বাংলাদেশের জন্য অবদান রাখতে পারেন এমন আইনজীবী চাই : মন্ত্রী

একটি সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে রাষ্ট্রকে নিয়ে যাওয়ার জন্য আগামী প্রজন্ম যাতে তাদের জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও মেধা দিয়ে এবং সততা ও সাহস দিয়ে বাংলাদেশকে সামনের দিকে নিয়ে যেতে পারেন সে প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন আইনমন্ত্রী।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
আইনমন্ত্রী মো: আসাদুজ্জামান
আইনমন্ত্রী মো: আসাদুজ্জামান |ইন্টারনেট

আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো: আসাদুজ্জামান বলেছেন, আমরা আইন পেশার মান উন্নত করতে চাই। এমন আইনজীবী চাই, যারা বাংলাদেশের জন্য অবদান (কন্ট্রিবিউট) রাখতে পারেন।

আজ সোমবার সুপ্রিম কোর্ট অডিটোরিয়ামে অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস (এজিও) ও জাতিসঙ্ঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) উদ্যোগে ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রামের সমাবর্তন এবং পরিচিতি অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, আমরা চাই ‘যার নেই কোনো গতি সে করে উকালতি’- এই ধারণা থেকে মানুষকে বের করে আনতে। আমরা এই (আইন) পেশার মান উন্নত করতে চাই।

আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আমি পরশুদিন পত্রিকায় দেখলাম বাংলাদেশের একজন সিনিয়র জাজ ছিলেন , উনি উকালতিতে ফিরে এসেছেন। মক্কেলের কাছ থেকে সোয়া কোটি টাকা নিয়েছেন রায় লিখে দেয়ার জন্য। তাও টাকাটা চেকে নিয়েছেন উনার নামে। মক্কেলকে রায় নিয়ে দিতে পারেননি। টাকাও ফেরত দেননি। মক্কেল সম্ভবত সুপ্রিম কোর্ট বারে অভিযোগ করেছেন। আমরা এরকম আইনজীবী চাই না। এরকম নীতি কথা বলার আইনজীবী চাই না। আমরা চাই এমন আইনজীবী যারা বাংলাদেশকে কন্ট্রিবিউট করতে পারেন। আর বার কাউন্সিলের পরীক্ষাকে কিভাবে আরো বেশি যুগোপযোগী করা যায়, সেটি করতে হবে।’

একটি সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে রাষ্ট্রকে নিয়ে যাওয়ার জন্য আগামী প্রজন্ম যাতে তাদের জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও মেধা দিয়ে এবং সততা ও সাহস দিয়ে বাংলাদেশকে সামনের দিকে নিয়ে যেতে পারেন সে প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন আইনমন্ত্রী।

সংসদ সদস্যদের (এমপি) গবেষণা কাজের জন্য বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন করে ইন্টার্ন দেয়া যায় কি না সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সাথে কথা বলেছেন বলে জানান আইনমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো: রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, ন্যায়বিচার ও আইনি উৎকর্ষের অগ্রগতির জন্য জাতীয় প্রতিষ্ঠান এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো একসাথে কাজ করলে কি অর্জন হয় এই কর্মসূচিটি তার একটি প্রমাণ।

তিনি বলেন, সততা, ন্যায়পরায়ণতা এবং আদালতের প্রতি শ্রদ্ধা এগুলোই একজন আইনজীবীর বিশ্বাসযোগ্যতার মূল ভিত্তি। একটি দেশের বিচার ব্যবস্থার শক্তি কেবল প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরই নির্ভর করে না, বরং এর মধ্যে যারা কাজ করেন তাদের চরিত্র এবং যোগ্যতার ওপরও নির্ভর করে। আমাদের আগামী প্রজন্ম সাংবিধানিকতা, আইনের শাসন এবং ন্যায়বিচারের আদর্শকে এগিয়ে নিয়ে যাবে সে প্রত্যাশা করছি।