ইতিহাস গড়লো ডি আর কঙ্গো। ৫২ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরেই বাজিমাত করলো দলটা। প্রথম ম্যাচেই তারা আটকে দিল সাবেক ইউরো চ্যাম্পিয়ন পর্তুগালকে।
যদিও জয় পায়নি আফ্রিকান দেশটি, তবে জিততে দেয়নি পর্তুগালকেও। টেক্সাসে বুধবার রাতে ১-১ সমতায় শেষ হয়েছে দুই দলের লড়াই।
এবারের বিশ্বকাপের শুরুতেই জ্বলে উঠেছেন আলোচিত তারকারা। জোড়া গোল পেয়েছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে, আর্লিং হলান্ডরা। লিওনেল মেসি তো পেয়েছেন স্বপ্নের হ্যাটট্রিকটাও।
ফলে সবার চোখ ছিল এই ম্যাচে, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো কী করেন তা দেখতে। তবে প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছেন ‘সিআর সেভেন’। গোল পাননি তিনি, পারেননি মনে রাখার মতো কিছু করতে।
রোনালদো নিস্প্রভ থাকার দিনে জিততে পারেনি পর্তুগালও। তাদের রুখে দিয়েছে ১৯৭৪ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপে আসা ডি আর কঙ্গো। সে সাথে দলটা গড়েছে নতুন ইতিহাসও।
সেই বিশ্বকাপে ৩ ম্যাচ খেলে কোনো পয়েন্ট তো দূর, একটা গোলও পায়নি কঙ্গো। এবারে মাঠে নেমেই সেই অপেক্ষার অবসান করেছে দলটা। তাদের ইতিহাসের প্রথম গোলদাতা ইওয়ান উইসা।
প্রথমার্ধে যোগ করা সময়ের ৫ মিনিটে ডান প্রান্ত থেকে উড়ে আসা ক্রসে হেডে গোল করেন উইসা। তাকে ক্রসটি দেন আর্থার মাসুয়াকু। অবিশ্বাস্য উপলক্ষ পায় ডি আর কঙ্গো।
এর আগে অবশ্য ম্যাচের শুরুতেই এগিয়ে যায় পর্তুগাল। ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ষষ্ঠ মিনিটেই দলকে গোল এনে দেন জোয়াও নেভেস। নেতোর পাস ধরে দারুণ গোলটি করেন তিনি।
এরপর ডিআর কঙ্গো প্রথমার্ধের শেষে সমতায় ফিরলে বড় ধাক্কা খায় পর্তুগাল।।এরপর অবশ্য ৫৫ মিনিটে জালের দেখা পান জোয়াও ক্যানসেলো। কিন্তু তা অফসাইডে বাতিল হয়।
এরপর গোলের খোঁজে মরিয়া হয়ে চেষ্টা চালিয়ে যায় পর্তুগাল। দুই একবার কাছাকাছি গেলেও মেলেনি গোল। তবে সবচেয়ে বেশি হতাশ করেন রোনালদো।
দ্বিতীয় ফুটবলার হিসেবে ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলার কীর্তি গড়ার দিনে তেমন কিছুই করতে পারেননি তিনি৷ ম্যাচের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত খেলেও খুঁজে পাওয়া গেল না তাকে।
মাঠে নামার আগে পর্তুগালের কোচ হওয়ার পর রবার্তো মার্তিনেজ় ঘোষণা করেছিলেন, তার দল সাজানো হবে রোনালদোকে ঘিরেই। তাই ৪১ বছর বয়সী তারকাকে দেয়া হয় অধিনায়কের আর্মব্যান্ডও।
কিন্তু তার মান ধরে রাখতে পারেননি রোনালদো। এখন দেখার বিষয় টুর্নামেন্টের বাকি ম্যাচগুলোয় তিনি আলো কাড়তে পারেন কিনা।



