আজ ২৬ মার্চ, স্বাধীনতার ৫৫ বছর পূর্তির দিন। বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনায় উদযাপন করা হচ্ছে গৌরবময় দিনটি। স্বৈরাচারমুক্ত পরিবেশে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত একটি সরকারের অধীনে দীর্ঘকাল পর উদযাপন হচ্ছে মহান স্বাধীনতার এই দিন। এ উপলক্ষে বিশেষ কর্মসূচি নিয়েছে সরকার। কর্মসূচি নিয়েছে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি, সংসদে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দল। রাষ্ট্রাচারের অংশ হিসেবে জামায়াতের পক্ষ থেকে বিরোধীদলীয় নেতাও এবার সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন, মহান আল্লাহর দরবারে তাদের রূহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া করবেন।
দেশের সামাজিক, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান, সংগঠনও নানা আয়োজনে দিবসটি পালন করছে। এর ফলে দেশের বৃহত্তর গণমানুষ নানা পর্যায়ে এই দিনটির সাথে একাত্ম হচ্ছে। অনেকে শুধু টেলিভিশনে আয়োজিত অনুষ্ঠানমালা দেখেও দিনটির সাথে মানসিকভাবে একাত্ম হন। পত্র-পত্রিকার বিশেষ সংখ্যাও অনেকের মনোযোগ কাড়ে। তবে গ্রামেগঞ্জে সাধারণ জনগণকে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানমালায় সম্পৃক্ত করা কতটা সম্ভব হচ্ছে, বলা মুশকিল।
একটি জাতির ইতিহাসে ৫৫ বছর খুব দীর্ঘ সময় না হলেও একেবারে কমও নয়। বহু জাতি স্বাধীনতার পর এর চেয়ে কম সময়ে সমৃদ্ধির শিখর ছুঁয়েছে। প্রায় একই সময়ে স্বাধীন হওয়া দেশগুলো কিংবা প্রায় একই রকম আর্থসামাজিক অবস্থার দেশগুলোর মধ্যে অনেকে প্রভূত উন্নতি করেছে। যেমন— সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়া। এরা কেবল অর্থনৈতিক উন্নয়নই ঘটায়নি, সুশাসনও প্রতিষ্ঠা করেছে। গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে পেরেছে। আমরা কোনোটিই পারিনি। এই ব্যর্থতা আমাদের জনগণের নয়। জনগণের মধ্যে জাতিসত্তাগত উপলব্ধির লক্ষণীয় বিকাশ ঘটেছে। তারা নিজেদের জাতিগত, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য অক্ষুণ্ন রেখে জাতীয় জীবন এগিয়ে নিতে চায়। সমস্যা মূলত রাজনীতিকদের মধ্যে। তারা যা বলেন, বাস্তবে তা থেকে অনেক দূরে থাকেন। গণতন্ত্রের নামে বারবার স্বৈরতন্ত্র কায়েমের হঠকারিতা আমরা দেখেছি।
বাংলাদেশের স্বাধীনতার চেতনা ছিল শোষণ-নিপীড়নমুক্ত অবাধ মুক্ত গণতান্ত্রিক সমাজ গড়ে তোলা। এ জন্য মানুষ রক্ত দিয়েছে। কিন্তু স্বাধীনতার পর ক্ষমতাসীনরা গণতন্ত্রের গলা কেটে স্বৈরতন্ত্রের পথ বেছে নেয়। আর গত ১৭ বছরেও আমরা সেই একই পথ অনুসরণ করতে দেখেছি। তারা নির্বাচনব্যবস্থা ধ্বংস করে এবং গণতন্ত্র চর্চার পথ পুরোপুরি রুদ্ধ করে কার্যত গণতন্ত্রের কবর রচনা করে। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে সেই অবস্থার পরিবর্তন হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের আয়োজিত সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেয়। এখন স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষার বাস্তব রূপায়ণের সময়।
আমরা স্বাধীনতার ৫৫ বছর পূর্তির এই দিনে স্বাধীনতার স্বপ্ন বাস্তবায়নকারী শহীদদের স্মরণ করি। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। আশা করি, দেশে পূর্ণ গণতান্ত্রিক চেতনার বিকাশ হবে। পরিপূর্ণ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও সমাজ গড়ে তোলার প্রচেষ্টা নেয়া হবে। দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে রাজনীতিকরা অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নেবেন এবং ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দল পরস্পর পূর্ণ সহযোগিতা ও সমঝোতার মানসিকতা নিয়ে দেশকে উন্নয়ন এবং সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যাবেন।
মনে রাখতে হবে, বাইরের প্রভাব বা আধিপত্য মেনে নিয়ে সার্বভৌমত্বের সাথে আপসের পরিণতি কারো জন্য শুভ হয় না। ভবিষ্যতেও হবে না।



