কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)-এ চলমান একটি বহুল আলোচিত মেগা প্রকল্পকে ঘিরে শুরু থেকেই অনিয়ম, প্রভাব বিস্তার, স্বজনপ্রীতি ও আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। শত শত কোটি টাকার এই প্রকল্প বাস্তবায়নে কার্যকর জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হওয়ায় প্রতিষ্ঠানজুড়ে অসন্তোষ বাড়ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
ব্রি সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে সংস্থাটিতে চারটি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৫৮৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ের ‘প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনারশিপ অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (পার্টনার)’ প্রকল্পটি সবচেয়ে বড়। বিশ্বব্যাংক ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ অর্থায়নে প্রকল্পটি ২০২৩ সালের ১৮ এপ্রিল একনেকে অনুমোদন পায় এবং ২০২৪ সালের জুলাই থেকে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত বাস্তবায়নের সময় নির্ধারণ করা হয়। তবে শুরু থেকেই প্রকল্পটি নানা বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে। প্রকল্প পরিচালকের নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, জ্যেষ্ঠতা উপেক্ষা করে পদোন্নতি এবং গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রকল্পের পূর্ণ মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই যার চাকরির মেয়াদ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তাকে এ দায়িত্বে নিয়োগ দেয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে শ্রমিক নিয়োগ, মজুরি প্রদান, গবেষণার অর্থ অন্য খাতে ব্যয় এবং দরপত্র প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঠিকাদার নির্বাচনে পক্ষপাতিত্ব ও নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের বিষয়টি বিভিন্ন সভায় আলোচিত হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হয়নি বলে জানা গেছে।
ব্রি’র একাধিক বিজ্ঞানী জানান, এসব অনিয়মের বিষয়ে তারা বিভিন্ন সময় আপত্তি তুললেও তা গুরুত্ব পায়নি। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও প্রকল্প পরিচালক বহাল থাকায় অনেকের মধ্যে বিস্ময় ও হতাশা তৈরি হয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্রি’র কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে।
তাদের দাবি, প্রকল্প-সংক্রান্ত সব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা জরুরি। রাষ্ট্রীয় অর্থে পরিচালিত একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অভিযোগ জনমনে প্রশ্ন তৈরি করছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
তারা বলছেন, সুষ্ঠু তদন্ত ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং গবেষণা কার্যক্রম- দু’টিই ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।



