কাপ্তাই হ্রদের পানিতে ভাসা জমিতে তরমুজ চাষ, কৃষির নতুন দিগন্ত

বছরের ছয় মাস পানিতে ডুবে থাকা কাপ্তাই হ্রদে জেগে ওঠা অসংখ্য ডুবো চর এখন লাল-সবুজ তরমুজে ভরে উঠেছে।

পুলক চক্রবর্তী, রাঙ্গামাটি

Location :

Rangamati
তরমুজের ক্ষেত
তরমুজের ক্ষেত |নয়া দিগন্ত

পাহাড়ঘেরা রাঙ্গামাটির কাপ্তাই হ্রদের পানিতে ভাসা জমিতে তরমুজ চাষ করে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছেন স্থানীয় কৃষকরা। বছরের ছয় মাস পানিতে ডুবে থাকা কাপ্তাই হ্রদে জেগে ওঠা অসংখ্য ডুবো চর এখন লাল-সবুজ তরমুজে ভরে উঠেছে। সরকারি কোনো সহায়তা ছাড়াই নিজেদের উদ্যোগ, অভিজ্ঞতা ও কঠোর পরিশ্রমে অর্জিত এ সাফল্যে কৃষকদের মুখে ফুটেছে হাসি।

স্থানীয়দের ভাষায়, হ্রদের চরে এখন তরমুজের জোয়ার, স্বপ্ন বুনছেন রাঙ্গামাটির কৃষক।

ভৌগলিকভাবে শুষ্ক মৌসুমে কাপ্তাই হ্রদের পানি কমে গেলে বিস্তীর্ণ এলাকা জেগে ওঠে। এসব অস্থায়ী চরাঞ্চল আগে তেমন কাজে লাগানো হতো না। তবে গত কয়েক বছরে কৃষকরা পরীক্ষামূলকভাবে সেখানে তরমুজ চাষ শুরু করেন। চলতি মৌসুমে সেই উদ্যোগ ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। জেলার বাঘাইছড়ি, লংগদু, নানিয়ারচর, বরকল, বিলাইছড়ি ও সদর উপজেলাসহ বিভিন্ন এলাকায় এবার বড় পরিসরে তরমুজের আবাদ হয়েছে।

কৃষকরা জানান, এ চাষাবাদে তাদেরকে নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হয়েছে। হ্রদের চরাঞ্চলে যাতায়াত, সেচের ব্যবস্থা, বীজ নির্বাচন এবং বন্যপ্রাণির আক্রমণ সবকিছুই সামাল দিতে হয়েছে নিজ উদ্যোগে। তবুও অনুকূল আবহাওয়া, উর্বর পলি মাটি এবং সময়মতো পরিচর্যার কারণে এবার ফলন হয়েছে আশানুরূপ। অনেক কৃষকই আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণ লাভের আশা করছেন।

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, এই সম্ভাবনাময় খাতে তারা কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের সার, উন্নত বীজ বা প্রণোদনা পাননি। তারা বলেন, যদি সরকারি সহায়তা ও প্রশিক্ষণ পাওয়া যেত, তাহলে উৎপাদন আরো বাড়ানো সম্ভব হতো এবং নতুন অনেক কৃষক এ কাজে যুক্ত হতে পারতেন।

এদিকে, রাঙ্গামাটির সুস্বাদু ও রসালো তরমুজ এখন স্থানীয় বাজার ছাড়িয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পৌঁছে যাচ্ছে। চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় প্রতিদিন ট্রাকে করে তরমুজ সরবরাহ করা হচ্ছে। পাইকাররা সরাসরি ক্ষেত থেকে তরমুজ কিনে নিয়ে যাচ্ছেন, ফলে কৃষকরা মধ্যস্বত্বভোগীর ঝামেলা ছাড়াই তুলনামূলক ভালো দাম পাচ্ছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের রাঙ্গামাটি জেলার উপপরিচালক মো: মনিরুজ্জামান জানান, গত বছর জেলায় প্রায় ২৫০ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছিল। চলতি বছরে তা বেড়ে প্রায় ১৩ হাজার হেক্টরে পৌঁছেছে, যা উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি।

তিনি আরো জানান, কাপ্তাই হ্রদের চরাঞ্চলকে পরিকল্পিতভাবে চাষের আওতায় আনা গেলে এটি পাহাড়ি অঞ্চলের অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সঠিক পরিকল্পনা, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার, সংরক্ষণ ও বাজার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে রাঙ্গামাটি খুব দ্রুতই দেশের অন্যতম তরমুজ উৎপাদন কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে। এতে একদিকে যেমন কৃষকের আয় বাড়বে, অন্যদিকে পাহাড়ি এলাকায় নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হবে।