জুলাইয়ের তরুণরা নেপালি জেন-জির চেয়ে এগিয়ে

জুলাইয়ের বাংলাদেশী তরুণরা মূলত অধিকার-হারা ও নির্যাতিত রাজনৈতিক গোষ্ঠীর সদস্য। কৌশলগত কারণে তারা বিএনপি-জামায়াতের নাম নিয়ে আন্দোলনে আসতে পারেনি। পরে সংসদেও তারাই বিজয়ী হয়েছেন। বাংলাদেশের বিপ্লবী জেন-জিদের সাথে হাসিনা রেজিমের নির্মম নির্যাতনের শিকার রাজনৈকি দলগুলোর বিরোধ নেই। যেখানে নেপালি জেন-জিরা তাদের পুরনো রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিত্ব করেনি। বাংলাদেশে বিএনপি ও জামায়াতের নির্বাচনী বিজয়কে জুলাইয়ের জেন-জির বিপ্লব-পরবর্তী সফলতার ধারাবাহিকতা বলতে হবে। বাংলাদেশের জুলাই তরুণরা সব দিক দিয়ে নেপালি জেন-জির চেয়ে এগিয়ে

নেপালে গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী নির্বাচনে জেন-জি নেতৃত্বাধীন দল রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি-আরএসপি বিপুল বিজয় পেয়েছে। ২৭৫ আসনের জাতীয় সংসদে ১৮২টিতে জয়ী হয়েছে। আর দু’টি মাত্র আসন পেলে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে যেত। সেটি না হওয়ায় রাষ্ট্র শাসনে বড় সংস্কার আনতে পারবে না। প্রায় একই সময়ে বিপ্লব-উত্তর বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেন-জির প্রতিনিধি জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি মাত্র ছয়টি আসন পেয়েছে। নির্বাচনের ফল বাংলাদেশের জুলাই সংঘটনকারী তরুণদের সমালোচনার এক মহাসুযোগ এনে দিয়েছে। এই ফাঁকে তারা যে এক দানবীয় শাসন অবসানে অসাধ্য সাধন করেছে, তা ভুলিয়ে দেয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশী তরুণদের খোটা দেয়ার উদ্দেশ্যমূলক কাজটি করছেন ভারতীয় হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির মিত্র ও হাসিনা রেজিমের সমর্থকরা। এরা কেউ সংস্কৃতিসেবীর মুখোশ পরে, কেউ সাংবাদিকতার নামে, আবার কেউ সুশীল সমাজের অংশ হয়ে লক্ষ্য হাসিলে কাজ করছেন।

জুলাই বিপ্লবের প্রথম দিন থেকে এই তরুণদের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী, সন্ত্রাসী, উগ্রবাদী ও জঙ্গি তকমা দিতে সোচ্চার উপরিউল্লিখিত অংশটি। হন্যে হয়ে তারা এই তরুণদের দোষত্রুটি বের করার অপচেষ্টা চালিয়েছে। সরকারে থাকা ছাত্র উপদেষ্টাদের পান থেকে চুন খসলে তাদের রে রে করে উঠতে দেখা গেছে। স্থানীয় সরকার এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়ার দামি রেস্তোরাঁয় হাঁসের গোশত খাওয়া নিয়ে তুলকালাম করা হয়েছে। অভিজাত শ্রেণীর রেস্তোরাঁয় আসিফ মাহমুদের খাবার খাওয়া মানতে পারছেন না তারা। বিষয়টিকে তারা অপরাধতুল্য করে ফেলেছেন। এ জন্য রীতিমতো বিচার করে ফেলা হয়েছিল তার। অন্য ছাত্র উপদেষ্টাদের দুর্নীতি-অনিয়ম নিয়েও এ গোষ্ঠী হইচই করেছে। বাংলাদেশে অনিয়ম-দুর্নীতি একটি অতি সাধারণ বিষয়। হাসিনা রেজিমের বিরুদ্ধে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার পাচারের তথ্য পেয়েছে শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটি। এ ছাড়া গুম-খুন, বিচারহীনতার এক নরক বানিয়ে দিয়েছিল হাসিনা দেশকে। যারা ছাত্রদের দোষ-ত্রুটি বের করছেন, হাসিনার রেজিমের ভয়াবহ অপরাধ নিয়ে নিশ্চুপ তারা।

