ধামরাইয়ে কোরবানির হাট কাঁপাতে আসছে কালা বাবু

কালা বাবু উপজেলায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছেন। বিশাল আকৃতির গরুটি দেখতে বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন ভিড় করছে খামারে। বিশাল এই গরুটির দাম হাঁকা হচ্ছে সাত লাখ টাকা।

ধামরাই (ঢাকা) সংবাদদাতা

Location :

Dhamrai
কোরবানির গরু কালা বাবু
কোরবানির গরু কালা বাবু |নয়া দিগন্ত

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে ঢাকার ধামরাইয়ে সানোড়া ইউনিয়নের ভালুম গ্রামের মো: আনোয়ার হোসেনের খামারে হয়েছে একটি ব্যতিক্রমধর্মী গরু। কুচকুচে কালো ও বিশাল আকৃতির গরুটির ওজন প্রায় ১৬মণ। গরুটি দেখতে যেমন বলবান ও তেমনই তার তেজ। গরুটির গায়ের রং কালো-সাদা ছোপযুক্ত এবং তার নবাবী আচরণের জন্য মালিক মো: আনোয়ার হোসেন তাকে আদর করে নাম রেখেছেন কালা বাবু।

সরেজমিনে তামিম এগ্রো ফার্ম (খামারে) গিয়ে দেখাযায় বিশাল আকৃতির ষাড়, কালা বাবুসহ তার খামারে আটটি গরু রয়েছে। এর মধ্যে কালা বাবু উপজেলায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছেন। বিশাল আকৃতির গরুটি দেখতে বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন ভিড় করছে খামারে। বিশাল এই গরুটির দাম হাঁকা হচ্ছে সাত লাখ টাকা।

জানা গেছে, সানোড়া ইউনিয়নের ভালুম গ্রামে খামারী আনোয়ার হোসেন একজন সৌখিন খামারী। সে গত চার বছর আগে তার বাড়ীর একটি অস্ট্রেলিয়া ফ্রিজিয়ান জাতের গাভী থেকে ষাঁড় গরুটি জন্ম হয়েছিল। এক কথায় বলা চলে গরু প্রতিপালন তার একটি নেশা। গত চারটি বছর যাবত তার নিজের মত করে কালা বাবুকে লালন পালন করেছেন। এখন তার বয়স চার বছর। কালা বাবুসহ একটি গাভী থেকে সাতটি ষাড়গরু জন্ম হয়েছিল বলে এর নাম দিয়েছে কালা বাবু। ষাঁড়টি বর্তমানে চারটি দাঁত উঠেছে।এর উচ্চতা পাঁচ ফিট দুই ইঞ্চি এবং লম্বা প্রায় নয় ফিট। ষাঁড়টির ওজন ধরা হয়েছে ৬৪০ কেজি বা ১৬ মণ। কালো মানিক আপেল, কলা, মাল্টা থেকে শুরু করে কাঁচা ঘাস, গমের ভুষি, ছোলা, কুড়া, মিষ্টি কুমড়া ও খোদের ভাতসহ পাঁচ-ছয়শ টাকার খাবার লাগে প্রতিদিন। কালা বাবু এতটায় শান্ত, যে কেউ শরীরে হাত ভুলিয়ে আদর করতে পারে। যার কারণে কালা বাবুকে দেখতে দুরদুরান্ত থেকে প্রতিদিন মানুষ ভিড় জমায় খামারে।

এই ব্যাপারে তামিম এগ্রোফার্মের মালিক আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘গত চার বছর যাবত ফ্রিজিয়ান জাতের ষাঁড়গরুটি নিজের পালের গাভী থেকে জন্ম নিয়েছে তাই সখ করে লালন পালন শুরু করেছি। ষাঁড়টির নাম রাখা হয়েছে কালা বাবু। কালা বাবুকে আমিও আমার স্ত্রী দেখভাল করে থাকি। তবে কৃষিকাজের জন্য বেশিরভাগ সময় আমাকে বাইরে থাকতে হয়। তাই বেশির ভাগ সময় আমার স্ত্রী দেখে। কালা বাবু সম্পুর্ণ দেশীয় খাবার খায়। তাকে প্রতিদিন চার বার খাবার খায়ানো হয়। প্রতিদিন ১০ কেজি করে খাবার লাগে। খাবারের মধ্যে কাচাঁঘাস, গমের ভুষি, চালের কুড়া, ছোলা, খুদের ভাত। কালা বাবু (ষাঁড়) সব সময় পরিস্কার পরিছন্ন জায়গায় রাখা হয়। সব সময়ে তার সেবা যত্ন করায় কালা বাবুর কোনো রোগ বালায় নেয়। এছাড়া কালা বাবু বাদেও আমার আরো সাতটি ষাড় গরু রয়েছে। সে গুলোও কোরবানির জন্য রাখা হয়েছে। ১৬ মণ ওজনের এ গরুটির দাম উঠেছে চার লাখ টাকা। তবে খামারীর প্রত্যাশা আরো বেশি।

এই ব্যাপারে ধামরাই উপজেলা ভারপ্রাপ্ত প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ দেলোয়ার হোসেন বলেন, আশা করছি খামারীরা এবার পশুর ভাল দাম পাবে। কালা বাবু ষাঁড় গরুটি অস্ট্রেলিয়া ফ্রিজিয়ান জাতের। এর মাংস বেশ সুস্বাদু হবে। কারণ এটি সম্পূর্ণ দেশীয় খাবার খেয়ে বড় হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে ষাঁড়টিকে লালন পালন করা হয়েছে। উপজেলা হাটগুলোতে খামারী ও ব্যবসায়ীদের পশুর সুবিধার্থে আমাদের চিকিৎসা টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে।