এবারের বিশ্বকাপ জেতার আগেই আর্জেন্টিনা ইতিহাস গড়েছে : স্কালোনি

স্পেনের বিপক্ষে বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি প্রতিপক্ষকে সমীহ করে জানিয়েছেন, ৩৯ বছর বয়সে মেসির পুনরায় ফাইনালে ওঠা যেমন অবিশ্বাস্য, তেমনি ট্রফি জয় বা হার নির্বিশেষে বর্তমান স্কোয়াডটি ইতোমধ্যে ফুটবল ইতিহাস গড়েছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি
আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি |সংগৃহীত

আর মাত্র একটি ম্যাচ। জিতলে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ, হারলে শেষ হবে রাজত্বের অবসান। কিন্তু এমন মুহূর্তেও আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনির কণ্ঠে ছিল না কোনো উদ্বেগ। ছিল প্রতিপক্ষের প্রতি শ্রদ্ধা ও নিজের দলের প্রতি অগাধ আস্থা।

রোববার নিউ জার্সিতে স্পেনের বিপক্ষে বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে সংবাদ সম্মেলনে স্কালোনি দু’দলকেই সেরা দাবি করে বলেন, ‘আমার বিশ্বাস, যে দু’টি দল ফাইনালে থাকার যোগ্য, তারাই এখানে এসেছে।’

স্পেনের অভিজ্ঞতাকে মোটেও হালকাভাবে নিচ্ছেন না স্কালোনি। ইউরো ও উয়েফা নেশনস লিগ জয়ী দলটির বড় ম্যাচের অভিজ্ঞতাই তাদের অন্যতম শক্তি বলে মনে করেন তিনি।

‘তাদের দলে এমন অনেক খেলোয়াড় আছে, যারা বড় বড় মঞ্চে খেলেছে। বল গড়াতে শুরু করলে চাপের কথা কেউ ভাবে না, সবাই শুধু খেলায় মনোযোগ দেয়। আমি মনে করি না এটি তাদের জন্য কোনো অসুবিধা। বরং তারা ইউরো ও নেশনস লিগের ফাইনাল খেলার অভিজ্ঞতা নিয়ে আসছে।’

স্পেনকে নিয়ে আর্জেন্টিনার প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে অনেক আগেই। স্কালোনি জানান, মার্চে হওয়ার কথা থাকা ফিনালিসিমার সম্ভাবনা থেকেই তারা স্পেনকে বিশ্লেষণ করতে শুরু করেছিলেন।

‘গত ডিসেম্বর থেকেই আমরা তাদের খেলা দেখছি। তারা কিভাবে খেলে, তাদের শক্তির জায়গা কোথায়- সবই জানি। তবে অতিরিক্ত বিশ্লেষণও ভালো নয়। আমাদের লক্ষ্য থাকবে, যেন তারা নিজেদের শক্তিগুলো কাজে লাগাতে না পারে।’

বিশ্বকাপজুড়ে আর্জেন্টিনার সমর্থকদের কথাও আবেগ নিয়ে তুলে ধরেন স্কালোনি। তার মতে, জাতীয় দল আবারো পুরো দেশকে এক সুতোয় গেঁথে ফেলেছে। ‘আপনি যখন দেখেন, পুরো দেশ একসাথে উদযাপন করছে, তখন সেটা হৃদয় ছুঁয়ে যায়।’

তিনি বলেন, ‘(আর্জেন্টিনা) জাতীয় দল শেষ পর্যন্ত নিজেদের মানুষের জন্যই খেলে। নিউয়েলসের সমর্থক সেন্ট্রালের সমর্থককে জড়িয়ে ধরছে, সবাই আর্জেন্টিনার জন্য চিৎকার করছে। এমন দৃশ্য আবেগাপ্লুত না করে পারে না। আমরা বিশ্বাস করি, এই ঐক্যই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।’

সংবাদ সম্মেলনের বড় একটি অংশজুড়েই ছিল লিওনেল মেসিকে নিয়ে আলোচনা। ৩৯ বছর বয়সে আরেকটি বিশ্বকাপ ফাইনালে ওঠাকে অবিশ্বাস্য অর্জন বলে মনে করেন স্কালোনি।

তিনি বলেন, ‘মেসি নিজেই ইতিহাস। ৩৯ বছর বয়সে সে যে পর্যায়ের ফুটবল খেলছে ও আবারো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে, সেটি অবিশ্বাস্য। তাই আমি সবসময় বলি, আমাদের তাকে উপভোগ করা উচিত। সে আমাদের সাথে আছে, এটাই আমাদের সৌভাগ্য।’

তবে সব কৃতিত্ব শুধু মেসিকে দিতে রাজি নন স্কালোনি। তার মতে, পুরো দলই গত কয়েক বছরে এমন এক যাত্রার অংশ। ‘মেসি একজন কিংবদন্তি। কিন্তু তার সাথে এই খেলোয়াড়দের দলও আমাদের অসাধারণ কিছু বছর উপহার দিয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘এখানে পৌঁছানো এবং এত বছর ধরে একই মান ধরে রাখা মোটেও সহজ নয়। গতকালও আমি খেলোয়াড়দের বলেছি, কোচিং স্টাফ তাদের কাছে চিরকৃতজ্ঞ। কারণ তারা যা করেছে, তা অসাধারণ। এমনকি যদি আমরা বিশ্বকাপ জিততেও না পারি, তবুও এই যাত্রা অবিশ্বাস্য। এই দল ইতোমধ্যেই ইতিহাস গড়েছে। তারা সবার জন্য একটি উদাহরণ। আশা করি, আমাদের দেশের জন্যও এটি দীর্ঘদিন অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।’