জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন

নোয়াখালীতে বাখরাবাদ গ্যাসের সাবেক কর্মচারীর ৮ বছরের কারাদণ্ড, সম্পদ বাজেয়াপ্ত

পিপি মোহাম্মদ জহির উদ্দিন জানান, পৃথক দুই ধারায় দেয়া সাজা একের পর এক কার্যকর হওয়ায় আসামিকে মোট আট বছর কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। দুর্নীতি দমনে আদালতের এ রায় একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

Location :

Noakhali
নোয়াখালীর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো: শওকত আলী এ রায় ঘোষণা করেন
নোয়াখালীর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো: শওকত আলী এ রায় ঘোষণা করেন |নয়া দিগন্ত

নোয়াখালী অফিস

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলায় বাখরাবাদ গ্যাস সিস্টেমস লিমিটেডের সাবেক বিক্রয় সহকারী খালেদ সাইফুল্লাহ টিপুকে আট বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সাথে তাকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। এছাড়া রায়ে তার জ্ঞাত আয়বহির্ভূতভাবে অর্জিত ৩৮ লাখ ৪৮ হাজার ৫৮৬ টাকা ৯০ পয়সা মূল্যের সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

রোববার (১২ জুলাই) দুপুরে নোয়াখালীর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো: শওকত আলী এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

দুদকে নোয়াখালীর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মোহাম্মদ জহির উদ্দিন রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সাজাপ্রাপ্ত খালেদ সাইফুল্লাহ ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার রাজাপুর গ্রামের মরহুম আবুল হোসেন কানুনগোর ছেলে। তিনি বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানী লিমিটেডের কুমিল্লার গৌরীপুর শাখার সাবেক বিক্রয় সহকারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

আদালত ও মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ফেনী সদর থানায় ২০১১ সালে দায়ের করা একটি দুর্নীতি মামলায় আসামি খালেদ সাইফুল্লাহ টিপুর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হয়।

এর প্রেক্ষিতে আদালত তাকে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ধারায় তিন বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং ২৭(১) ধারায় পাঁচ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন।

অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরো ছয় মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। দুটি ধারার সাজা একসাথে চলবে বলে তাকে মোট ৮ বছর কারাগারে থাকতে হবে। একই সাথে রায়ে তার অবৈধভাবে অর্জিত সব সম্পদ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দেয়া হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, খালেদ সাইফুল্লাহ টিপু ২০০০ সালের ২৩ নভেম্বর থেকে ২০০৪ সালের ১৪ জুলাই পর্যন্ত গৌরীপুর কার্যালয়ে কর্মরত থাকাকালীন বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের মালিক হন। এ সময় তিনি ১৫ লক্ষ ৫৮ হাজার ৭১৮ টাকা মূল্যে ৫১৯ দশমিক ৩৭ শতক জমি ক্রয় করেন।

এছাড়া একটি পাঁচতলা ভবন নির্মাণে ৩৪ লক্ষ ১৭ হাজার ৪৯১ টাকা ব্যয় দেখান। তবে দুদকের নিয়োজিত প্রকৌশলীর তদন্ত প্রতিবেদনে ভবনটির প্রকৃত নির্মাণ ব্যয় ৬১ লক্ষ ৭ হাজার ৯৯ টাকা ৫২ পয়সা বলে উল্লেখ করা হয়।

পাশাপাশি সোনাগাজীতে তার নির্মিত একটি মার্কেটের নির্মাণ ব্যয়েও বড় ধরনের অসঙ্গতি পায় দুদক।

দুদকের চূড়ান্ত তদন্তে প্রমাণিত হয় যে, ভবন ও মার্কেট নির্মাণ ব্যয়ের হিসাব গোপন করে তিনি সর্বমোট ৩৮ লাখ ৪৭ হাজার ৫৮৬ টাকা ৯৪ পয়সার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন।

দুদকের তৎকালীন সহকারী পরিচালক মো: মশিউর রহমান মামলাটি তদন্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন দুদকের নোয়াখালীর পিপি মোহাম্মদ জহির উদ্দিন। তাকে সার্বিক সহযোগিতা করেন দুদকের নোয়াখালী কোর্ট ইন্সপেক্টর মো: ইদ্রিছ।

পিপি মোহাম্মদ জহির উদ্দিন জানান, পৃথক দুই ধারায় দেয়া সাজা একের পর এক কার্যকর হওয়ায় আসামিকে মোট আট বছর কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। দুর্নীতি দমনে আদালতের এ রায় একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।