যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্ভবত ইহুদিবাদী দখলদার রাষ্ট্র ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে এটা মানতে বাধ্য করাতে পারেন যে, লেবাননও ইরান যুদ্ধবিরতি চুক্তির অন্তর্ভুক্ত। আর সেই পরিস্থিতি আসার আগেই ইসরাইল লেবাননে ব্যাপক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে বলে মনে করেন অনেকে।
আবার কেউ কেউ মনে করেন, এই যুদ্ধবিরতি নিয়ে অসন্তুষ্ট ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু। কারণ ইরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের মতো লক্ষ্যগুলো অর্জনে ব্যর্থ হয়েছেন তিনি। তাই লেবাননে হামলা চালিয়ে এই নাজুক চুক্তিটি বানচাল করতে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে চাচ্ছেন নেতানিয়াহু।
লেবাননের ক্ষেত্রে নেতানিয়াহুর মূল লক্ষ্য হলো হিজবুল্লাহর হুমকি নিশ্চিহ্ন করা, বিশেষ করে উত্তর ইসরাইলে রকেট হামলা বন্ধ করা। এই লক্ষ্যে ইসরাইল সেখানে স্থলবাহিনী পাঠিয়েছে এবং ঘোষণা করেছে, লিতানি নদীর দক্ষিণ অংশ দখল করে একটি নিরাপত্তা বাফার জোন তৈরি করবে ইসরাইল।
এর ফলে দক্ষিণ লেবাননে আবারো ইসরাইলি দখলদারিত্ব শুরু হয়েছে, যা আগে ১৯৮২ সাল থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত ছিল। ইসরাইলি বাহিনী ওই এলাকার ঘরবাড়ি ও গ্রামগুলো ধ্বংস করে দিচ্ছে, যেখানে তাদের দাবি অনুযায়ী হিজবুল্লাহ যোদ্ধারা সক্রিয়।
এতে লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। ইসরাইল স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, হিজবুল্লাহকে নির্মূল না করা পর্যন্ত তাদের সৈন্যরা ফিরবে না।
তবে হিজবুল্লাহর ওপর ইসরাইলের কঠোর হামলা চললেও এই গোষ্ঠীটির এখনো ইসরাইলে হামলা করার ক্ষমতা রয়েছে। তাই শুধু সামরিক শক্তি দিয়ে ইসরাইল লক্ষ্য পূরণ করতে পারবে কি-না, তা কতটা বাস্তবসম্মত, সেটি নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। যেটি একটি অনির্দিষ্টকালের যুদ্ধ ও এর ফলে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের আশঙ্কা তুলে ধরছে।
তবে এটি স্পষ্ট যে, ইরান যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে লেবাননের অবস্থান ঠিক কী হবে, সেটি দ্রুতই পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।
সূত্র : বিবিসি



