বিশ্বকাপে এবার ফ্রান্সের আক্রমণভাগ যেন আগুন ঝরাচ্ছে। কিলিয়ান এমবাপ্পে, উসমান দেম্বেলে, মাইকেল ওলিস ও দেজিরে দুয়েরা যেকোনো রক্ষণভাগকে মুহূর্তেই ভেঙে দেয়ার সামর্থ্য রাখে।
বিশেষ করে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে শীর্ষে থাকা এমবাপ্পেকে থামানো যেন প্রতিপক্ষের জন্য সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষাগুলোর একটি। ইতোমধ্যে ৫ ম্যাচে ৮ গোল করে নিজের জানাম দিয়েছেন ফরাসি অধিনায়ক।
তবে বহুল প্রতীক্ষিত সেমিফাইনালে ফ্রান্সের মুখোমুখি হওয়ার আগে স্পেনের গোলরক্ষক উনাই সিমনের ভাবনায় সবচেয়ে বড় হুমকি এমবাপ্পে নন, তার চোখে ফ্রান্সের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ফুটবলার উসমান দেম্বেলে।
স্প্যানিশ গোলরক্ষকের মতে, দেম্বেলের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তার অননুমেয় খেলার ধরন। দুই পায়েই সমান দক্ষ এই ফরাসি উইঙ্গার কখন ক্রস করবেন, কখন ড্রিবল করে ঢুকে শট নেবেন কিংবা কখন সতীর্থকে সুযোগ তৈরি করে দেবেন—তা আগে থেকে আন্দাজ করা প্রায় অসম্ভব।
আর এ কারণেই তাকে সামলানো এমবাপ্পের চেয়েও কঠিন বলে মনে করেন সিমন। গতকাল সোমবার স্প্যানিশ রেডিও কোপ-কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এই প্রসঙ্গে সিমন বলেন, ‘দেম্বেলে অনেক বেশি অননুমেয়। এমবাপ্পের ঝুলিতে হয়তো অনেক অস্ত্র আছে, কিন্তু দেম্বেলে দুই পায়েই সবকিছু করতে পারে। যেকোনো দিক থেকে ক্রস করতে পারে, আবার একইভাবে নিখুঁত ফিনিশিংও করতে পারে। প্রতিপক্ষ হিসেবে ও সত্যিই ভীষণ কঠিন।’
তবে ফ্রান্সের আক্রমণভাগের প্রশংসা করলেও নিজেদের সামর্থ্য নিয়ে আত্মবিশ্বাসী স্প্যানিশ এই গোলরক্ষক। তার বিশ্বাস, নিজেদের স্বাভাবিক ছন্দে খেলতে পারলে ফ্রান্সকেও হারানো সম্ভব।
সিমন বলেন, ‘আমরা জানি ফ্রান্স ফুটবলের অন্যতম পরাশক্তি। কিন্তু আমরা যেভাবে অনুশীলন করি ও যেভাবে খেলি, তাতে নিজেদের স্টাইলের ওপর আমাদের পূর্ণ আস্থা আছে। দলের সবাই যদি সেরা ছন্দে থাকে, তাহলে পৃথিবীর কোনো দলই আমাদের হারাতে পারবে না।’
এবারের বিশ্বকাপে স্পেনের সাফল্যের অন্যতম ভিত্তি তাদের দুর্ভেদ্য রক্ষণভাগ। কোয়ার্টার ফাইনালের আগে টানা ৬৪৮ মিনিট গোল না খেয়ে নতুন বিশ্বকাপ রেকর্ড গড়েছিলেন উনাই সিমন।
কাতার বিশ্বকাপ থেকে শুরু হওয়া সেই দুর্দান্ত ধারার অবসান ঘটে বেলজিয়ামের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে, যেখানে ২-১ ব্যবধানে জিতলেও একটি গোল হজম করতে হয় স্পেনকে।
২০২৬ বিশ্বকাপই যে তার শেষ বিশ্বকাপ হতে পারে, সেটিও স্বীকার করেছেন সিমন। তবে বিদায়ের আগে শিরোপা জয়ের স্বপ্ন পূরণে আজ তার সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ—দেম্বেলে, এমবাপ্পে আর ওলিসেদের ফ্রান্স।



