ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ঢেলে সাজানো

ঢাকাবাসীকে স্বস্তি দিন

ঢাকার যানজট নিরসনে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, যেমন— উন্নয়ন বিকেন্দ্রীকরণ দরকার, তেমনি এ নগরীর গণপরিবহন ব্যবস্থায় আধুনিকায়ন করাও জরুরি হয়ে পড়েছে। বিষয়গুলো আমলে নিয়ে যানজট নিরসনে ব্যবস্থা নিতে হবে।

যানজটে ঢাকাবাসীর দুর্ভোগের যেন শেষ নেই। কে, কখন, কোথায় যানজটে আটকা পড়বেন— কেউ তা বলতে পারেন না। অতীতের সরকারগুলো রাজধানীর যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে; কিন্তু যানজট থেকে মানুষের মুক্তি মেলেনি। সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারও রাজধানীর যানজট নিরসনে উদ্যোগ নিয়েছিল; কিন্তু তা ফলপ্রসূ হয়নি। এখন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজধানীর যানজট নিরসনে ট্রাফিকব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছেন। সচিবালয়ে গত মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে এ সংক্রান্ত এক বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বেশ কিছু সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। যার মধ্যে রয়েছে— ট্রাফিক সিগন্যালগুলো দেশীয় পদ্ধতিতে অটোমেশনের ব্যবস্থা করা। ঢাকা শহরের চারপাশে নতুন বাইপাস সড়ক এবং শহরের ভেতরে ওভারপাস ও আন্ডারপাস নির্মাণ। ঢাকা শহর থেকে যত্রতত্র বাস কাউন্টার অপসারণ। অতি দ্রুত ঢাকা মহানগরের ভেতরে থাকা পাঁচটি আন্তঃজেলা বাসটার্মিনাল সরিয়ে শহরের বাইরে স্থাপন। রাস্তার দু’পাশের সড়ক দখলমুক্ত করা। রাস্তার ভেতরে থাকা বিদ্যুতের খুঁটি সরিয়ে ফেলা। ঢাকা শহরের ভেতরে রেলক্রসিংয়ে ম্যানুয়াল ব্যবস্থার পাশাপাশি অটো সিগন্যাল লাইটিং সিস্টেম চালু করা এবং সিটি বাসকে জিপিএস সিস্টেমের আওতায় আনা।

বিশ্বের বৃহত্তম নগরীগুলোর একটি ঢাকা। জাতিসঙ্ঘের হিসাব মতে, রাজধানীতে বসবাসরত মানুষের সংখ্যা প্রায় তিন কোটি ৬৬ লাখ। ঢাকামুখী মানুষের স্রোত দিন দিন শুধু বাড়ছে। এমতাবস্থায় এই শহরের যানজট নিরসনে সরকারের গৃহীত এসব পদক্ষেপ কতটুকু কাজে দেবে— সে প্রশ্ন থেকেই যায়। তাই সরকারকে রাজধানীমুখী জনস্রোত থামাতে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ঢাকার উপর জনচাপ কমাতে এর বিকেন্দ্রীকরণ দরকার। বেশির ভাগ মানুষ প্রতিনিয়ত কাজের তাগিদে ঢাকায় থাকতে বাধ্য হন। তাই কর্মসংস্থান শুধু ঢাকাকেন্দ্রিক না করে বিভাগীয় শহরেও ছড়িয়ে দিতে হবে। বিভাগীয় ও জেলা শহরে পরিকল্পিতভাবে শিল্প-কারখানা গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।

ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থা অত্যন্ত নাজুক। যাত্রীবাহী বাসে উঠে কোনো স্থানে ভালোভাবে চলাফেরা করা রীতিমতো কষ্টসাধ্য। অতীতের সরকারগুলো ঢাকার গণপরিবহন নিয়ে উন্নাসিকতা দেখিয়েছে। অথচ গণপরিবহন ব্যবস্থা আধুনিক করার বিকল্প নেই। ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবাই যাতে গণপরিবহনে স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা করতে পারেন— তা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় যে হারে ঢাকায় ব্যক্তিগত গাড়ির চাপ বাড়ছে, সেটি রোখা যাবে না। এতে যানজট নিরসন করাও কঠিন হয়ে পড়বে।

বর্তমানে ঢাকার পরিবহনব্যবস্থার জন্য অনেকটা হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে ইঞ্জিনচালিত অটো-রিকশা। এগুলোর চলাচলে কারো কোনো নিয়ন্ত্রণ আছে বলে মনে হয় না। যে যার ইচ্ছেমতো সড়কে চলাফেরা করেন। এভাবে চলতে পারে না। ঢাকায় আজকাল যানজটের জন্য ইঞ্জিনচালিত অটো-রিকশাও খানিকটা দায়ী। তাই এসব যান সুশৃঙ্খলভাবে চলাচলের বিষয়ে সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।

ঢাকার যানজট নিরসনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্যোগ আমাদের আশান্বিত করে। তবে শুধু ট্রাফিক সিগন্যালের উন্নতি, বাইপাস, ওভারপাস, আন্ডারপাস কিংবা বাসটার্মিনাল স্থানান্তর করে ঢাকার যানজট নিরসন করা সম্ভব বলে মনে হয় না। ঢাকার যানজট নিরসনে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, যেমন— উন্নয়ন বিকেন্দ্রীকরণ দরকার, তেমনি এ নগরীর গণপরিবহন ব্যবস্থায় আধুনিকায়ন করাও জরুরি হয়ে পড়েছে। বিষয়গুলো আমলে নিয়ে যানজট নিরসনে ব্যবস্থা নিতে হবে।