বগুড়া-৬ উপনির্বাচনে ভোট দিলেন বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থী

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকাল ৮টায় শহরের শিববাটি হাসনা জাহান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে বিএনপির প্রার্থী রেজাউল করিম বাদশা ভোট দেন। সকাল পৌনে ৮টায় জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল শহরের জামতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেন।

নয়া দিগন্ত অনলাইন

Location :

Bogura
সকালে নিজ নিজ কেন্দ্রে ভোট দেন জামায়াত প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল ও বিএনপির প্রার্থী রেজাউল করিম বাদশা
সকালে নিজ নিজ কেন্দ্রে ভোট দেন জামায়াত প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল ও বিএনপির প্রার্থী রেজাউল করিম বাদশা |সংগৃহীত

বগুড়া-৬ (সদর) আসনের উপনির্বাচনে প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের প্রার্থী সকালেই নিজ নিজ ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকাল ৮টায় শহরের শিববাটি হাসনা জাহান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে বিএনপির প্রার্থী রেজাউল করিম বাদশা ভোট দেন। সকাল পৌনে ৮টায় জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল শহরের জামতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেন।

ভোটাধিকার প্রয়োগ করে বিএনপি প্রার্থী রেজাউল করিম বাদশা সাংবাদিকদের বলেন, এই নির্বাচন উন্নয়নের নির্বাচন। উন্নয়নের স্বার্থে সবাই ভোটকেন্দ্রে আসুন।

ভোটদান শেষে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় আবিদুর রহমান বলেন, আল্লাহ তাআলা চাইলে আমি বিপুল ভোটে বিজয়ী হবো। তবে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের যে কালচার, বগুড়া তার ব্যতিক্রম নয়। বিগত ১০-১২ দিনের মাঠের অবস্থা সবার সামনে পরিষ্কার।

তিনি অভিযোগ করেন, বিভিন্ন জায়গায় মব সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে এবং গত রাতে তাদের এক কর্মীকে মারপিট করে আহত করা হয়েছে।

বগুড়া যেন নতুন কোনো মাগুরায় রূপান্তরিত না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক করে তিনি বলেন, আমরা চাই বর্তমান সরকার সুন্দরভাবে দেশ পরিচালনা করুক। কিন্তু যদি কোনো ইঞ্জিনিয়ারিং চিন্তা করা হয় বা পরিবেশ ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করা হয়, তাহলে আন্দোলন তৈরি হবে।

আসনটি শূন্য হওয়ায় এ উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন বিএনপির রেজাউল করিম বাদশা, জামায়াতের আবিদুর রহমান সোহেল এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির আল আমিন তালুকদার।

জেলা নির্বাচন অফিস সূত্র জানায়, নির্বাচনকে ঘিরে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। দায়িত্ব পালন করছেন দুজন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও ১৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। ভোটগ্রহণে নিয়োজিত রয়েছেন ২ হাজার ৬৫৫ জন কর্মকর্তা।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মোতায়েন করা হয়েছে ১ হাজার ৩৮২ জন পুলিশ সদস্য, প্রায় ২ হাজার আনসার সদস্য, ৮ প্লাটুন বিজিবি, ১০ প্লাটুন র‍্যাব, পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও ডগ স্কোয়াডও রয়েছে।

মোট ১৫১টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৫৩টিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫টি কেন্দ্রকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ধরে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

এ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৫০ হাজার ৩০৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ১৯ হাজার ৯২৩ জন, নারী ২ লাখ ৩০ হাজার ৩৭৪ জন এবং হিজড়া ভোটার ১০ জন। ২১টি পৌর ওয়ার্ড ও সদর উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এ আসনে কেন্দ্র রয়েছে ১৫০টি এবং বুথের সংখ্যা ৮৩৫টি-এর মধ্যে ৭৮৭টি স্থায়ী ও ৪৮টি অস্থায়ী।

রিটার্নিং কর্মকর্তা ফজলুল করিম বলেন, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।