সিলেটের ওমানীনগরে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স জালিয়াতির অভিযোগে সিলেট মহানগর কৃষকদলের সহ-সভাপতি ও তাজপুর সাব রেজিস্টার অফিসের দলিল লেখক মকবুল হোসাইনকে (৫১) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (৮ মে) দুপুরে তাকে সিলেট কোর্টে চালান করা হয়।
মকুবলের বিরুদ্ধে ওসমানীনগর থানায় বিশ্বাস ভঙ্গ, প্রতারণা ও সরকারি নথি জালিয়াতির অভিযোগে মামলা রয়েছে। এছাড়া পুলিশ জানিয়েছে, তার নামে নারী নির্যাতনসহ একাধিক মামলা আছে।
জানা যায়, ৪ ফেব্রুয়ারি উপজেলার গোয়ালাবাজার ইউনিয়নের নিজ করনসী গ্রামের মো: হিরন মিয়ার ছেলে মো: নিজাম মিয়ার সৌদি যাওয়ার জন্য একটি পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের প্রয়োজন দেখা দেয়। এসময় নিজামের ভাই মো: সুয়েব আহমদ পূর্ব পরিচিত দলিল লেখক মকবুলের দ্বারস্থ হন। মকবুল হোসাইন ৯২ হাজার টাকার বিনিময়ে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স করে দেয়ার শর্তে টাকা নেন।
কিছুদিন পর তিনি একটি পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সুয়েবকে দিলে তিনি তার ভাইয়ের পাসপোর্টসহ যাবতীয় কাগজপত্র ট্রাভেল্সের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দফতরে জমা দেন। সেখানে ধরা পরে পুলিশ ক্লিয়ারেন্সে সিলেট জেলা পুলিশ সুপার ও ওসমানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) দস্তখত এবং সিলমোহর জাল করা হয়েছে।
এরপর বিষয়টি নিস্পত্তির জন্য কয়েক দফা সালিশ বৈঠক হলেও বিষয়টির কোনো সঠিক সুরাহা না হলে বৃহস্পতিবার সুয়েব ওসমানীনগর থানায় একটি অভিযোগ করেন। অভিযোগটি মামলায় নথিভূক্ত করে ওইদিনই সন্ধ্যার দিকে পুলিশ মকবুলকে গ্রেফতার করে।
সুয়েব বলেন, ‘আমার ভাইয়ের নামে একটি মামলা থাকায় সাধারণ প্রক্রিয়ায় পুলিশ ক্লিয়ারেন্স করতে না পেরে পূর্ব পরিচিত দলিল লেখক মকবুলের কাছে যাই। তিনি ৯২ হাজার টাকার বিনিময়ে একটি জাল পুলিশ ক্লিয়ারেন্স এনে দেন। জাল ক্লিয়ারেন্স দিয়ে ভিসার জন্য পাসপোর্ট দূতাবাসে জমা দিলে আমার ভাইয়ের ভিসা হয়নি। এতে আমার পরিবারের অনেক ক্ষতি হয়েছে। বিষয়টি সামাজিকভাবে নিস্পত্তি না হওয়ায় আমরা থানায় মামলা করেছি।’
ওসমানীনগর থানার ওসি মো: মুরশেদুল আলম ভূই্য়া বলেন, ‘পুলিশ ক্লিয়ারেন্স জালিয়াতির অভিযোগে একজনকে গ্রেফতার করে কোর্টে চালান করা হয়েছে। বিষয়টি অধিকতর তদন্ত চলছে।’



