ফাইনালে উঠেও ফিফার শাস্তির ঝুঁকিতে আর্জেন্টিনা

ম্যাচ শেষে আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়দের হাতে দেখা যায় ‘মালভিনাস আর্জেন্টিনার’ লেখা একটি ব্যানার। মালভিনাস নামে পরিচিত ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের মালিকানা নিয়ে বহু বছর ধরে আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে বিরোধ রয়েছে।

ক্রীড়া ডেস্ক

বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করলেও ফিফার শাস্তির মুখে পড়তে পারে আর্জেন্টিনা। ইংল্যান্ডকে হারিয়ে সেমিফাইনাল জয়ের পর মাঠে ‘মালভিনাস (ফকল্যান্ড) আর্জেন্টিনার’ লেখা ব্যানার প্রদর্শন করেন দলের ফুটবলাররা। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিযোগিতার সময় রাজনৈতিক বার্তা প্রদর্শন নিষিদ্ধ। ফলে এ ঘটনায় আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হতে পারে। খবর বিবিসির।

যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় অনুষ্ঠিত সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। ম্যাচের শেষ দিকে এনজো ফার্নান্দেজ ও লাউতারো মার্তিনেজের গোলে জয় নিশ্চিত করে লিওনেল স্কালোনির দল। আগামী রোববার শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ স্পেন।

ম্যাচ শেষে আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়দের হাতে দেখা যায় ‘মালভিনাস আর্জেন্টিনার’ লেখা একটি ব্যানার। মালভিনাস নামে পরিচিত ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের মালিকানা নিয়ে বহু বছর ধরে আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে বিরোধ রয়েছে।

দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থিত ফকল্যান্ড বর্তমানে ব্রিটিশ ওভারসিজ টেরিটরি হলেও আর্জেন্টিনা দ্বীপপুঞ্জটির ওপর নিজেদের সার্বভৌমত্ব দাবি করে। এ বিরোধকে কেন্দ্র করে ১৯৮২ সালে দুই দেশের মধ্যে ৭৪ দিনের যুদ্ধ হয়। ওই যুদ্ধে ৬৫৫ জন আর্জেন্টাইন ও ২৫৫ জন ব্রিটিশ সেনা নিহত হন। প্রাণ হারান দ্বীপটির তিন বাসিন্দাও।

এ ধরনের রাজনৈতিক বার্তার কারণে অতীতেও শাস্তির মুখে পড়েছিল আর্জেন্টিনা। ২০১৪ সালে স্লোভেনিয়ার বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচের আগে একই ধরনের ব্যানার প্রদর্শনের ঘটনায় আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে ২০ হাজার পাউন্ড জরিমানা করেছিল ফিফা। সংস্থাটি এটিকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং আচরণবিধি লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করেছিল।

এদিকে সেমিফাইনালের আগে আর্জেন্টিনার ভাইস প্রেসিডেন্ট ভিক্টোরিয়া ভিয়াররুয়েল ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটিকে ‘দখলদারদের তাদের জায়গা দেখিয়ে দেওয়ার লড়াই’ বলে মন্তব্য করেছিলেন, যা নিয়েও বিতর্ক সৃষ্টি হয়।

এর আগে শেষ ষোলোতে মিশরকে হারানোর পরও আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের ফকল্যান্ড, ডিয়েগো ম্যারাডোনা ও লিওনেল মেসিকে নিয়ে স্লোগান দিতে দেখা যায়।

তবে সেমিফাইনালের আগে সংবাদ সম্মেলনে আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি স্পষ্টভাবে বলেন, তিনি ফুটবলকে রাজনীতির সাথে মেলাতে চান না।

ফকল্যান্ড ইস্যুর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের কারণে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড সেমিফাইনালকে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও ছিল অন্যবারের তুলনায় কঠোর।