনাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের স্বাক্ষরযুক্ত নাগরিকত্ব ও চারিত্রিক সনদ, জন্মনিবন্ধন, একটি মাদরাসার প্রত্যয়নপত্র এবং একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের রক্তের গ্রুপ পরীক্ষার প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়েছিল।

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো: ফাওজুল কবীর খান জানান, আবেদনকারীর কথাবার্তায় অসংলগ্নতা দেখা দিলে বিষয়টি যাচাই করা হয়। তিনি বাংলা বলতে পারলেও লিখতে পারেন না। পরে সংশ্লিষ্ট এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ওই নামে কোনো ব্যক্তি সেখানে বসবাস করেন না। এছাড়া যে মাদরাসার প্রত্যয়নপত্র জমা দেয়া হয়েছে, সেখানেও ওই নামে কোনো শিক্ষার্থীর তথ্য পাওয়া যায়নি।

তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে একটি দালাল চক্রের মাধ্যমে তাকে ভোটার করার চেষ্টা করা হয়েছে। পরে তাকে আটক করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে নেয়া হয়।

আটক যুবক দাবি করেন, কদ্দুছ বা কবীর নামে এক দালালের সাথে এক লাখ টাকায় এনআইডি করে দেয়ার চুক্তি হয়েছিল। এ বাবদ তিনি ১০ হাজার টাকা অগ্রিম দিয়েছেন। কয়েকদিন আগে তাকে গৌরীপুরে এনে একটি হোটেলে রাখা হয়। পরে সাগর নামে আরেক ব্যক্তি তাকে নির্বাচন অফিসে নিয়ে আসে। আটক হওয়ার পর তারা পালিয়ে যায় বলেও তিনি দাবি করেন।

গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান জানান, আটক যুবককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফিয়া আমীন পাপ্পা বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে এবং আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।