বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচন

অনিয়মের অভিযোগের মধ্য দিয়ে শেষ হলো ভোট গ্রহণ

সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল অভিযোগ করলে ম্যাজিস্ট্রেট ও সংবাদমাধ্যমের উপস্থিতিতে প্রিজাইডিং অফিসার নিজের ভুল স্বীকার করেন। ফলাফল নির্ধারণের আগেই রেজাল্ট শিটে স্বাক্ষর নেয়া একটি দণ্ডনীয় অপরাধ ও নির্বাচনী আইন ও বিধিমালার পরিপন্থী হিসেবে তিনি মেনে নেন।

Location :

Bogura
বগুড়ার ঠনঠনিয়া এলাকার একটি কেন্দ্রে ব্যালটে আগে থেকে সিল-স্বাক্ষরসহ ও ভোটারের আঙ্গুলে ছাপের চিত্র
বগুড়ার ঠনঠনিয়া এলাকার একটি কেন্দ্রে ব্যালটে আগে থেকে সিল-স্বাক্ষরসহ ও ভোটারের আঙ্গুলে ছাপের চিত্র |নয়া দিগন্ত

বগুড়া অফিস

ফলাফল শিটে এজেন্টদের আগাম স্বাক্ষর নেয়া, ভোটকেন্দ্র থেকে এজেন্ট বের করে দেয়াসহ নানা অনিয়মের মধ্য দিয়ে বগুড়া-৬ (সদর) আসনের উপনির্বাচনের ভোট গ্রহণ শেষ হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত এ ভোটগ্রহণ চলে।

সরেজমিনে দেখা যায়, এদিন সকাল থেকেই বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটারদের নগণ্য উপস্থিতি মধ্য দিয়ে ভোটগ্রহণ শুরু হয়।

ভোট গ্রহণের শুরুতেই বিভিন্ন কেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসারসহ ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের কাজে নানা অসঙ্গতি ও অনিয়মের অভিযোগ তোলেন জামায়াত প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল। তিনি তার অভিযোগের কোনো প্রকার সুরাহা না করারও অভিযোগ তোলেন রিটার্নিং কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

বিশেষ করে শহরের মালতিনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ফলাফল শিটে এজেন্টদের অগ্রিম স্বাক্ষর নেয়ার ঘটনাটি নির্বাচনী এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। এ ঘটনাটি কেন্দ্র করে প্রার্থী, ভোটার ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উত্তেজনা ও ক্ষোভ দেখা দেয়। ভোটকেন্দ্রের বাইরের পরিবেশ স্বাভাবিক ও শান্ত মনে হলেও ভেতরে প্রিজাইডিং কর্মকর্তার এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণে নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠে।

Bogura-9-4

এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল অভিযোগ করলে ম্যাজিস্ট্রেট ও সংবাদমাধ্যমের উপস্থিতিতে প্রিজাইডিং অফিসার নিজের ভুল স্বীকার করেন। ফলাফল নির্ধারণের আগেই রেজাল্ট শিটে স্বাক্ষর নেয়া একটি দণ্ডনীয় অপরাধ ও নির্বাচনী আইন ও বিধিমালার পরিপন্থী হিসেবে তিনি মেনে নেন। পরে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট তাসওয়ার তানজামুল হক সেই রেজাল্ট শিটগুলো জব্দ করে উপস্থিত সবার সামনে ছিঁড়ে ফেলেন।

নির্বাচনের অনিয়মের পাশাপাশি এ উপনির্বাচনে ভোটারদের অনীহা ছিল চোখে পড়ার মতো। ভোটার উপস্থিতি ছিল খুবই কম।

রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে সূত্রে জানা যায়, সকাল দশটা পর্যন্ত গড়ে মাত্র ৬ থেকে ৭ শতাংশ ভোট পড়ে।

রিটার্নিং কর্মকর্তা মো: ফজলুল করিম বলেন, বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত পোস্টাল ব্যালট ব্যাতীত ৪২ দশমিক ৪৯ শতাংশ ভোট পড়েছে।