আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ : জনমতের প্রতিধ্বনি

ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রাজনীতিতে সরকারের এ সিদ্ধান্ত প্রভাব ফেলবে। আওয়ামী রাজনৈতিক শূন্যতায় বর্তমান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী বিকল্প শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক গোলাম মাওলা রনি। যেহেতু আওয়ামী লীগ বাম ধারাকে আংশিকভাবে হলেও ধারণ করত, সে ক্ষেত্রে বাম ধারার উত্থান চেষ্টাও দেখা যেতে পারে। তবে নির্দ্বিধায় বলা যায়, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে সরকারের সফলতা ও ব্যর্থতার ওপর

দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে আওয়ামী লীগ গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়জুড়ে আছে। মুসলিম লীগের গণবিরোধী ভূমিকার কারণে আওয়ামী লীগের সৃষ্টি। আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব পূর্ব বাংলার জনগণের দুঃখ-কষ্ট ও ক্ষোভ যথার্থভাবে উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়। ১৯৬৬ সালে ঘোষিত ৬ দফাকে বাঙালির মুক্তির সনদ বলে প্রচার করা হয়। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে এ অঞ্চলের জনগণের নিরঙ্কুশ সমর্থনে আওয়ামী লীগ বিজয় অর্জন করে। এই নির্বাচনের মাধ্যমে মূলত পাকিস্তানি জনগণের মনস্তাত্ত্বিক ভাঙন নিশ্চিত হয়। অপেক্ষা ছিল শুধু সময় ও সুযোগের। পাকিস্তানের নির্বোধ সেনা নেতৃত্ব ২৫ মার্চ এর হত্যাযজ্ঞের মধ্য দিয়ে পাকিস্তানের কবর খোঁড়া শুরু করে। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ আত্মপ্রকাশ করে। এসব অর্জনের জন্য অবশ্যই আওয়ামী লীগ ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য; কিন্তু আওয়ামী লীগ ক্ষমতাসীন হলে তাদের শাসনকাল দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, লুটপাট ও সন্ত্রাস দ্বারা চিহ্নিত হয়। গণতন্ত্রের কথা বলে যারা পাকিস্তানের ২৩ বছর সংগ্রাম করেছে, তারা অবশেষে বাকশাল কায়েমের মাধ্যমে গণতন্ত্রের অবসান ঘটায়। ১৯৭৫ সালের মধ্য আগস্টের ঘটনাবলির পর ক্ষমতায় ফিরে আসতে আওয়ামী লীগের ২১ বছর লেগে যায়। ইসলাম ও জাতীয়তাবাদী শক্তিকে ছলে-বলে-কলে-কৌশলে বিভক্ত করে তারা নির্বাচনী বৈতরণী পার করে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলেন যে, ওই বিভক্তি না হলে বাংলাদেশের মাটিতে মুসলিম লীগের ভাগ্য বরণ করত আওয়ামী লীগ। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ আবারও ক্ষমতায় ফিরে আসে। জনগণের ভোটে নয়। ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে। লন্ডনের দ্য ইকোনমিস্ট-এর ভাষ্য অনুযায়ী, ‘বস্তা বস্তা ভারতীয় টাকা এবং রণকৌশলে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনা হয়।’ আওয়ামী লীগ জনগণের ভোটে নির্বাচিত হওয়ার কোনো সম্ভাবনাই ছিল না। তাই তারা ক্ষমতা চিরস্থায়ী করার জন্য জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে অর্জিত তত্ত্বাবধায়কব্যবস্থা বাতিল করে। পরের ইতিহাস সবারই জানা। ২০২৪-এর ভোটারবিহীন নির্বাচন, ২০১৮-এর নিশিথ রাতের নির্বাচন এবং অবশেষে ২০২৪ সালের আমি-ডামির নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ নির্বাচনব্যবস্থা বিপর্যস্ত করে। দীর্ঘ ১৭ বছরে জনগণের অনেক রক্তপাত ঘটলেও রাজনৈতিক দলগুলো আওয়ামী লীগকে ক্ষমতাচ্যুত করতে ব্যর্থ হয়।