নেপালি আরএসপির বিজয়কে তুলনা করে এনসিপিকে হেয় করার সময় তারা কোনোভাবে বাংলাদেশে দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী শাসনের পটভূমি টেনে আনতে রাজি নন। মিডিয়া ও সুশীলদের মিলিত এ গোষ্ঠী বলতে চায়, নেপালের জেন-জিরা সৎ সাহসী ও বিচক্ষণ। তারা একটি মহান উদ্দেশ্য নিয়ে নেপালে গণঅভ্যুত্থান করেছে। অন্য দিকে, বাংলাদেশের তরুণদের মধ্যে লক্ষ্য উদ্দেশ্য নেই, তারা জানে না কেন অভ্যুত্থান করেছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশী তরুণদের নৈতিকভাবে ধসিয়ে দেয়ার মনস্তাত্ত্বিক অপচেষ্টা যখন চালানো হচ্ছে, তখন পুরোপুরি আড়াল করা হচ্ছে দুই দেশের অভ্যুত্থান-পূর্ববর্তী প্রাসঙ্গিক ইতিহাস। নেপাল ও বাংলাদেশ দুই দেশের সংঘটিত অভ্যুত্থান বাস্তবতায় আছে আকাশ-পাতাল তফাৎ।

নেপালে দীর্ঘ ২৪০ বছরের রাজতন্ত্রের অবসান হয় ২০০৮ সালে। এর পর ১৭ বছরে ১৪ বার দেশটির সরকার পরিবর্তন হয়েছে। ১৫তম সংসদ গঠন করেছে জনপ্রিয় র‌্যাপার জেন-জির প্রতিনিধি বলেন্দ্র শাহের আরএসপি। এর মধ্যে দেশটি পালাক্রমে শাসন করেছে নেপালের প্রধান তিনটি রাজনৈতিক দল। তিনটি দলই জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে। এ দলগুলো যে অনেকটা দেউলিয়া হয়ে গেছে, অপরীক্ষিত অনভিজ্ঞ তরুণদের কাছে তাদের ভূমিধস পরাজয় তা প্রমাণ করে। সাবেক প্রধানমন্ত্রীসহ গুরুত্বপূর্ণ দফতরের মন্ত্রী-পর্যায়ের দায়িত্ব পালনকারী হেভিওয়েট প্রার্থীরা তরুণদের কাছে বিপুল ভোটের ব্যবধানে হেরেছে। এ নির্বাচনে নেপালি কংগ্রেস ৩৮টি আসন, কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপাল ২৫টি এবং মাওবাদী কমিউনিস্ট পার্টি ১৭টি আসন পায়। এসব দলকে দেশটির মানুষ যথার্থভাবে চেনে। সরকারে থাকার সময় নেতাদের কৃতকর্ম নেপালের জনগণের জানা আছে। এই রাজনৈতিক নেতারা তাদের বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছেন।

