লক্ষ্মীপুরে দুই মেয়েসহ মাকে কুপিয়ে হত্যা, গণপিটুনিতে অভিযুক্ত নিহত

ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে অন্তর মজুমদার নামের এক যুবককে আটক করে স্থানীয়রা। পরে তাদের সংঘবদ্ধ পিটুনিতে ওই যুবকের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নয়া দিগন্ত অনলাইন

Location :

Lakshmipur
হাসপাতালে উৎসুক জনতার ভিড়
হাসপাতালে উৎসুক জনতার ভিড় |ইউএনবি

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে এক নারী ও তার দুই মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত এক মেয়েকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকার একটি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে, ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে অন্তর মজুমদার নামের এক যুবককে আটক করে স্থানীয়রা। পরে তাদের সংঘবদ্ধ পিটুনিতে ওই যুবকের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে রায়পুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গোডাউন রোড এলাকার ভাড়া বাসায় ঘটনাটি ঘটে। তবে কী কারণে ঘটনা ঘটেছে এবং ঘটনার সাথে অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা বলতে পারেনি কেউ।

সংঘবদ্ধ পিটুনিতে আহত হয়ে অভিযুক্ত ঘাতক অন্তর মজুমদার সদর হাসপাতালে মারা গেছেন। সদর হাসপাতালের আবাসিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (আরএমও) ডা: অরুপ পাল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ঘটনার সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টাকালে উত্তেজিত জনতার ইটপাটকেলে পুলিশের ছয়-সাতজন সদস্য আহত হয়েছেন।

নিহতরা হলেন— মা শাহিনুর বেগম (৩৮), বড় মেয়ে সায়মা আক্তার (২১) ও ছোট মেয়ে শিফা আক্তার (৯)। তাদের বাড়ি কুমিল্লা জেলায়। তারা কয়েক বছর ধরে রায়পুরের ওই বাসায় ভাড়া থাকতেন।

আহত ইকরা রায়পুর কাজী ফারুকী কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে শাহীনুর তার সন্তানদের নিয়ে ওই ভাড়া বাসায় থাকতেন। কয়েক বছর আগে তার স্বামী মো: কামাল বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান। এরপর থেকে তিন মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে তিনি ওই বাসায় বসবাস করে আসছেন। সকালে তিন মেয়েসহ শাহীনুরকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় স্থানীয়রা অন্তর মজুমদার নামের ঘাতক যুবককে সংঘবদ্ধ পিটুনি দেয়। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে ও ঘাতককে আটক করে জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করে। তবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

জানা যায়, নিহত অন্তর কয়েক মাস আগে একই ভবনের আরেকটি বাসায় ভাড়া থাকতেন। তিনি ফল বিক্রেতা ছিলেন।

লক্ষ্মীপুর জেলা পুলিশ সুপার আবু তারেক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বলেন, ‘এ ঘটনায় তিনজন নিহত হয়েছেন। তাদের লাশ হাসপাতালে রয়েছে। একজনকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এছাড়া অভিযুক্ত যুবককে সংঘবদ্ধ পিটুনি দিয়েছে জনতা। তাকেও সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছিল, তবে সেখানে তারও মৃত্যু হয়েছে বলে জেনেছি।’

ঘটনাটি ঠিক কী কারণে ঘটেছে তা জানা যায়নি। তদন্ত করে বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।

সূত্র : ইউএনবি