ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার সিন্দুরপুর ইউনিয়নের কোরবানপুর গ্রামে মালেক কন্ট্রাক্টর বাড়ির ব্যবসায়ী হাসানের নতুন নলকূপ বসানোর পর শনিবার সন্ধ্যার পর হঠাৎ গ্যাস উদগীরণ শুরু হয়। এনিয়ে পুরো এলাকায় জনমনে কৌতুহল ছড়িয়ে পড়ে। জানাজানি হলে আশপাশের শত শত মানুষ ঘটনাস্থলে ছুটে আসে।
বিষয়টি প্রশাসনের কানে পৌঁছলে দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের লোকজন পাঠায়। রোববার (২৪ মে) বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি (বাপেক্স) লিমিটেডের একটি টিম ঘটনাস্থলে এসে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে।
গৃহকর্তা মো: হাসান জানান, তিনি ঘরের পাশে ১১০ ফুট গভীর নলকূপ স্থাপন করেন। কাজ শেষ হলে শনিবার সন্ধ্যায় পানির জন্য নলকূপের হাতলে চাপ দিলে প্রবল বেগে পানি ও উপরের দিকে গ্যাস উদগীরণ হতে দেখা যায়। দীর্ঘক্ষণ এ অবস্থা চলতে থাকলে আশপাশের শত শত কৌতূহলী মানুষ ভিড় জমায়। বিষয়টি তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: শহীদুল ইসলামকে অবহিত করেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: শহীদুল ইসলাম জানান, তিনি তাৎক্ষণিক ফেনী ফায়ার সার্ভিস ও থানা পুলিশকে জানালে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে দুর্ঘটনা এড়াতে নলকূপটি সিলগালা করে দেন। তিনি বিষয়টি বাপেক্স কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন। তাদের একটি টিম রোববার ঘটনাস্থলে এসে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করেন।
নোয়াখালীর শাহজাদপুর গ্যাস ফিল্ডের সহকারী ব্যবস্থাপক সতীশ চন্দ্র বর্মন জানান, বাপেক্স কর্তৃপক্ষের নির্দেশনামতে রোববার বিকেলে তিনি একটি টিম নিয়ে ঘটনাস্থলে এসে প্রাথমিকভাবে মাল্টিগ্যাস মনিটর দিয়ে এখনকার গ্যাসের পরিমাপ করেন। মনিটর রিডিং অনুযায়ী নলকূপে অক্সিজেন পরিমাণ ৩২ শতাংশ পাওয়া যায়। এছাড়া ক্ষতিকর গ্যাসের (হাইড্রোজেন সালফাইড) উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। তবে কিছু পরিমাণ দাহ্য গ্যাস (মিথেন গ্যাস) রয়েছে। নলকূপটি মাত্র ১১০ ফুট খনন করার পর এ গ্যাস উদগীরণ হয়। তবে বাপেক্সের প্রাথমিক পরীক্ষায় মনিটর কমিটি মনে করেন মাটির নিচে পকেট গ্যাস থেকে উদগীরণ হচ্ছে। এছাড়া অন্যকোনো প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্রের ছিদ্র পথে এই গ্যাস আসতে পারে বলেও তারা ধারণা করছেন।
পরে ভূ-তাত্ত্বিক টিম এসে মাটির নিচে পরীক্ষা করে সঠিক অবস্থা নির্ণয় করবেন বলে কমিটির সদস্যরা জানান। আপাতত জনগণের নিরাপত্তার স্বার্থে নলকূপের উপরি অংশ খুলে ২০ ফুট পিভিসি পাইপ সংযোগ করে গ্যাস নিঃসরণ করার ব্যবস্থা করেছেন তারা।
সোমবার বাপেক্সের ভূ-তাত্ত্বিক টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও সার্ভে করে গ্যাসের নমূনা সংগ্রহ এবং কূপের সম্ভাব্যতা যাচাই করবেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: শহীদুল ইসলাম জানান, বাপেক্স টিমের সাথে তিনি সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন। স্থানীয় সংসদ সদস্য, পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু এব্যাপারে খোঁজখবর নিচ্ছেন। তিনি বাপেক্স কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করেছেন।