অন্য দিকে, বাংলাদেশে একই সময় অর্থাৎ- ২০০৯ সাল থেকে চলেছে পীড়নমূলক এক শাসন। প্রথমে শেখ হাসিনা স্বৈরাচারী দেশ শাসন করলেও ক্রমে তার শাসন হয়ে উঠেছিল ফ্যাসিবাদী চরিত্রের। বিরোধী মতকে তিনি শুধু গলাটিপে ধরেননি, নিষ্ঠুরভাবে হাওয়া করে দিয়েছেন। নেপালের বিরোধী দলগুলো যখন তাদের পুরো রাজনৈতিক অধিকার ভোগ করছিল, তখন বাংলাদেশের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো তাদের সব ধরনের গণতান্ত্রিক অধিকার হারায়। সভা-সমাবেশ করতে বাধা দেয়া হয়। রাস্তায় দাঁড়িয়ে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধকে অপরাধ গণ্য করা হয়। ঘরোয়া পরিবেশে আয়োজিত কর্মকাণ্ডও তারা চালাতে পারেনি। এগুলোকে জঙ্গিবাদ, নাশকতা বলে নির্দয়ভাবে দমন করা হয়েছে। এ কারণে বাংলাদেশের বিরোধী দলের প্রতি মানুষের সহানুভূতি বেড়েছে। তাদের ওপর আস্থা হারানোর কোনো প্রসঙ্গ ছিল না। আর উল্টোটি ঘটেছিল নেপালের বিদ্যামান রাজনৈতিক দলগুলোর বেলায়।

হাসিনার শাসন ফ্যাসিবাদ হয়ে ওঠার অন্যতম কারণ ছিল বিরোধীদের জন্য প্রতিকার পাওয়ার সব রকমের পথ তিনি বন্ধ করে দিয়েছিলেন। আদালত ছিল হাসিনার ই”চ্ছা পূরণের হাতিয়ার। কাকে দণ্ড দেয়া হবে, সেটি ছিল একান্ত হাসিনার ইচ্ছা। এ কারণে বিরোধী রাজনীতিকরা বিচারিক হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। বিএনপি-জামায়াতের প্রথম সারির ছয় নেতাকে যুদ্ধাপরাধের বানোয়াট মামলায় ফাঁসিতে ঝুলানো হয়। একই মামলায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত কনডেমড সেলে থাকা জামায়াতের শীর্ষস্থানীয় নেতা এ টি এম আজহারুল ইসলাম বিপ্লবের পর মুক্তি পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে এসেছেন। এবারের সংসদে হাসিনার ফ্যাসিবাদী শাসনের জ্বলন্ত উদাহরণ হয়ে আরো অনেকে নির্বাচিত হয়ে এসেছেন।

এই ক্যাঙ্গারু কোর্টে বিচারে ফাঁসি হওয়া বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পুত্র হুম্মাম কাদের চৌধুরী, এ আদালতের বিচারে ফাঁসি হওয়া জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলীর পুত্র ব্যারিস্টার আরমান নির্বাচিত হয়েছেন। হুম্মাম নিজে দীর্ঘদিন গুম ছিলেন। অন্যদিকে, বিপ্লবের পর ডিজিএফআইয়ের আয়নাঘর থেকে মুক্তি মেলে আরমানের। ক্যাঙ্গারু কোর্টে বিচারে ফাঁসি হওয়া জামায়াতের সাবেক আমির মতিউর রহমান নিজামীর ছেলে ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন এ সংসদে নির্বাচিত হয়ে এসেছেন। গুম হয়ে যাওয়া বিএনপির জনপ্রিয় নেতা ইলিয়াস আলীর সহধর্মিণী তাহসিনা লুনা, ১৫ আগস্ট গ্রেনেড হামলার সাজানো মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আবদুস সালাম পিন্টু ও লুৎফুজ্জামান বাবর নির্বাচিত হয়ে এসেছেন। বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ সদস্য নির্যাতিত রাজনৈতিক নেতা ও তাদের সন্তানদের নজিরবিহীন এক সম্মিলন ঘটিয়েছে। এ সংসদে নির্বাচিত হয়ে আসা সদস্যদের বৈশিষ্ট্য বিবেচনা করলে হাসিনা রেজিমের ভয়াবহ চিত্র উদ্ভাসিত হয়। জুলাইয়ে বাংলাদেশের জেন-জিরা এদের প্রতিনিধিত্ব করেছে। তাদের বিএনপি জামায়াতের বাইরে গিয়ে ভূমিধস বিজয় পাওয়ার কোনো পরিস্থিতি নেই। যে কারণে তারা ৩০টি আসনে তাদের নিজেদের প্রার্থী দিয়েছিল। বাকি আসনগুলোতে তাদের জোটকে সমর্থন দিয়েছে।

