ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে হাম ও হাম-সদৃশ উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে আরো এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ৩৪ জন রোগী ভর্তি হওয়ায় হাসপাতালটিতে রোগীর চাপ আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে।
মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করে।
হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা: মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান বলেন, ‘গত কয়েকদিন ধরে জ্বর, ফুসকুড়ি, কাশি ও চোখ লাল হওয়াসহ হাম-সদৃশ উপসর্গ নিয়ে শিশুদের হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। সর্বশেষ ভর্তি হওয়া রোগীদের অধিকাংশই শিশু, যাদের মধ্যে অনেকেই অপুষ্টিতে ভুগছে। হাসপাতালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১৭ মার্চ থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মোট এক হাজার ৪১৭ শিশু ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে এক হাজার ২৩৩ জন। ময়মনসিংহ জেলায় পরীক্ষাগারে পাঠানো ৪৮৬টি নমুনার মধ্যে ১৩৩ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।
এদিকে, রোগীর সংখ্যা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় মমেক হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে শয্যা সংকট দেখা দিয়েছে। নির্ধারিত শয্যার তুলনায় কয়েকগুণ বেশি রোগী ভর্তি থাকায় অনেক শিশুকে মেঝেতে বা অতিরিক্ত বেডে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। এতে চিকিৎসক ও নার্সদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়েছে এবং সেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। সময়মতো টিকা না নেয়া শিশুদের ঝুঁকি বেশি থাকে। আক্রান্তদের মধ্যে জটিলতা দেখা দিলে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া এমনকি মৃত্যুও হতে পারে।
হাসপাতালের একাধিক চিকিৎসক জানান, বর্তমানে ভর্তি রোগীদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। প্রয়োজনীয় ওষুধ ও সাপোর্টিভ চিকিৎসা দেয়া হলেও শয্যা ও জনবল সংকট পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলছে।
এ পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
তারা বলছেন, নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় শিশুদের হাম টিকা নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি আক্রান্ত শিশুকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে এসে চিকিৎসা নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় অতিরিক্ত শয্যা ও চিকিৎসা সেবা বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। একই সাথে হাম প্রতিরোধে টিকাদান কার্যক্রম জোরদার এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে এই পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।