২০২৪-এ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বে আপামর জনগণের রক্তাক্ত অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে পতিত শেখ হাসিনা পলায়ন করেন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। তাদের প্রধান দায়িত্ব ছিল তিনটি। প্রথমত, আওয়ামী স্বৈরাচারের বিচার, দ্বিতীয়ত, প্রত্যাশিত রাষ্ট্র সংস্কার এবং তৃতীয়ত, একটি অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠা। আওয়ামী নেতৃত্ব ভারত থেকে জনগণের বিরুদ্ধে অব্যাহত ষড়যন্ত্র চালিয়ে যায়। মানুষের ওপর বেপরোয়া হামলা-মামলা, অন্যায়-অত্যাচার ও গুম-খুনের জন্য তারা কখনোই অনুতাপ করেনি। নির্বাচন বানচাল করার জন্য তারা নানা ধরনের অন্তর্ঘাতমূলক ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালায়। জনরোষের কারণে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আওয়ামী লীগের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রাখে। এখন জনগণের নিরঙ্কুশ রায়ে প্রতিষ্ঠিত বিএনপি সরকার, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ঘোষিত অধ্যাদেশকে আইনে পরিণত করে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম বেআইনি ঘোষণা করেছে। এই প্রেক্ষাপটে সাম্প্রতিক আইনগত ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক বিকাশ, রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও আইনের শাসনের আলোচনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারিকৃত অধ্যাদেশ, যেখানে ‘কোনো ব্যক্তি বা সত্তাকে নিষিদ্ধ ও তাদের যাবতীয় কার্যক্রম বন্ধ করার’ বিধান রাখা হয়েছিলÑ তা এখন সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) বিল, ২০২৬ হিসেবে জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। এর মাধ্যমে মূলত সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯-এর একটি কাঠামোগত সম্প্রসারণ ঘটানো হয়েছে, যা রাষ্ট্রকে একটি সংগঠনকে ‘সন্ত্রাসী সত্তা’ হিসেবে ঘোষণা করে তার সবধরনের সাংগঠনিক ও প্রচারণামূলক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার ক্ষমতা দেয়।

এখানে লক্ষণীয় যে, এই আইনে নতুন কোনো মৌলিক বিধান সংযোজন করা হয়নি; বরং অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশটিরই স্থায়ী আইনি রূপ দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ, এটি একটি নীতিগত ধারাবাহিকতা (policy continuity) বজায় রাখার প্রয়াস।

এই আইনের আওতায় শুধু সংগঠন নিষিদ্ধই নয়, বরং সংশ্লিষ্ট সংগঠনের পক্ষে বা সমর্থনে যেকোনো ধরনের বক্তব্য, গণমাধ্যমে প্রচারণা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কার্যক্রম, এমনকি সভা-সমাবেশ বা জনসমক্ষে বক্তব্য প্রদানও নিষিদ্ধ করার বিধান রাখা হয়েছে। ফলে এটি শুধু একটি রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা নয়; বরং একটি সর্বাত্মক সাংগঠনিক নিষ্ক্রিয়তা আরোপের আইনি কাঠামো।

রাজনৈতিক তত্ত্বের আলোকে বিষয়টি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বনাম নাগরিক স্বাধীনতার মধ্যকার চিরায়ত দ্বন্দ্ব এখানে আবারও সামনে এসেছে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী কার্ল স্মিট (Carl Schmitt) ÔexceptionÕ-এর ধারণায় বলেছিলেন, সঙ্কটময় পরিস্থিতিতে রাষ্ট্র নিজেকে রক্ষার জন্য ব্যতিক্রমী ক্ষমতা প্রয়োগ করে। বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে সরকার সেই ব্যতিক্রমী ক্ষমতাকে আইনি কাঠামোর ভেতরে স্থায়ী রূপ দিতে চেয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়।

সরকারপক্ষ এই সিদ্ধান্ত ‘জনমতের প্রতিফলন’ হিসেবে ব্যাখ্যা করছে। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভীর বক্তব্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সহিংসতা ও জনরোষের পরিপ্রেক্ষিতে এই নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা হয়েছে। তার যুক্তি, যদি গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন বা দমন-পীড়নের অভিযোগে অভিযুক্ত একটি দলকে অবাধ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ দেয়া হয়, তবে তা বিশ্বব্যাপী স্বৈরশাসনের বৈধতা দেয়ার শামিল হবে।

অন্য দিকে আইনি বিশ্লেষকদের একটি অংশ এই পদক্ষেপকে ভবিষ্যতের জন্য একটি ঝুঁকিপূর্ণ নজির হিসেবে দেখছেন। সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী শাহদীন মালিক মনে করেন, কোনো দলের সদস্যদের অপরাধের দায় পুরো সংগঠনের ওপর চাপিয়ে তার কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হলে ভবিষ্যতে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার হাতিয়ার হিসেবে এই আইন ব্যবহৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। তার মতে, এটি একটি collective liability-এর ঝুঁকি সৃষ্টি করে, যা আধুনিক গণতান্ত্রিক আইনের সাথে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক সমাজতত্ত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা হলো-institutional trust বা প্রাতিষ্ঠানিক আস্থা। যখন রাষ্ট্র কোনো রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করে, তখন সেটি কেবল একটি দলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নয়; বরং পুরো রাজনৈতিক ব্যবস্থার ওপর নাগরিকদের আস্থার প্রশ্নও জড়িয়ে পড়ে। যদি জনগণ মনে করে আইনটি ন্যায়বিচারের জন্য নয়; বরং রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে, তাহলে দীর্ঘমেয়াদে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান দুর্বল হতে পারে।

