ভারতীয়দের গুলিতে বাংলাদেশী নিহত, ৪ দিনেও মেলেনি লাশ

পতাকা বৈঠকের পরও লাশ ফেরত দেয়নি ভারত

বিএসএফের সাথে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। নিহতের পরিবারকে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

আবদুল কাদের তাপাদার, সিলেট ব্যুরো

Location :

Sylhet
নিহত সাদ্দাম হোসেন
নিহত সাদ্দাম হোসেন |নয়া দিগন্ত

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ সীমান্তে খাসিয়াদের গুলিতে সাদ্দাম হোসেন (৩৫) নামে এক বাংলাদেশী যুবক নিহত হয়েছেন। তবে ঘটনার চার দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো তার লাশ ভারতের ভেতরে পড়ে আছে বলে জানিয়েছে নিহতের পরিবার।

এদিকে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে পতাকা বৈঠক হলেও এখনো ফেরত পাওয়া যায়নি ওই যুবকের লাশ।

বুধবার (১ এপ্রিল) দুপুরে এ গুলির ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উৎমা বিজিবি ক্যাম্পের কমান্ডার আবুল কালাম।

নিহত সাদ্দাম উত্তর রণিখাই ইউনিয়নের লামা উৎমা গ্রামের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা কুটু মিয়ার ছেলে।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার দুপুর ১২টার দিকে সাদ্দামসহ চারজন সীমান্ত অতিক্রম করে সুপারী আনতে ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেন। এ সময় সশস্ত্র খাসিয়ারা তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালালে ঘটনাস্থলেই সাদ্দাম নিহত হন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সীমান্তের ১২৪৭ নম্বর পিলারের প্রায় ৬০০ গজ ভেতরে ভারতের রাজনটিলা এলাকায় সুপারি আনতে যান সাদ্দাম ও আরো তিনজন। এ সময় খাসিয়াদের গুলিতে সাদ্দাম নিহত হন। আহত হন ফরহাদ মিয়া নামের তার এক সহযোগী। পরে তার সহযোগীরা ফরহাদকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় বাংলাদেশে নিয়ে আসেন। কিন্তু নিহত সাদ্দামের লাশ খাসিয়ারা আনতে দেয়নি।

আহত ফরহাদ একই গ্রামের লিলু মিয়ার ছেলে। তাদের সাথে আবু বক্কর (৩০) ও জফির মিয়া (২৮) নামের আরো দু’জন অক্ষত অবস্থায় ফিরে আসেন।

নিহতের বড়ভাই নাজীম উদ্দীন নয়া দিগন্তকে জানান, আমার ভাইসহ চারজন ভারতে যায়। সেখানে খাসিয়ারা গুলি করলে সে ঘটনাস্থলেই মারা যায়। চার দিন পার হয়ে গেলেও এখনো তার লাশ দেশে আনা সম্ভব হয়নি।

কোম্পানীগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক জগৎ জ্যোতি দাস বলেন, ঘটনার পর ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এর মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সাদ্দামের সাথে থাকা আরো তিনজনের মধ্যে ফরহাদ মিয়াকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় সঙ্গীরা বাংলাদেশে নিয়ে আসেন। আহত ফরহাদকে সিলেটের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

উৎমা বিজিবি ক্যাম্পের কমান্ডার আবুল কালাম বলেন, বিএসএফের সাথে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। নিহতের পরিবারকে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।