খুলনায় র্যাবের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়া দুইজনকে ফের র্যাবের কাছে ফেরত দেয়া হয়েছে। আজ শনিবার সন্ধ্যায় স্থানীয় বিএনপি নেতারা তাদের র্যাব সেদস্যদের হাতে তুলে দেন। পরে তাদের স্থানীয় থানায় হস্তান্তর করা হয়।
এর আগে, দুপুরের দিকে দাকোপ উপজেলা সদর চালনার আচাঁভুয়া বাজার এলাকা থেকে লোকজন র্যাবের গাড়ি ভাঙচুর করে তাদের ছিনিয়ে নেয়।
এদিকে, গতকাল শুক্রবার রাত ১০টার দিকে ঘেরে মাছ ধরার সময় প্রতিপক্ষের হামলায় পানখালী গ্রামের জসিম মোল্লা, হাফিজুর মোল্লা, আবু মুসা শেখ, জাফর সরদার ও সাজ্জাদ হোসেন সরদার গুরুতর আহত হন। তাদের স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
এলাকাবাসী সূত্র জানায়, কয়েক বছর ধরে দাকোপ উপজেলার পানখালী ইউনিয়নের খোনা এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বেড়িবাঁধের বাইরের প্রায় ৪০ বিঘা জমিতে আবদুল্লাহ ফকির, বাবলু সানা ও সাজ্জাদ হোসেন সরদার মাছ চাষ করে আসছেন। সম্প্রতি তাদের সাথে খোনা এলাকার মুকুন্দ মন্ডল, বাচ্চু ফকির ও রসুল গাজী গংদের সাথে ওই ঘের নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়। গত ১৬ মে সন্ধ্যা ৭টার দিকে বাচ্চু ফকিরের নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্রসস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ঘেরটি দখলের চেষ্টা চালায়।
এ ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার আকরাম আলী ফকির মুকুন্দ মন্ডল ও রসুল গাজীসহ বাচ্চু গংদের ১১ জনের বিরুদ্ধে দাকোপ থানায় মামলা দায়ের করেন।
এদিকে, গত শুক্রবার রাত ১০টার দিকে আব্দুল্লাহর পক্ষের লোকজন মাছ ধরার সময় উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক খোনা এলাকার বাচ্চু ফকিরের নেতৃত্বে ২০/২৫ জন সশস্ত্র ব্যক্তি উক্ত ঘেরে ফিল্মি স্টাইলে হামলা চালায়। এ সময় পানখালী গ্রামের জসিম মোল্লা, হাফিজুর মোল্লা, আবু মুসা শেখ, জাফর সরদার ও সাজ্জাদ হোসেন সরদার গুরুতর আহত হন। তাদের স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
অপরদিকে, গত বৃহস্পতিবার দায়েরকৃত মামলার প্রতিবাদে আজ শনিবার বেলা ১১টার দিকে বাচ্চু ফকিরের লোকজন উপজেলা সদর চালনায় বিক্ষোভ মিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এসময় র্যাব-৬-এর সদস্যরা ওই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মুকুন্দ মন্ডল ও রসুল গাজীকে আটক করে। পরে তাদের নিয়ে যাওয়ার সময় বাচ্চু ফকিরের সমর্থকরা দাকোপ উপজেলা সদর চালনার আঁচাভুয়া বাজার এলাকায় র্যাবের গাড়ি অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ করতে থাকে। এক পর্যায়ে বিক্ষুব্ধ লোকজন র্যাবের গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করে আটক মুকুন্দ মন্ডল ও রসুল গাজীকে ছিনিয়ে নেয়।
এ ঘটনার পর উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব আব্দুল মান্নান খান ও চালনা পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক শেখ মোজাফফার হোসেন ও সদস্য সচিব আলামিন সানার নেতৃত্বে তাৎক্ষণিক সংবাদ সম্মেলন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে তারা বলেন, ‘সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের বন্দোবস্তকৃত ও সরকারি ওই জমি জোর করে দখলে নিয়ে আব্দুল্লাহ ফকির ও রাশেদ কামালের সাথে স্থানীয় লোকজনের বিরোধ চলে আসছে। আমরা জানতে পারি এ ঘটনা নিয়ে উপজেলা সদরে একটি বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কিন্তু খুলনা থেকে র্যাবের সদস্যরা এসে ওই মিছিল থেকে লোক তুলে নিয়ে যাচ্ছে। এ খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করি।’
তবে র্যাবের কাছ থেকে আসামি ছিনিয়ে নেয়া এবং র্যাবের গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা তারা অস্বীকার করেন।
এ বিষয়ে দাকোপ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খায়রুল বাসার বলেন, ‘বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।’
র্যাব-৬-এর কমান্ডার লে. কর্নেল নিস্তার আহমেদ বলেন, ‘ছিনিয়ে নেয়া দুই আসামিকে সন্ধ্যার আগে স্থানীয় বিএনপি নেতারা র্যাবের কাছে ফেরত দিয়েছে। আমরা তাদের স্থানীয় থানায় হস্তান্তর করেছি।’



