নান্দাইলে সৌর বিদ্যুৎ সেচে বোরো ধানের বাম্পার ফলন

ময়মনসিংহের নান্দাইলে সৌর বিদ্যুৎ সেচ প্রকল্পের মাধ্যমে ভূপৃষ্ঠের উপরিভাগের পানি ব্যবহার করে বোরো ধানের বাম্পার ফলন পেয়েছেন কৃষকরা। বিশেষ করে চরাঞ্চলে এ উদ্যোগ কৃষিতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনে দিয়েছে।

Location :

Mymensingh
নান্দাইলে সৌর বিদ্যুৎ সেচে বোরো ধানের বাম্পার ফলন
নান্দাইলে সৌর বিদ্যুৎ সেচে বোরো ধানের বাম্পার ফলন |নয়া দিগন্ত

ময়মনসিংহ অফিস ও নান্দাইল সংবাদদাতা

ময়মনসিংহের নান্দাইলে সৌর বিদ্যুৎ সেচ প্রকল্পের মাধ্যমে ভূপৃষ্ঠের উপরিভাগের পানি ব্যবহার করে বোরো ধানের বাম্পার ফলন পেয়েছেন কৃষকরা। বিশেষ করে চরাঞ্চলে এ উদ্যোগ কৃষিতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনে দিয়েছে।

সোমবার (৪ এপ্রিল) উপজেলার চরবেতাগৈর ইউনিয়নে ২০২৫-২৬ মৌসুমে ‘ক্লাইমেট স্মার্ট অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট (সিএসএডব্লিউএম)’ প্রকল্পের আওতায় (ডিএই পার্ট) স্থাপিত সৌর বিদ্যুৎ সেচ প্রকল্পের মাঠ প্রদর্শনীর ধান কাটা হয়।

এ বছর কৃষকরা ব্রি ধান-১০৮ জাতের ধান আবাদ করে উল্লেখযোগ্য ফলন পেয়েছেন। প্রতি একরে গড় ফলন হয়েছে প্রায় ৮০ মণ, যা হেক্টরপ্রতি প্রায় ৭.৮৫ মেট্রিক টন।

সরেজমিনে প্রকল্পভুক্ত কৃষক চন্দন শিকদার, সোহাগ মিয়া ও বাবুল মিয়া জানান, সৌরবিদ্যুৎ সেচ ব্যবস্থার ফলে সারা বছরই সহজে ধানসহ বিভিন্ন ফসল উৎপাদন করা যাচ্ছে। বিদ্যুতের লোডশেডিং বা জ্বালানির খরচের ঝামেলা নেই। শুষ্ক মৌসুমেও পানির সঙ্কট থাকে না। এতে খরচ কমেছে, উৎপাদন বেড়েছে এবং তাদের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে। এখন নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে অতিরিক্ত ফসল বিক্রি করে বাড়তি আয়ও করছেন তারা।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ নাঈমা সুলতানা জানান, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ক্রমাগত নিচে নেমে যাওয়া এবং ইরি-বোরো মৌসুমে বিদ্যুতের ঘাটতির কারণে কৃষকরা নানা সমস্যায় পড়েন। সৌর বিদ্যুৎ সেচ প্রকল্পের মাধ্যমে ভূপৃষ্ঠের পানি ব্যবহার করে এসব সমস্যা অনেকাংশে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি কৃষকরাও ব্যক্তি উদ্যোগে নদী, খাল, ডোবা ও নালার পাশে সৌর সেচ প্লান্ট স্থাপন করে সারা বছর ফসল উৎপাদন করতে পারেন।

জানা গেছে, উপজেলার চরাঞ্চল অধ্যুষিত চরবেতাগৈর ইউনিয়নে বর্তমানে দুটি সৌর বিদ্যুৎ সেচ প্রকল্প চালু রয়েছে, যার আওতায় প্রায় ৬০ জন কৃষক সরাসরি উপকৃত হচ্ছেন।

স্থানীয় কৃষকদের মতে, এ প্রকল্প শুধু উৎপাদন বাড়ায়নি, বরং কৃষকদের জীবনমানেও ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে। তারা এটিকে কৃষিখাতে একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন।