জ্বালানি সঙ্কটের সুযোগে ময়মনসিংহের গৌরীপুরে এক বিএনপি নেতার মালিকানাধীন ফিলিং স্টেশন থেকে প্রায় ৫৮ হাজার লিটার তেল গায়েব হওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে বেরিয়ে এসেছে তেল মজুত, তথ্য গোপন ও কালোবাজারির অভিযোগ। এ ঘটনায় ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজারকে আটক করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বিকেলে গৌরীপুর উপজেলার কলতাপাড়া এলাকায় ডৌহাখলা ইউনিয়নের মেসার্স সোয়াদ ফিলিং স্টেশনে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
গৌরীপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুরুল হুদা মনি এ অভিযান পরিচালনা করেন।
প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় মনিটরিংয়ের অংশ হিসেবে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সার্টিফিকেট সহকারী মো: আফসারুল ইসলাম স্টেশনটি পরিদর্শন করেন। এ সময় ভৈরব বাজার ডিপো থেকে প্রাপ্ত চালান ও নথি যাচাই করে দেখা যায়, চলতি মাসের ১ থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত মোট ৫৮ হাজার ৫০০ লিটার জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হয়েছে।
কিন্তু মজুত ও বিক্রির হিসাব চাইলে স্টেশনের ম্যানেজার মো: জলিল হোসেন রিফাত (৩০) সন্তোষজনক কোনো তথ্য দিতে ব্যর্থ হন। তিনি বলেন, ৩ এপ্রিল মাত্র ৯ হাজার লিটার পেট্রোল এসেছে, বাকি তেলের কোনো রেকর্ড তার কাছে নেই। তার বক্তব্যের অসঙ্গতি থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের সন্দেহ হয়।
পরে স্থানীয়দের অভিযোগ ও প্রাথমিক তদন্তে বিপুল পরিমাণ তেল অবৈধভাবে মজুত ও কালোবাজারির প্রমাণ মেলে।
জানা যায়, মাত্র ছয় দিনেই প্রায় ৫০ হাজার থেকে ৫৮ হাজার লিটার তেলের কোনো হিসাব পাওয়া যাচ্ছে না, যা কার্যত উধাও।
এ ঘটনায় গৌরীপুর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫/২৫ডি ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: কামরুল হাসান জানান, অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জ্বালানি তেল মজুত ও কালোবাজারির সাথে জড়িত অন্যদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।
উল্লেখ্য, অভিযুক্ত ফিলিং স্টেশনটি গৌরীপুর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব হাফেজ আজিজুল হকের মালিকানাধীন। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।



