নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়ে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে।
মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুর ১২টার দিকে মদনগঞ্জে সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকায় এই ঘটনা ঘটে বলে জানান বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোস্তফা আশরাফ উদ্দিন।
নিহত ব্যক্তির নাম মো: জুয়েল হোসেন। ৪২ বছর বয়সী জুয়েল বন্দরের শান্তিনগর এলাকার তাজুল ইসলামের ছেলে।
হত্যার ঘটনায় জড়িত অভিযোগে দুজনকে আটক করা হয়েছে জানিয়ে ওসি বলেন, এলাকায় মাদক সেবন নিয়ে আগের দিন বিকেলে অভিযুক্তদের সাথে নিহত ব্যক্তির তর্ক হয়। এ তর্কের জেরে খুনের ঘটনাটি ঘটেছে বলে অভিযোগ নিহতের পরিবারের।
নিহতের ভাই সোহেল হোসেন বলেন, সোমবার বিকেলে স্থানীয় কয়েকজন যুবককে মাদক সেবনে বাধা দেয়ায় জুয়েলের সাথে তর্কে জড়ায় তারা। মাদকসেবী ওই যুবকরাই ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে কুপিয়ে জখম করে জুয়েলকে।
হামলার পর গুরুতর আহত জুয়েলকে তার স্বজনরা বন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানকার চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন বলে জানান বন্দরের ওসি।
পরে লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। নিহতের শরীরে বেশ কয়েকটি ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়ার কথাও জানান ওসি।
নিহত ব্যক্তি শীতলক্ষ্যা নদীতে বালু উত্তোলনের ইজারা পাওয়া এক ব্যক্তির কর্মী হিসেবে কাজ করতেন। ড্রেজার ব্যবসার জন্য নদীর পাড়ে একটি টিনের ঘরকে অফিস হিসেবে ব্যবহার করা হতো। ওই অফিসের পাশেই জুয়েলকে কোপানো হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ওসি আশরাফ উদ্দিন বলেন, ‘আগের দিন বিকেলে মাদকসেবী স্থানীয় কয়েকজন যুবকের সাথে তর্ক হয় জুয়েল ও তার এক বন্ধুর। এরই জেরে সন্ধ্যায় ওই যুবকরা জুয়েলের এলাকায় গিয়ে তাকে খুঁজেও আসে। তখন না পেলেও পরদিন দুপুরে নদীর পাড়ে অফিসের পাশে পেয়ে তাকে কুপিয়ে হত্যা করে।’
‘প্রাথমিক তদন্তে হামলায় জড়িত সীমান্ত ও সৈকতসহ স্থানীয় কয়েকজন যুবকের নাম উঠে এসেছে। তারা এলাকায় মাদক সেবন করে থাকে। ইতোমধ্যে আকাশ ও আশিক নামে দুজনকে পুলিশ আটক করেছে। হত্যার ঘটনায় জড়িত অপর ব্যক্তিদেরও চিহ্নিত করে গ্রেফতার করতে কাজ চলছে।’



