মাত্র ২০০ টাকার জন্য হত্যা, ৩ বছর পর মিলল রহস্যের সমাধান

পিবিআই অভিযানে প্রধান আসামি গ্রেফতার

ঘটনার পেছনে তুচ্ছ ২০০ টাকার লেনদেন নিয়ে বিরোধের জেরে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। হাতাহাতির একপর্যায়ে ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন মাসুদ রানা, যা পরবর্তীতে তার মৃত্যুর কারণ হয়।

মো: আজিজুল হক, গাজীপুর মহানগর

Location :

Gazipur
নিহত মাসুদ রানা, (ডানে) গ্রেফতার প্রধান আসামি শাওন মিয়া
নিহত মাসুদ রানা, (ডানে) গ্রেফতার প্রধান আসামি শাওন মিয়া |নয়া দিগন্ত

গাজীপুর মহানগরীর বহুল আলোচিত মাসুদ রানা হত্যা মামলার প্রায় দুই বছর ১০ মাস পর মূল রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। একইসাথে এ ঘটনায় জড়িত এজাহারনামীয় প্রধান আসামি শাওন মিয়াকে (৩০) গ্রেফতার করেছে পিবিআই।

রোববার (১২ এপ্রিল) চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

পিবিআই গাজীপুর জেলা সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ১৩ মে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে গাজীপুর সদর এলাকায় নিজ বাড়ির সামনে শাওন মিয়া, সুজন মিয়া, গদু মিয়া, আব্দুর রশিদসহ কয়েকজন ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। পরে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন ১৪ মে সকালে তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় নিহতের ভাই জিএমপি (গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ) সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি দীর্ঘদিন তদন্তের পর পুলিশ সদর দফতরের নির্দেশনায় পিবিআই গাজীপুর জেলা দায়িত্ব গ্রহণ করে।

পিবিআই জানায়, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, স্থানীয় সোর্স ও পারিপার্শ্বিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে রোববার চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার একটি শিল্প প্রতিষ্ঠান এলাকা থেকে প্রধান আসামি শাওন মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে শাওন মিয়া হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন এবং আদালতে স্বেচ্ছায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

পিবিআই সূত্রে আরো জানা যায়, ঘটনার পেছনে তুচ্ছ ২০০ টাকার লেনদেন নিয়ে বিরোধের জেরে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। হাতাহাতির একপর্যায়ে ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন মাসুদ রানা, যা পরবর্তীতে তার মৃত্যুর কারণ হয়।

পিবিআই গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার মো: আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘পরিকল্পিত এই হত্যাকাণ্ডটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার, গোয়েন্দা তথ্য ও পেশাদার তদন্তের মাধ্যমে রহস্য উদঘাটন সম্ভব হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘মামলার তদন্ত কার্যক্রম এখনো চলমান রয়েছে এবং বাকি আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’