রংপুর বিভাগে বাড়ছে হামের উপসর্গ নিয়ে রোগী ভর্তির সংখ্যা, শনাক্ত ১৩

৩১ মার্চ থেকে আজ শুক্রবার সকাল ৯টা পর্যন্ত বিভাগের আট জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ৩৮১ জন শিশু ভর্তি হলেও ৩৪২ জনই পরিপূর্ণ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।

সরকার মাজহারুল মান্নান, রংপুর ব্যুরো

Location :

Rangpur
রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন শিশুদের একাংশ
রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন শিশুদের একাংশ |নয়া দিগন্ত

রংপুর বিভাগের হাসপাতালগুলোতে প্রতিদিন বাড়ছে হামের উপসর্গ নিয়ে রোগী ভর্তির সংখ্যা। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত হাম শনাক্ত হয়েছে ১১ জনের। তবে কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দফতর থেকে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকাল ৯টা থেকে শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় রংপুর ও দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজসহ জেলা ও উপজেলা হাসপাতালগুলোর বহির্বিভাগ ও ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছে ৪৮ জন। যা এর আগের ২৪ ঘণ্টার চেয়ে পাঁচজন বেশি।

এ নিয়ে বিভাগে এখন পর্যন্ত ভর্তি হয়েছে ৩৮১ জন। এর মধ্যে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছে ৩৪২ জন। বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি আছে ৩৯ জন। ভর্তি রোগীদের মধ্যে রংপুরে দু’জন, লালমনিরহাটে তিনজন, নীলফামারীতে নয়জন, দিনাজপুরে তিনজন, গাইবান্ধায় সাতজন, ঠাকুরগাঁওয়ে তিনজন, দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তিনজন ও রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রয়েছে নয়জন।

অন্যদিকে ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ মার্চ পর্যন্ত ১১৬ জনের নমুনা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এখন পর্যন্ত হাম শনাক্ত হয়েছে ১৩ জনের। যার মধ্যে নীলফামারীতে পাঁচজন, দিনাজপুরে তিনজন, ঠাকুরগাঁওয়ে ও রংপুরে দু’জন করে ও কুড়িগ্রামে একজন। তবে রংপুর বিভাগে এখনো কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছে একজন। হাসাপাতালে এখন ভর্তি আছে নয়জন। চিকিৎসা নিয়েছে চলে গেছে ৩৫ জন।

রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের হাম চিকিৎসায় গঠিন বিশেষ কমিটির ফোকাল পারসন ডা: আ ন ম তানভীর চৌধুরী জানান, পরিস্থিতি উদ্বেগজনক না হলেও উপসর্গ নিয়ে রোগী ভর্তির সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে।

রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা: গওসুল আজিম চৌধুরী জানান, ৩১ মার্চ থেকে আজ শুক্রবার সকাল ৯টা পর্যন্ত বিভাগের আট জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ৩৮১ জন শিশু ভর্তি হলেও ৩৪২ জনই পরিপূর্ণ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। ৩৯ জন হাসপাতালে ভর্তি আছে, তাদের চিকিৎসা চলছে। রোগীদের মধ্যে একজনেরও মৃত্যু হয়নি। ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ মার্চ পর্যন্ত ১১৬ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১৩ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। তারাও ভালো আছে, চিকিৎসা চলছে।

তিনি আরো বলেন, এই বিভাগের প্রতিটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, জেলা ও উপজেলা হাসপাতালে হাম কর্নার ও পর্যাপ্ত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। মাঠকর্মীদের এলার্ট করে রাখা হয়েছে।