ইরান যুদ্ধের কারণে ইউক্রেনের জন্য ‘সময় নেই’ যুক্তরাষ্ট্রের : জেলেনস্কি

ইরানে চলমান যুদ্ধের কারণে মার্কিন শান্তি আলোচকদের ‘ইউক্রেনের জন্য সময় নেই’ বলে মন্তব্য করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি |সংগৃহীত

ইরানে চলমান যুদ্ধের কারণে মার্কিন শান্তি আলোচকদের ‘ইউক্রেনের জন্য সময় নেই’। মঙ্গলবার জার্মান সম্প্রচারমাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাতকারে এমন মন্তব্য করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।

পাশাপাশি মার্কিন অস্ত্র সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার বিষয়েও উদ্বেগ জানান তিনি।

জার্মানির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমকে জেডডিএফকে জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধ অবসানে মস্কোর সাথে আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী স্টিভ উইটকফ ও জেরেড কুশনার এই মুহূর্তে ‘ইরানের সাথে ধারাবাহিক আলোচনায়’ ব্যস্ত।

জেলেনস্কি ‘তাদেরকে ‘বাস্তববাদী’ আখ্যা দিয়ে বলেন, তারা যুদ্ধ শেষ করার লক্ষ্যে পুতিনের আরো মনোযোগ আকর্ষণের চেষ্টা করছেন।’

তবে ‘যুক্তরাষ্ট্র যদি পুতিনের ওপর চাপ সৃষ্টি না করে এবং শুধু রাশিয়ার সাথে নরম সুরে আলোচনা চালিয়ে যায়, তাহলে তারা আর ভয় পাবে না’ বলেও সতর্ক করেন তিনি।

মার্চের শেষ দিকে ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী এই সঙ্ঘাত অবসানে মার্কিন নেতৃত্বাধীন আলোচনা থমকে আছে। ফেব্রুয়ারিতে জেনেভা বৈঠকের পর রুশ ও ইউক্রেনীয় আলোচকদের মধ্যে আর কোনো বৈঠক হয়নি।

জেলেনস্কি জানান, ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইউক্রেনে মার্কিন অস্ত্র সরবরাহের বিষয়টিও বড় ধরনের বাধার মুখে পড়েছে।

তিনি বলেন, ‘যদি এই যুদ্ধ চলতে থাকে, তাহলে ইউক্রেনের জন্য অস্ত্রের সরবরাহ আরো কমে যাবে। বিশেষ করে আকাশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের ক্ষেত্রে গভীর সঙ্কট তৈরি হবে।’

নরওয়ে সফরকালে এক সংবাদ সম্মেলনে জেলেনস্কি জানান, পিএসি-৩ ইন্টারসেপ্টর মিসাইল এবং পিএসি-২ মিসাইল সরবরাহ নিয়ে ব্যাপক সমস্যা তৈরি হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, এসব অস্ত্র মূলত পিইউআরএল কর্মসূচির মাধ্যমে কেনা হয়, যা গত বছর চালু হয়। এই কর্মসূচির মাধ্যমে ইউরোপীয় দেশগুলোর অর্থায়নে ইউক্রেন মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম পেয়ে থাকে।

জেলেনস্কি বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের একেবারে শুরুতেই বুঝতে পেরেছিলাম যে, আমাদের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে।

অস্ত্র সরবরাহ ‘ধীরগতিতে’ হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের জন্য একটি অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতি।’ নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী জোনাস গার স্টোরের পাশে দাঁড়িয়ে ওই মন্তব্য করেন জেলেনস্কি।

পরে দুই নেতা জানান, তারা ‘উন্নত প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা সংক্রান্ত যৌথ ঘোষণা’-তে স্বাক্ষর করেছেন।

নরওয়ের সরকার জানায়, দুই দেশ প্রতিরক্ষা শিল্পে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা আরো বাড়াতে চায় এবং ‘ইউক্রেনীয় ড্রোন এখন নরওয়েতে উৎপাদিত হবে।’

এর আগে মঙ্গলবার জেলেনস্কি একটি সরকারি প্রতিনিধিদল নিয়ে বার্লিন সফর করেন। সেখানে চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মেৎর্স এবং গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীদের সাথে বৈঠক করেন। উভয়পক্ষের আলোচনার মূল বিষয় পঞ্চম বছরে প্রবেশ করা রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধ।

সেসময় দুই দেশ প্রতিরক্ষাকেন্দ্রিক একটি কৌশলগত অংশীদারিত্বও ঘোষণা করেছে।

সূত্র: বাসস