বিশ্বকাপজুড়ে চোখধাঁধানো পারফরম্যান্স করেন লিওনেল মেসি। আট গোল আর চারটি অ্যাসিস্ট করে আর্জেন্টিনাকে তুলেন ফাইনালে। তাই অনেকেই ধরে নিয়েছিল, রেকর্ড তৃতীয়বারের মতো গোল্ডেন বল উঠবে আর্জেন্টাইন মহাতারকার হাতেই।
কিন্তু ফাইনালের পর ভিন্ন সিদ্ধান্ত নেয় ফিফা। টুর্নামেন্টসেরার পুরস্কার গোল্ডেন বল জিতে নেন স্পেন অধিনায়ক রদ্রি। প্রশ্ন উঠেছে—গোল-অ্যাসিস্টে পিছিয়ে থেকেও কীভাবে মেসিকে টপকে এই স্বীকৃতি পেলেন স্প্যানিশ মিডফিল্ডার?
এর উত্তর লুকিয়ে আছে রদ্রির প্রভাবের মাঝেই। পুরো বিশ্বকাপে একটি গোল বা অ্যাসিস্টও না করলেও স্পেনের খেলার কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন তিনি। লা রোজার বল দখলে রাখার কৌশলের মূল নিয়ন্ত্রক ছিলেন এই মিডফিল্ডার।
মধ্য মাঠের দখল কখনো হাতছাড়া হতে দেননি তিনি। এছাড়া রক্ষণভাগ থেকে আক্রমণ গড়ে তোলা, খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ, প্রতিপক্ষের আক্রমণ ভেঙে দেয়া—সব ক্ষেত্রেই ছিল তার আধিপত্য।
পরিসংখ্যানও রদ্রির পক্ষেই কথা বলছে। টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ ৭৫৩টি সফল পাস করেছেন তিনি, যার সফলতার হার ৯৪ শতাংশ। এছাড়া ১,৮০৩টি প্লেতে অংশ নিয়েছেন, যা এই বিশ্বকাপে অন্য যেকোনো ফুটবলারের চেয়ে প্রায় ২০০টি বেশি।
ফাইনালেও নিজের শ্রেষ্ঠত্ব দেখিয়েছেন ৩০ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ১০৫টি পাসের ১০১টিই সফল ছিল তার। জিতেছেন ৮০ শতাংশ ডুয়েল, তৈরি করেন দু’টি পরিষ্কার গোলের সুযোগ। তার কারণেই মাঝমাঠে কার্যত অসহায় হয়ে পড়ে আর্জেন্টিনা।
ফিফার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, তিনি ১,৮০৩টি প্লে-তে জড়িত ছিলেন, যা এই বিশ্বকাপের অন্য যেকোনো খেলোয়াড়ের চেয়ে প্রায় ২০০টি বেশি। ফলে ফিফাও রদ্রির অবদানকে বিশেষভাবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
ফিফা লিখেছে, আটটি ম্যাচেই মাঝমাঠে অবিচল উপস্থিতি রেখে স্পেনকে দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা জেতাতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন তিনি। রক্ষণ ও আক্রমণের ভারসাম্য তৈরি করা ও পুরো দলকে সংগঠিত রাখার কাজটি করেছেন নিখুঁতভাবে।
রদ্রির নেতৃত্বেই স্পেন পুরো টুর্নামেন্টে মাত্র একটি গোল হজম করে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছে, যা তার আধিপত্যের সবচেয়ে বড় প্রমাণ।
গোল্ডেন বল জয়ের পর আবেগাপ্লুত রদ্রি বলেন, ‘আমার জন্য সময়টা খুব কঠিন ছিল। আমি শুধু নতুন প্রজন্মকে দেখাতে চাই, পড়ে গেলেও আবার উঠে দাঁড়ানো সম্ভব। এটাই আমার জীবনের দর্শন। সব সময় ইতিবাচক থাকতে হবে।’
মেসির ব্যক্তিগত নৈপুণ্য ছিল অনন্য। তবে ফিফার মূল্যায়নে টুর্নামেন্টজুড়ে খেলার নিয়ন্ত্রণ, ধারাবাহিকতা এবং বিশ্বকাপজয়ী দলের সবচেয়ে প্রভাবশালী ফুটবলার হওয়ার স্বীকৃতিই শেষ পর্যন্ত গোল্ডেন বল এনে দিয়েছে রদ্রির হাতে।