নেপালের তরুণদের সফলতাকে বড় করে তুলে ধরে এ দেশের জেন-জিদের দোষ-ত্রুটি ও ব্যর্থতা যারা চাউর করছেন, তারা মূলত হাসিনার নিষ্ঠুর শাসনকে ভুলিয়ে দিতে চান। এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাদের মানুষ বাছাই করেছে, যারা হাসিনার কোপানলে পড়েছেন। হাসিনার নির্যাতনের শিকার বিএনপি-জামায়াতের প্রায় সব প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। যেখানে প্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্রার্থী হাসিনার নিষ্পেষণের শিকার হয়েছেন, সেখানে যিনি বেশি নির্যাতিত হয়েছেন কিংবা সরাসরি নিগৃহীত হয়েছেন, তাকে বাছাই করে নিয়েছেন ভোটাররা। ঢাকা-১৪ আসনে বিএনপি ও জামায়াতের উভয় প্রার্থী হাসিনার রেজিমের শিকার। এ ক্ষেত্রে ব্যারিস্টার আরমান ছিলেন সরাসরি গুমের শিকার। তিনি দীর্ঘ আট বছর আয়নাঘরে একটি ছয় ফুট বাই ছয় ফুট সেলে বন্দী ছিলেন। এ সময় সূর্যের আলো দেখতে পাননি তিনি। অন্য দিকে বিএনপির প্রার্থী সানজিদা খাতুন তুলি নিজে এর শিকার নন, তবে তার ভাই গুম হয়েছেন। এর পর গুমের বিরুদ্ধে তিনি ‘মায়ের ডাক’ নামে একটি সফল আন্দোলন গড়ে তোলেন। দু’জনে জোর প্রতিযোগিতা গড়ে তুললেও আরমান জিতে যান। এখানে বিপ্লবের তরুণ নেতা এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের চেয়ে আরমান এবং তুলিকে মানুষ নিঃসন্দেহে বেশি পছন্দ করত। হাসিনা রেজিমের নিষ্ঠুর বর্বরতার দীর্ঘ পটভূমি সামনে না এনে নেপালে জেন-জির বিজয়কে বাংলাদেশের জুলাইয়ের তরুণদের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়-পরাজয় তুলনা করা অসততা বৈ অন্য কিছু নয়।

বাংলাদেশের জুলাই তরুণরা নেপালের জেন-জিদের চেয়েও বেশি লড়াকু এবং বড়দাগে সফল। ‘একটি মারলে একটি যায়, বাকিডি যায় না’- ঢাকার কসাই তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামালের কাছে এক পুলিশের মন্তব্য থেকে তার প্রমাণ মেলে। জুলাইতে বাংলাদেশী তরুণদের প্রশিক্ষিত একটি আধাসামরিক বাহিনীকে মোকাবেলা করতে হয়েছে। এমনকি তাদের সামরিক বাহিনীর একটি অংশকেও মোকাবেলা করতে হয়েছে। সরাসরি যুদ্ধে ব্যবহৃত হয় এমন অস্ত্র তরুণদের বিরুদ্ধে প্রয়োগ করা হয়েছে। হাসিনা ওই সময় শত শত স্নাইপার নিয়োগ দিয়েছিলেন। উড়োজাহাজ থেকেও গুলি ও গ্রেনেড ছুড়া হয়েছে। এমনকি তরুণদের দমনে হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হয়েছে। জুলাইয়ের ৩৬ দিনে দেড় হাজার তরুণের প্রাণহানি, ৩০ হাজার গুরুতর অঙ্গহানি এবং যখম ও আহত হয়েছে। নেপালে হয়েছিল দুর্নীতি-বিরোধী সরকার পতনের আন্দোলন। ওই সময় পরিচালিত বিক্ষোভে ৫৯ জন প্রাণ হারায়, আহত হয় ১৩০০ জন। নেপালের তরুণ বিক্ষোভকারীদের বাংলাদেশের মতো খুনি হাসিনার ভয়াবহ বাহিনীর মোকাবেলা করতে হয়নি।

