সৌদিতে নিহতের ২০ দিন পর প্রবাসী যুবকের লাশ পেল পরিবার

‘দীর্ঘদিন ধরে মাদারীপুর শহরের হরিকুমারিয়া এলাকায় একটি বাসায় ভাড়া থেকে পাঁচ ছেলে-মেয়ে নিয়ে বসবাস করছি। ধারদেনা করে আমার স্বামী বিদেশে পাড়ি জমায়। কিন্তু এভাবে মৃত্যু হবে তা বুঝতে পারিনি। সরকার যদি সহযোগিতা না করে তাহলে পাঁচ ছেলে-মেয়ে নিয়ে বেঁচে থাকাটাই কঠিন হয়ে পড়বে।’

মাদারীপুর প্রতিনিধি

Location :

Madaripur
নিহত সৌদি প্রবাসী সোবাহান খাঁ, (ডানে) লাশবাহী কফিনের পাশে স্বজনদের আহাজারি
নিহত সৌদি প্রবাসী সোবাহান খাঁ, (ডানে) লাশবাহী কফিনের পাশে স্বজনদের আহাজারি |নয়া দিগন্ত

সৌদি আরবে নির্মাণাধীন ভবনের ছাদ থেকে পড়ে নিহত বাংলাদেশী যুবক সোবাহান খাঁর (২৯) লাশ ২০ দিন পর দেশে পৌঁছেছে। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দুপুরে মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার পশ্চিম মাইজপাড়া গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন করা হয়।

নিহত সোবাহান পশ্চিম মাইজপাড়া গ্রামের ইউসুফ খাঁর ছেলে।

এর আগে, একইদিন ভোরে নিহতের লাশ রাজধানী ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ নেয়া হয় গ্রামের বাড়ি। এ সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজন ও পাড়াপ্রতিবেশী।

স্বজন ও এলাকাবাসী জানায়, ঋণ করে প্রায় ছয় লাখ টাকা খরচ করে ডাসার উপজেলার দালাল নান্নুর মাধ্যমে সৌদি আরব পাড়ি জমান সোবাহান। ২০২৫ সালের ১৯ নভেম্বর তিনি সৌদি যান। এরপর গত ৭ এপ্রিল রাজধানী রিয়াদের একটি নির্মাণাধীন ভবনে কাজ করছিলেন সোবাহান। কাজ চলাকালীন সময় অসাবধানবশত নির্মাণাধীন লিফটের মধ্যে পড়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান তিনি।

এ সময় অন্য শ্রমিকরা তাকে উদ্ধার করে রিয়াদের নাছিম ব্র্যাঞ্চ আল-জাজিরা হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১১ এপ্রিল বাংলাদেশ সময় দুপুর দেড়টার দিকে তার মৃত্যু হয়। তবে, সোবাহানের পরিবার তার মৃত্যুর খবর পায় পরদিন ১২ এপ্রিল রাতে। তার মৃত্যুর খবর শোনার পর পরিবারে নেমে আসে শোকের ছায়া।

নিহতের স্ত্রী মরিয়ম বেগম বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে মাদারীপুর শহরের হরিকুমারিয়া এলাকায় একটি বাসায় ভাড়া থেকে পাঁচ ছেলে-মেয়ে নিয়ে বসবাস করছি। ধারদেনা করে আমার স্বামী বিদেশে পাড়ি জমায়। কিন্তু এভাবে মৃত্যু হবে তা বুঝতে পারিনি। সরকার যদি সহযোগিতা না করে তাহলে পাঁচ ছেলে-মেয়ে নিয়ে বেঁচে থাকাটাই কঠিন হয়ে পড়বে।’

মাদারীপুরের ডাসার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাকিয়া সুলতানা বলেন, ‘সৌদি আরবে এভাবে শ্রমিকের মৃত্যুর বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। নিহতের পরিবারের পাশে থাকার চেষ্টা করবে উপজেলা প্রশাসন।’