জ্বালানি তেলের তীব্র সঙ্কটের প্রভাব পড়েছে ময়মনসিংহে। সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখা ও সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে জেলার সব ধরনের ফিটনেসবিহীন ও অনুমোদনহীন যানবাহন চলাচলের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে জেলা প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেয়া হয়।
গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে জ্বালানি সরবরাহ ও বিতরণ স্বাভাবিক রাখতে এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। বিশেষ করে ড্রাইভিং লাইসেন্স ও হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল চালানো এবং ফিটনেসবিহীন যানবাহন নিয়ে সড়ক-মহাসড়কে চলাচল থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। নির্দেশনা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারিও দেয়া হয়েছে।
এদিকে, জ্বালানি সঙ্কট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। মার্চ মাসের শেষ দুই সপ্তাহে জেলায় তিন লাখ ৮০ হাজার ৯০০ লিটার অকটেনের বিপরীতে মজুদ ছিল মাত্র ৩৪ হাজার ১৭১ লিটার। একইভাবে ছয় লাখ ১২ হাজার ৮০০ লিটার পেট্রোলের বিপরীতে মজুদ ছিল ৬৭ হাজার ৩৪০ লিটার। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় মজুদ ১০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। ফলে পেট্রোল পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইন ও তীব্র ভোগান্তি তৈরি হয়েছে।
বিআরটিএ সূত্রে জানা গেছে, জেলায় নিবন্ধিত মোটরসাইকেলের সংখ্যা প্রায় ৭৯ হাজার হলেও অনিবন্ধিতসহ তা দেড় লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে। এর মধ্যে প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার চালক পেশাগতভাবে যাত্রী পরিবহন, কুরিয়ার সার্ভিস ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। তেলের সঙ্কটে তাদের আয় মারাত্মকভাবে কমে গেছে।
জেলখানা চর এলাকার মোটরসাইকেল চালক সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘তেল পাওয়া যাচ্ছে না, আর যা পাওয়া যাচ্ছে তা বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। এর ওপর প্রশাসনের কড়াকড়িতে আমরা দিশেহারা হয়ে পড়েছি।’
পাঠাও কুরিয়ার সূত্রে জানা যায়, ময়মনসিংহ জেলায় প্রায় ১৮০ জন ডেলিভারি কর্মী কাজ করছেন। জ্বালানি সঙ্কটের কারণে অনেকেই খোলা বাজার থেকে বেশি দামে তেল কিনতে বাধ্য হচ্ছেন, ফলে আয়ের বড় অংশই ব্যয়ে চলে যাচ্ছে। কেউ কেউ পেশা পরিবর্তনের কথাও ভাবছেন।
শুক্রবার দুপুরে সদর উপজেলার কয়েকটি পেট্রোল পাম্প ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ পাম্প বন্ধ রয়েছে। যে কয়েকটিতে তেল বিক্রি হচ্ছে, সেখানে কয়েক হাজার মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ির দীর্ঘ সারি দেখা গেছে।
পুলিশ লাইন এলাকার একটি ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে আসা ব্যবসায়ী সামিউল হক জানান, চার ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে মাত্র ৩০০ টাকার তেল পেয়েছেন তিনি। এতে সময় ও জ্বালানি—দুই অপচয় হচ্ছে।
জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান বলেন, ‘এ পদক্ষেপ শুধু নিয়ম প্রয়োগের জন্য নয়, বরং সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপ্রয়োজনীয় জ্বালানি অপচয় রোধের অংশ। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমাতে এবং জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোর সাথে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।