বাংলাদেশের জুলাই তরুণদের ব্যর্থ বলার সময় কেবল নির্বাচনী ফল সামনে রাখা হচ্ছে। এর পেছনের বাদবাকি সব কিছু আড়াল করা হচ্ছে। অথচ জুলাইয়ের তরুণরা এসেছিল রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি হয়ে। তারা মূলত হাসিনার ভয়াবহ নিষ্ঠুরতার শিকার বিএনপি-জামায়াতের সর্বশেষ প্রজন্ম জেন-জি। বিএনপি ও জামায়াতের নাম নিলে হাসিনার বাহিনী থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায় ছিল না। আন্দোলনে নেমে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের কী অবস্থা হয়েছিল, তা সবার জানা। তাদের ধানক্ষেত, বনে-জঙ্গলে রাত যাপন করতে হয়েছে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা কোন পর্যায়ে গিয়েছিল, সেই সময়ে বিরোধী নেতাদের বিরুদ্ধে মামলার বহর থেকে সেটি অনুমেয়।

বিএনপি নেতা হাবিব উন নবী খান সোহেলের বিরুদ্ধে সাড়ে ৪০০, যুবদল নেতা সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর বিরুদ্ধে ৩১৭টি, এভাবে দলটির শীর্ষ ও জেলাপর্যায়ের নেতাদের একেকজনের বিরুদ্ধে শত শত মামলা দেয়া হয়েছিল। যারা কারাগারের বাইরে ছিলেন তাদেরও দিন কাটতো আদালতের বারান্দায়। সব মিলিয়ে হাসিনা রেজিম বিএনপির নেতাকর্মীদের নামে দেড় লাখ মামলা দিয়েছিল। আসামি ছিলেন ৪০ লাখ।

জামায়াতের বিরুদ্ধে হাসিনা রেজিমের অত্যাচার ছিল আরো ভয়াবহ। দলটির শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে একই ধরনের শত শত মামলা দেয়া হয়েছে। তাদের রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতনের এক নতুন ইতিহাস সৃষ্টি হয়েছে। জামায়াতের সাথে সংশ্লিষ্টদের তখন মাসব্যাপী রিমান্ড দেয়া হতো। তাদের জীবনও কেটেছে কারাগারে। আদালতের কাঠগড়ায়। বিএনপির লোকদের সেই সময় অন্তত প্রাণের মূল্য ছিল। জামায়াত নেতাকর্মীদের প্রাণেরও মূল্য ছিল না। মানবাধিকার সংগঠন অধিকারের হিসাবে হাসিনার শাসনে দুই হাজার ৬৯৯ জন বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হয়েছেন। দল ছোট হলেও বিএনপির চেয়ে জামায়াত বেশি বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হয়েছে।

জুলাইয়ের বাংলাদেশী তরুণরা মূলত অধিকার-হারা ও নির্যাতিত রাজনৈতিক গোষ্ঠীর সদস্য। কৌশলগত কারণে তারা বিএনপি-জামায়াতের নাম নিয়ে আন্দোলনে আসতে পারেনি। পরে সংসদেও তারাই বিজয়ী হয়েছেন। বাংলাদেশের বিপ্লবী জেন-জিদের সাথে হাসিনা রেজিমের নির্মম নির্যাতনের শিকার রাজনৈকি দলগুলোর বিরোধ নেই। যেখানে নেপালি জেন-জিরা তাদের পুরনো রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিত্ব করেনি। বাংলাদেশে বিএনপি ও জামায়াতের নির্বাচনী বিজয়কে জুলাইয়ের জেন-জির বিপ্লব-পরবর্তী সফলতার ধারাবাহিকতা বলতে হবে। বাংলাদেশের জুলাই তরুণরা সব দিক দিয়ে নেপালি জেন-জির চেয়ে এগিয়ে।

লেখক : সহকারী সম্পাদক, নয়া দিগন্ত