নওগাঁর আত্রাইয়ে নওগাঁ-নাটোর আঞ্চলিক মহাসড়কে গভীর রাতে এক ভয়াবহ গণডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। রোববার (১৭ মে) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টা থেকে প্রায় ২টা পর্যন্ত উপজেলার থাওইপাড়া এলাকার ভাঙাব্রিজ নামক স্থানে ওই ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ডাকাতদের কবলে পড়ে অন্তত ৪০-৫০টি যানবাহনের যাত্রী ও চালকরা সর্বস্ব হারিয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীদের সূত্রে জানা গেছে, রাত সাড়ে ১২টার দিকে একদল সশস্ত্র ডাকাত মহাসড়কে নৌকা ও ভ্রাম্যমান দোকানের পরিত্যক্ত টেবিল ফেলে রাস্তা অবরোধ করে। এ সময় চলাচলরত যানবাহনের গতিরোধ করে ডাকাতরা অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে চালক ও যাত্রীদের জিম্মি করে ফেলে। এরপর অত্যন্ত সুকৌশলে তাদের কাছে থাকা নগদ অর্থ, মোবাইলফোনসহ মূল্যবান সামগ্রী লুট করে নেয়।
ডাকাতদের কবলে পড়া সৌদি প্রবাসী আশরাফুল ইসলামের বাবা সাইদুর রহমান জানান, তার ছেলে নাটোর থেকে সিএনজিযোগে বাড়ি ফিরছিল। ভাঙাব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে ডাকাতরা তাদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে একটি আইফোন, একটি মোবাইলফোন ও নগদ অর্থ ছিনিয়ে নেয়।
মাইক্রোবাস চালক হাবিবুর রহমান জানান, ঢাকা থেকে আসার পথে তিনি ঘটনাস্থলে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখতে পান। কিছু বুঝে ওঠার আগেই ডাকাতরা তার গাড়ি ঘিরে ফেলে এবং অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তার কাছে থাকা চার হাজার টাকা লুট করে নেয়।
ভুক্তভোগী এক মাইক্রোবাস চালকের অভিযোগ, আক্রান্ত হওয়ার পরপরই তিনি ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে সাহায্য চাইলে আত্রাই থানা থেকে তাকে জানানো হয়, এটি তাদের আওতাভুক্ত এলাকা নয়।
তবে এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আত্রাই থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত এসআই ইফতেখার। তিনি বলেন, ‘৯৯৯ থেকে আমাদের থানায় কোনো ফোন আসেনি। বরং ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান চালিয়েছি।’
এদিকে, সোমবার (১৮ মে) সকালে খবর পেয়ে নওগাঁর পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জয়ব্রত পাল ও জেলা ডিবি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
এ বিষয়ে এসআই ইফতেখার আরো জানান, এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। তবে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে এবং মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। মামলা হওয়ার পর দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