তবে বিপরীত যুক্তিও রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাহবুব উল্লাহ মনে করেন, যদি কোনো সংগঠনের বিরুদ্ধে গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ বা রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুণ্ঠনের মতো গুরুতর অভিযোগ থাকে, তবে সেই সংগঠনের রাজনৈতিক অধিকার সীমিত করা রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে। এটি প্রতিশোধ নয়; বরং accountability-এর প্রাতিষ্ঠানিক রূপ।

এখানে আরেকটি বাস্তব রাজনৈতিক মাত্রা উপেক্ষা করা যায় না। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সৃষ্ট রাজনৈতিক ভারসাম্যে একটি শক্তিশালী বিরোধী শক্তির অনুপস্থিতি নিয়ে ইতোমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করেন, নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকলে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা (political competition) সীমিত হতে পারে, যা গণতন্ত্রের মৌলিক উপাদানকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। আবার অন্য একটি মত হলো, বর্তমান জনমত এতটাই তীব্র যে, এই মুহূর্তে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করলে রাজনৈতিক অস্থিরতা আরো বাড়তে পারে।

অতএব, প্রশ্নটি শুধু ‘দায়’ বা ‘অভিযোগ’-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি রাষ্ট্রের চরিত্র, আইনের শাসন, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং রাজনৈতিক বাস্তবতার এক জটিল আন্তঃসম্পর্কের প্রতিফলন। ইতিহাস সাক্ষী, কোনো রাজনৈতিক শক্তিকে প্রশাসনিকভাবে নিষিদ্ধ করা গেলেও সামাজিক ভিত্তি নির্মূল করা যায় না; বরং দীর্ঘমেয়াদে সেই শক্তি নতুনরূপে, নতুন কৌশলে ফিরে আসার সম্ভাবনা থেকেই যায়। এ ধরনের ব্যবস্থাকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলার কৌশল বলে অভিহিত করা হয়। আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হওয়ায় অভ্যন্তরীণ ও বহিঃস্থ প্রতিক্রিয়া স্বাভাবিক। আওয়ামী লীগের একটি অংশ সন্ত্রাসের পথ বেছে নিতে পারে। অন্য দিকে বৃহৎ অংশ নিষ্ক্রিয় ও নিষ্প্রভ হয়ে পড়বে। বাংলাদেশের জনচরিত্র সম্পর্কে যারা খোঁজখবর রাখেন তারা জনমনস্তত্ত্বের সুবিধাবাদী চরিত্রের দিকেও নজর দেন। নিকটের প্রতিবেশী এবং সুদূরের রাষ্ট্রশক্তি অবশ্য আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের ঘোষণা সহজভাবে নেবে না। গত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিরাট অংশ বিএনপিকে প্রকাশ্যে সমর্থন দিয়েছে। নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগের লোকেরা দুই-চার জায়গায় অফিস খোলার চেষ্টা করেছে। মজার বিষয়, যে বিএনপিকে তারা সমর্থন দিয়েছে, তারাই আবার অফিস বন্ধ করেছে। এখন আইনগতভাবে তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হয়ে গেল। আওয়ামী লীগের লোকেরা বিকল্প রাজনৈতিক উপায় তালাশ করবে এটাই স্বাভাবিক। গত কয়েক মাসে যে আলাপচারিতা গণমাধ্যমে এসেছে তাতে বোঝা যাচ্ছিল যে, শেখ পরিবারের বাইরে থেকে একটি নেতৃত্ব বেরিয়ে আসবে। বিশুদ্ধ আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠার নামে সাবের হোসেন চৌধুরীর কার্যক্রম ক্ষাণিকটা প্রকাশ পেয়েছিল। কেউ কেউ তাজউদ্দীন তনয় সোহেল তাজের কথা বলছিল। পরে তাদের কোনো কার্যক্রম দেখা যায়নি। তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল মনে করে অদূরভবিষ্যতে ভিন্ন নামে ভিন্ন ধামে আওয়ামী লীগ সংগঠিত হওয়ার প্রয়াস পাবে। তবে ভারতের সাথে যদি বাংলাদেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়ে আসে, তাহলে ভারতে অবস্থানকারী আওয়ামী নেতৃত্ব ক্রমেই হতাশ ও নিরুপায় হয়ে পড়বে। সময়ান্তরে আওয়ামী লীগ তাদের গণবিরোধী ভূমিকার জন্য জনগণের মন থেকে একেবারেই বিদায় নেবে।

ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রাজনীতিতে সরকারের এ সিদ্ধান্ত প্রভাব ফেলবে। আওয়ামী রাজনৈতিক শূন্যতায় বর্তমান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী বিকল্প শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক গোলাম মাওলা রনি। যেহেতু আওয়ামী লীগ বাম ধারাকে আংশিকভাবে হলেও ধারণ করত, সে ক্ষেত্রে বাম ধারার উত্থান চেষ্টাও দেখা যেতে পারে। তবে নির্দ্বিধায় বলা যায়, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে সরকারের সফলতা ও ব্যর্থতার ওপর।

লেখক : অধ্যাপক (অব:), সরকার ও রাজনীতি বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

[email protected]