ইরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চলমান যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধে সম্ভাব্য সমাধান খুঁজতে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে শুরু হতে যাচ্ছে এক ঐতিহাসিক সংলাপ। দীর্ঘদিনের বৈরিতা কাটিয়ে আলোচনার টেবিলে বসতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। এ সংলাপকে কেন্দ্র করে রাজধানীজুড়ে জোরদার করা হয়েছে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
শুক্রবার ( ১০ এপ্রিল) দিবাগত মধ্যরাতে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল ইসলামাবাদের নূর খান বিমানঘাঁটিতে পৌঁছায়। সেখানে তাদের স্বাগত জানান পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির।
অন্যদিকে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দল শনিবার সকালে ইসলামাবাদে পৌঁছায়। তারা যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি বিমান ‘এয়ারফোর্স টু’-তে করে ওয়াশিংটন থেকে যাত্রা করেন। প্রতিনিধি দলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারও রয়েছেন।

মার্কিন প্রতিনিধি দলের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কয়েক দিন আগেই যুক্তরাষ্ট্রের সি-১৭ কার্গো বিমানে সাঁজোয়া যান ও আধুনিক সরঞ্জাম ইসলামাবাদে আনা হয়। জানা গেছে, পাকিস্তানে অবস্থানকালে মার্কিন প্রতিনিধিরা নিজস্ব বিশেষ নিরাপত্তা যানবাহন ব্যবহার করবেন।
নিরাপত্তার চাদরে রাজধানী
সংলাপকে কেন্দ্র করে ইসলামাবাদ ও রাওয়ালপিন্ডিতে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ ‘রেড জোন’ এলাকা সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন। রেড জোনের পরিধি বাড়িয়ে সংশ্লিষ্ট সব অফিস ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। এ অঞ্চলের নিরাপত্তার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সরাসরি সেনাবাহিনীকে।
বিমানবন্দর থেকে রেড জোন পর্যন্ত সড়কগুলোতে সাধারণ যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
ঐতিহাসিক এই সংলাপকে স্মরণীয় করে রাখতে শহরের বিভিন্ন স্থানে ‘ইসলামাবাদ টকস’ শিরোনামে ব্যানার ও ফেস্টুন টানানো হয়েছে। জিন্নাহ কনভেনশন সেন্টারে মূল বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে সাংবাদিকদের জন্য বিশেষ মিডিয়া সেন্টারও স্থাপন করা হয়েছে।
এই সংলাপকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, ইরানসহ বিভিন্ন দেশের শতাধিক সংবাদকর্মী ইতোমধ্যে ইসলামাবাদে অবস্থান করছেন। বিদেশি সাংবাদিকদের জন্য অন-অ্যারাইভাল ভিসা সুবিধাও চালু করেছে পাকিস্তান সরকার।
তবে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে কিছু বিড়ম্বনার কথাও জানিয়েছেন সাংবাদিকরা। রেড জোনের হোটেলগুলোতে অতিরিক্ত ভাড়া ও প্রবেশ সীমাবদ্ধতা নিয়ে অভিযোগ উঠেছে। একজন মার্কিন সাংবাদিক দাবি করেছেন, হোটেলের আশপাশে চিত্রধারণের উপযোগী স্থান ব্যবহারের জন্য দৈনিক ২৫ হাজার ডলার পর্যন্ত দাবি করা হয়েছে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের আমন্ত্রণে এবং দেশটির মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির পর এই সংলাপ শুরু হচ্ছে। রেড জোনের বাইরে জনজীবন স্বাভাবিক থাকলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে সংলাপ নিয়ে কৌতূহল লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তবে সড়ক বন্ধ থাকায় অনেককে দুর্ভোগও পোহাতে হচ্ছে।
রেড জোন এলাকায় ব্যক্তিগত যানবাহন চলাচল ও ভিডিও ধারণের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা নিরসনে পাকিস্তানের এই কূটনৈতিক উদ্যোগ কতটা সফল হয়, এখন সে দিকেই তাকিয়ে রয়েছে বিশ্ব।
সূত্র : আল জাজিরা, দ্যা ডন।



