তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) সংবাদদাতা
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় অপহরণের শিকার এক স্কুলছাত্রকে মুক্তিপণ নেয়ার পরও ফেরত দেয়নি অপহরণকারীরা। কয়েক দফায় মোট ৬৮ হাজার টাকা আদায় করার পর তারা মোবাইল ফোন বন্ধ করে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। এতে করে পরিবারে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দিন দিন বাড়ছে।
নিখোঁজ হওয়ার ছয় দিন পার হলেও একমাত্র সন্তানকে ফিরে না পেয়ে পাগলপ্রায় মা এবং দিশেহারা স্বজনরা।
নিখোঁজ মোনায়েম উপজেলার লাউড়েরগড় আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র। সে একই উপজেলার লাউড়েরগড় গ্রামের সেলিম মিয়ার ছেলে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ২ এপ্রিল বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর আর ফিরে আসেনি মোনায়েম। প্রথমদিকে স্বজনরা ধারণা করেছিলেন, আগের মতো দুই-তিন দিনের মধ্যে সে ফিরে আসবে। তবে ৩ এপ্রিল একটি অপরিচিত নম্বর থেকে মোনায়েমের বাবার ফোনে কল আসে। ফোনে শিশুটির কান্নার শব্দ শোনানো হয় এবং ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা না দিলে তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে অল্প সময়ের মধ্যে টাকা পাঠাতে বলা হয়।
ছেলের জীবনের নিরাপত্তার কথা ভেবে মোনায়েমের বাবা সেলিম মিয়া তিনটি বিকাশ ও নগদ নম্বরে ৫০ হাজার টাকা পাঠান। পরে আরো ১৮ হাজার টাকা দাবি করা হলে সেটিও পরিশোধ করেন তিনি। কিন্তু মোট ৬৮ হাজার টাকা নেওয়ার পর অপহরণকারীরা মোবাইল ফোন বন্ধ করে দেয়। এরপর থেকে তাদের সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ হয়নি।
এ ঘটনায় গত ৬ এপ্রিল তাহিরপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন মোনায়েমের বাবা। অভিযোগের সঙ্গে বিকাশে টাকা পাঠানোর স্টেটমেন্ট জমা দেওয়া হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, যে এজেন্টের মাধ্যমে টাকা উত্তোলন করা হয়েছে, তার অবস্থান গাউছিয়া এলাকায়। এদিকে, নিখোঁজ শিক্ষার্থীর খোঁজে প্রতিদিনই বাড়িতে ভিড় করছেন সহপাঠী ও প্রতিবেশীরা।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই পঙ্কজ জানান, নিখোঁজ শিক্ষার্থীকে উদ্ধারে পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে অপহরণকারীদের শনাক্ত এবং মোনায়েমকে উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।



