বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর লড়াইয়ে আজ রাতে মিসরের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। ম্যাচটি শুধু কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াই নয়, লিওনেল মেসির ক্যারিয়ারের এক ঐতিহাসিক স্মৃতিও ফিরিয়ে আনছে।
প্রতিটি কিংবদন্তিরই একটি শুরু থাকে। লিওনেল মেসির বিশ্বকাপ-গল্পের শুরুটা হয়েছিল এই মিসরকে দিয়েই। ২১ বছর আগে তার ইতিহাস গড়ার পথচলা শুরু হয় নীল নদ পাড়ের দেশটির বিপক্ষে।
২১ বছর আগে এই মিসরের বিপক্ষেই বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রথমবার শুরুর একাদশে সুযোগ পেয়ে করেছিলেন নিজের প্রথম গোল। আজ দুই দশকেরও বেশি সময় পর আবারো সেই মিসরের সামনেই দাঁড়িয়ে আর্জেন্টিনা।
২০০৫ সালের ফিফা অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ১-০ গোলে হেরে চাপে পড়ে যায় আর্জেন্টিনা। সেই ম্যাচে মেসি মাঠে নেমেছিলেন বদলি হিসেবে, তবে নিজেকে মেলে ধরার সুযোগ পাননি।
দ্বিতীয় ম্যাচে কোচের আস্থা পান মেসি। মিসরের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো শুরুর একাদশে নামেন তিনি। আর মাত্র ৪৭ মিনিটে পেয়ে যান নিজের প্রথম বিশ্বকাপ গোলে। হুলিও বারোশোর বাড়ানো বল জালে জড়ান তিনি।
পরে পাবলো জাবালেতার গোলে ২-০ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত হয়। সেই জয়ই টুর্নামেন্টে আর্জেন্টিনার ঘুরে দাঁড়ানোর ভিত্তি গড়ে দেয়। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। সেই টুর্নামেন্টেই তিনি নজর কাড়েন সবার।
ফাইনালে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল, সেমিফাইনালে ব্রাজিলের জালে গোল- সব মিলিয়ে ছয় গোল করে জেতেন গোল্ডেন বুট। একই সাথে টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে পান গোল্ডেন বলও।
মাত্র আড়াই সপ্তাহের ব্যবধানে সম্ভাবনাময় এক কিশোর থেকে বিশ্ব ফুটবলের পরবর্তী মহাতারকার আগমনী বার্তা দিয়ে দেন তিনি। আর মিসরের বিপক্ষে সেই গোলটিই ছিল তার সর্বকালের সেরা হবার সূচনা।
সেই অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ দিয়ে শুরু মেসির আর্জেন্টিনার জার্সিতে শিরোপা জয়ের গল্প। এরপর দীর্ঘ ২১ বছরে তিনি জিতেছেন কোপা আমেরিকা, ফিনালিসিমা, বিশ্বকাপও। নিজেকে নিয়ে গেছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।
আজ আবারো প্রতিপক্ষ মিসর। সময় বদলেছে, বদলে গেছে প্রজন্মও। তবে প্রতিপক্ষের নামটি এখনো একই। দুই দশকেরও বেশি সময় আগে যে দলের বিপক্ষে বিশ্বকাপে নিজের প্রথম গোল করেছিলেন মেসি, সেই দলকেই হারিয়ে এবার আর্জেন্টিনা চাইবে আরো এক ধাপ এগিয়ে যেতে।
হয়তো ইতিহাস কখনো নিজেকে পুরোপুরি পুনরাবৃত্তি করে না। কিন্তু কিছু প্রতিপক্ষ, কিছু ম্যাচ আর কিছু স্মৃতি বারবার মনে করিয়ে দেয়- মহাকাব্যেরও একটি শুরু থাকে।
আর লিওনেল মেসির বিশ্বকাপের সেই মহাকাব্যের প্রথম অধ্যায়ের নাম ছিল মিসর। শেষটা কোথায় হবে, তা সময়ই বলে দেবে। তবে মিসর খুব করেই চাইবে আজ ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি আটকে দিতে।



