বানারীপাড়ায় স্বামীর নির্যাতনে স্ত্রীর মৃত্যু, স্বামী গ্রেফতার

শনিবার (৪ এপ্রিল) রবিউল স্ত্রী মারিয়াকে নির্মম অত্যাচার ও মারধর করে। এমনকি মারিয়াকে পিটিয়ে তার লজ্জাস্থানসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম করে।

বানারীপাড়া (বরিশাল) সংবাদদাতা

Location :

Banaripara
নিহত মারিয়া আক্তার, (ডানে) গ্রেফতার রবিউল মৃধা
নিহত মারিয়া আক্তার, (ডানে) গ্রেফতার রবিউল মৃধা |নয়া দিগন্ত

বরিশালের বানারীপাড়ায় যৌতুক না পেয়ে স্ত্রী মারিয়া আক্তারকে (১৮) হত্যার অভিযোগে দায়েরকৃত মামলার আসামি স্বামী রবিউল মৃধাকে (২৮) গ্রেফতার করেছে বানারীপাড়া থানা পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকালে আসামি রবিউলকে বানারীপাড়া থানায় নিয়ে আসা হয়। একইদিন দুপুরে বরিশাল আদালতে পাঠানো হলে আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। এর আগে, বুধবার (৮ এপ্রিল) দিবাগত রাত ২টার দিকে ঢাকার নন্দীপাড়ার ছোট বটতলার ভাড়াটিয়া বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

এ ব্যাপারে বানারীপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: মজিবুর রহমান জানান, উপজেলার সলিয়াবাকপুরের নির্যাতিত গৃহবধু মারিয়া আক্তার মারা যাওয়ার ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। বরিশাল জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) জেড এম মোস্তাফিজুর রহমানের নির্দেশনায় মামলা দায়েরের অল্প কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ঢাকা থেকে মামলার মূল আসামি রবিউলকে গ্রেফতার করতে পেরেছি।

তিনি আরো জানান, গতকাল বুধবার রাতে স্বামীর নির্যাতনে নিহত মারিয়া আক্তারের বাবা হুমায়ুন কবির হাওলাদার ঘাতক মেয়ে জামাতা রবিউলকে নামধারী প্রধান আসামি ও চারজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে বানারীপাড়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

উল্লেখ্য, উপজেলার সলিয়াবাকপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব সলিয়াবাকপুর গ্রামের বাসিন্দা হুমায়ুন কবির হাওলাদারের মেয়ে মারিয়া আক্তারের সাথে তিন বছর আগে একই ওয়ার্ডের রবিউল মৃধার পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। দুই বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে তাদের সংসারে।

বিয়ের পরে জীবিকার তাগিদে তারা ঢাকায় নন্দীপাড়ার ছোট বটতলায় বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করেন। রবিউল সেখানে লেগুনা গাড়ি চালাতেন। কিন্তু আস্তে-আস্তে রবিউল স্ত্রী মারিয়ার প্রতি হিংস্র হয়ে ওঠে। বিয়ের সময়ে শ্বশুর বাড়ি থেকে প্রতিশ্রুত স্বর্ণের কানের দুল দিতে না পারা, দাবিকৃত যৌতুকের টাকা দিতে না পারাসহ নানা অজুহাতে দীর্ঘদিন ধরে রবিউল স্ত্রী মারিয়াকে প্রচণ্ড নির্যাতন করতেন।

এছাড়া রবিউলকে মাদক সেবনে বাধা দেয়ায় প্রায়ই মারধর করত স্ত্রী মারিয়াকে। গত রমজানেও রবিউল তার স্ত্রী মারিয়াকে বাবার বাড়ি থেকে ১৫ হাজার টাকা আনার জন্য চাপ প্রয়োগ করে। তবে, দরিদ্র বাবার কাছ থেকে টাকা এনে দিতে অপারগতা জানালে স্ত্রী মারিয়াকে অনেক মারধর করে।

নিয়মিত নির্যাতনের অংশ হিসেবে শনিবার (৪ এপ্রিল) রবিউল স্ত্রী মারিয়াকে নির্মম অত্যাচার ও মারধর করে। এমনকি মারিয়াকে পিটিয়ে তার লজ্জাস্থানসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম করে। রবিউলের পিটুনিতে গুরুতর আহত হওয়ার পরে তাকে কোনো চিকিৎসা করায়নি রবিউল।

গুরুতর অবস্থায় মারিয়াকে বাসায় ফেলে রাখে রবিউল। মারিয়ার গুরুতর অসুস্থতার খবর পেয়ে তার মা হাফিজা বেগম ঢাকায় ছুটে যান। পরে সেখান থেকে বুধবার সকালে গুরুতর আহত অবস্থায় মারিয়াকে বানারীপাড়ার সলিয়াবাকপুরের গ্রামের নিজ বাড়িতে নিয়ে আসেন। বাড়িতে আসার পরে গুরুতর মারিয়ার অবস্থার আরো অবনতি হলে ওইদিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তাকে বানারীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর ১২টার দিকে মারিয়ার মৃত্যু হয়।

মৃত্যূর খবর পেয়ে বানারীপাড়া থানা পুলিশ হাসপাতাল থেকে মারিয়ার লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল রিপোর্ট শেষে ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ময়নাতদন্ত শেষে আজ বৃহস্পতিবার উপজেলার পূর্ব সলিয়াবাকপুরের নিজ বাড়িতে নিয়ে আসা হয়।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জানাজা শেষে মারিয়াকে সলিয়াকপুরের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাবার বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। এদিকে মারিয়ার হত্যাকারী ঘাতক স্বামী রবিউলের ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।